১০ নং সেক্টর নৌ-বাহিনীর ইতিহাস


658 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
১০ নং সেক্টর নৌ-বাহিনীর ইতিহাস
এপ্রিল ৩, ২০১৭ ইতিহাস ঐতিহ্য ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

মীর রিয়াছাদ আলী :
পলাশীতে ফ্রান্স থেকে আগত কিছু সাব-মেরিনার ও স্টুডেন্টস্ সহ প্রায় ৩৫০ জনকে নিয়ে নৌ-কমান্ডো গঠিত হয়েছিল। আর বশিরহাটের হাসনাবাদে ৪ জুলাই আমাকে ১৪ টি স্পিট বোট ও ই.পি.আর এর দুইটি পেট্টোল বোট যার একটি নাম শক্তি ও অপরটির নাম স্মরণ নাই। আমাকে ইন্ডিয়ান নেভীর লে. দত্ত অভ্যর্থনা করে একটি আরলি গান শক্তি বোটে লাগিয়ে দিয়ে হ্যান্ডওভার করে চলে গিয়েছিলেন। এবং কলকাতার আই.এন.এস হুগলিতে কিছু নৌ-সেনারা দুইটি টাগ বোট এর উপরে সিংঙ্গেল বরফ গান লাগিয়ে  গান বোট বানিয়ে ছিল। সে সময়ে আমি বাংলাদেশ রেডিওতে প্রচার করেছিল যে, সকল নৌ-বাহিনীর লোক ১০ নং সেক্টর  বশিরহাটের হাসনাবাদে বাংলাদেশ নেভেল বেজে রিপোর্ট করুন। প্রচার মোতাবেক সকল নৌ-বাহিনীর সদস্যরা রিপোর্ট করার জন্য একে একে আসতে থাকে। সে সময় এম.বি এর আলম Mech – 11 বানারী পাড়া, আমার সাথে কাজ করতেন। সেখানে Communication P.o Gazi এধুর লিডিং ঝবধসবহ  আবু সাঈদও থাকতেন। তখন নৌ-বাহিনীর দায়িত্ব নিয়েছিল কাপ্টেন রাজা । দায়িত্ব নেওয়ার পর কাপ্টেন রাজা সহ ১২ জনের একটি দল নৌকাযোগে আঠারোবেকী, বড়দল হয়ে খুলনার বটিয়াঘাটা অপারেশনে যাওয়ার পথে বাঁধা পড়েছিল জায়গীর মহলের কাছে। সেখানে জোরে জোরে চেচিয়ে একজন লোক বলছে আপনারা ও দিকে যাবেন না, আর্মি আছে। নৌকা ভিড়ান। সে সময় খিজির হালে ছিল। তখন কাপ্টেন রাজা বলেছিলেন, খিজির নৌকা ভিড়াও। নৌকা কাছে ভিড়ালে ভেঁড়ি বাঁধের উপরে থাকা বহু লোকের মধ্যে দুই জন লোক নৌকার কাছে এসেছিল। লুট করাই তাদের উদ্দেশ্য ছিল । তখন তারা বুঝতে পেরেছিল যে, এই পথেই এরা শরণার্থীদের কাছ থেকে সব ছিনিয়ে নিত। ফলে তারা নিস্ব হয়ে ইন্ডিয়ায় চলে যেতো। নৌকার মুখের কাছে লুটেরা দেখে পালিয়ে ডাওয়ার চেষ্ঠা করেছিল। কিন্তু সে সময় আকবর ও খিজির তাদের দুইজনকে ধরে নিয়ে এসেছিল বোট এর কাছে। তখন নদীর ধারে ভেঁড়ি বাঁধের উপওে লুটের লোক বসে ছিল। তারা দেখছিল, নৌবাহিনীর লোক কি করে । হঠাৎ তারা কান্নার শব্দ শুনতে পেল । কারণ নৌবাহিনীর দায়িত্বরত প্রতিনিধি মীর রিয়াছাত আলী লুটকারী দুইজনের হাত নৌকার গোলুয়ের উপর রেখে বেয়নেট দিয়ে দুজনের আঙ্গুল এক কোপে কেটে নিয়ে নৌকার মধ্যে তুলে নিয়েছিল। এবং নৌকা পুনরায় চালানোর জন্য খিজিরকে নির্দেশ দিয়েছিল। খিজির নৌকা চালাচ্ছে তো চালাচ্ছে। তারপর বড়দলের কাছে এসে সমস্ত অস্ত্র দেখিয়ে রাতের অন্ধকারে লুটকারী দুইজনকে ছেড়ে দিয়েছিল। এবং আবারও বলা হয়েছিল, মুক্তিবাহিনী  এসেছে এ রাস্তা পরিষ্কার চাই। এরপর এ রাস্তায় আর কোন বাঁধার সম্মুখীন হতে হয় নি। নৌবাহিনীর প্রতিনিধিরা নির্দিষ্ট ঙঢ়বৎধঃরড়হ ঝঁপপবংংভঁষ  করে ইধংব  এ ফিরে গিয়েছিল।
