১০ টাকার চাল নিয়ে চালবাজির অভিযোগে কাশিমাড়ি ইউপি চেয়ারম্যানের বহিষ্কারের দাবিতে মেম্বরদের সংবাদ সম্মেলন


474 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
১০ টাকার চাল নিয়ে চালবাজির অভিযোগে কাশিমাড়ি ইউপি চেয়ারম্যানের বহিষ্কারের দাবিতে মেম্বরদের সংবাদ সম্মেলন
নভেম্বর ৮, ২০১৬ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার :

কাশিমাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হাই। ভাগ্যবান অধ্যক্ষ বটে। তাইতো সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকার চালের কার্ড পেয়েছেন তিনি। তার কার্ড নম্বর- ১২০৩।  শুধু আব্দুল হাই নয়, এই কার্ড পেয়েছেন কাশিমাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম আব্দুর রউফের ভাই ঘের ব্যবসায়ী হান্নান, সদ্য অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য শাজাহান ও  ঘের ব্যবসায়ী হুমাউন।

এছাড়া অসংখ্য নাশকতা মামলার আসামি, কোটিপতির ছেলে আক্তার ফারুকের স্ত্রী শামিমা আক্তার রানীকেও দেওয়া হয়েছে কার্ড। এভাবেই সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকার চাল নিয়ে দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে চালবাজি করেছেন,

স্বাধীনতা যুদ্ধে বিরোধীতাকারী পিচ কমিটির সদস্য মৃত আতিয়ার রহমানের ছেলে ও যুদ্ধাপরাধী মাওলানা দেলোওয়ার হুসাইন সাঈদীর পালিত ছেলে বলে পরিচয় দেওয়া সাতক্ষীরার শ্যামনগরের কাশিমাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম আব্দুর রউফ।

মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে কাশিমাড়ি ইউপির চারজন মেম্বর চেয়ারম্যান এসএম আব্দুর রউফের বিরুদ্ধে উল্লিখিত তথ্যগুলো তুলে ধরে ১০ টাকার চালের কার্ডধারীদের তালিকা তৈরিতে সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ করেছেন। এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কাশিমাড়ির ৭নং ওয়ার্ড সদস্য শাহাবাজ আলী।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, কাশিমাড়ি ইউনিয়নে দুস্থদের বাদ দিয়ে ধনী, সম্পদশালী, চাকরিজীবী ও চেয়ারম্যানের আত্মীয়স্বজনদের ১০ টাকার চালের কার্ড দেওয়া হয়েছে। এই তালিকা যেমন অরসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার নাম রয়েছে, তেমনি নাশকতা মামলার আসামি, বন্দুকযুদ্ধে নিহতের স্ত্রীকেও কার্ড দেওয়া হয়েছে। বাদ যায়নি চেয়ারম্যানের ভাই, ভগ্নিপতিরাও।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলা হয়, কাশিমাড়ি ইউনিয়নের ছয় থেকে সাতশ ধনী মানুষ ১০ টাকার চাউলের কার্ড পেয়েছেন। অসংখ্য ভুয়া কার্ডও রয়েছে। ওইসব ভুয়া কার্ডের চাল উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়। নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের চারজন ইউপি সদস্যকেও পরিষদের সকল কাজ থেকে দূরে সরিয়ে রাখেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ গত ঈদ-উল-ফিতরে দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত ৬৬৮০ ইউনিট চাউলের মধ্যে চার হাজার ইউনিট বিতরণ করেছেন। একই সময় প্রতি ইউনিটে ২০ কেজির পরিবর্তে চাল দিয়েছেন ১২ থেকে ১৩ কেজি করে।

বাকী চাল আত্মসাৎ করা হয়েছে। ঈদ-উল-আযহায় ৩৭০০ ইউনিটে ১০ কেজি করে চাউল বিতরণের ক্ষেত্রে দেওয়া হয়েছে ৫ থেকে ৬ কেজি করে। এসব কাজে তাকে সহযোগিতা করেছে জামায়াতের রোকন সংরক্ষিত মহিলা মেম্বর রওশন আরা বিথি।

সংবাদ সম্মেলনে দুর্নীীতবাজ ইউপি চেয়ারম্যান এসএম আব্দুর রউফের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে তাকে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়েছে। উপস্থিত ছিলেন, কাশিমাড়ির ৮নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুস সবুর মোল্লা, মহিলা সদস্য পাপিয়া হক ও মহিলা সদস্য সীতা রানী বৈদ্য।

এদিকে, এ ব্যাপারে কাশিমাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান এসএম আব্দুর রউফের সাথে মোবাইলে (০১৭১৫৮৩৩৩০৮) যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

##