আগস্ট মাসে হঠাৎ কাপ্টেন রাজার আবার ডাক পড়েছিল। ঘধাধষ ইধংব এর সামনে একটা জিপ গাড়িতে কাপ্টেন রাজা কে কোন কিছু না বলে উঠিয়ে নেয়ে গিয়েছিল। তখন কাপ্টেন রাজা বলেছিল, আপনারা আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন। তারা বলেছিল, আমরা যেখানে নিয়ে যাচ্ছি সেখানে পৌঁছানোর পর আপনাকে সব কিছু ব্রিফ করা হবে।
এম.বি আলম বললেন, যাওয়ার দিন বর্ডারে দেখা হবে। তারপর আমাদের মংলার জাহাজ অপারেশনে চালনা, মংলা, বরিশাল, চাঁদপুর, ও চট্টগ্রাম র্পোটে একই দিনে একই সাথে একটা মিউজিকের সাথে সাথে অপারেশন হবে। তখন ক্যাপ্টেন রাজার দায়িত্ব পড়ল মংলা ও চালনা বন্দর। আর ১৪ আগষ্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসের দিন দিবাগত রাত্রে অর্থাৎ ১৫ আগষ্ট ভোর ৩ টা ৩০ মিনিটে অপারেশনের সময় পলাশী থেকে আগত ৬০ জন ট্রেন্ড নৌ-কমান্ডো, খিজির, আকবর, আফজালসহ আরও তিন চার জনের সাথে আমার দেখা হয়েছিল। তারপর আমি সহ মোট ৬৮ জন ৪ টি সম্পূর্ণ নতুন নৌকাযোগে ৬০ টি খধসঢ়বফ সরহব (এগুরো বস্তুত ট্যাঙ্ক বিধংসী মাইন) দুইটা এল.এম.জি ৬টা রাইফেল, ২ টা স্টেনগান ও প্রচুর গুলি নিয়ে আমরা মংলার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলাম। তবে দুভার্গ্য ¯্রােত পরিবর্তন হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ভোর ৫ টায় ¯্রােত পরিবর্তন হয়। আর ¯্রােত পরিবর্তনের সাথে সাথে যার যার জাহাজে যাওয়ার জন্য আমি সবাইকে হুকুম দেই এবং তীরে ৮ জন গুলি লোড করে পজিশন নিয়ে দাঁড়িয়েছিল। অত:পর জাহাজের দুই দিকে ৫ টি করে প্রত্যেক জাহাজে ১০ টা মাইন লাগিয়ে আধা ঘন্টার মধ্যে সবাই তীরে ফিরে এসেছিল। আর টাইম সেট দেওয়া ছিল আধা ঘন্টা অর্থাৎ তীরে ফেরার সাথে সাথে মাইন ফাটা শুরু হয়ে গেল। তারপর আমি নৌ-কমান্ডোদের সবাইকে খেজুরিয়া গ্রামে বিভিন্ন বাড়িতে থাকার জন্য নৌকাযোগে পাঠিয়ে দিয়ে, আমি প্রতিরোধের জন্য গান বোটের অপেক্ষায় বসেছিলাম। তারপর খেজুরিয়াতে মুক্তিবাহিনীর একটি শক্তিশালী ঘাটি বানিয়ে খিজির এর হাতে দায়িত্ব দিয়ে সমস্ত অস্ত্র রেখে বাকী ৫৩ জন নৌ-কমান্ডোসহ আমি ফিরে গেলাম নওয়াবেকী হয়ে হরিনগর মুন্সিগজ্ঞে। ঐ দিন সবাই রাতে চেয়ারম্যান আবুর কাশেমের বাড়িতে ছিল এবং তিনি সকলের রাতে খাওয়ার ব্যবস্থা করেছিল। ভোরে তিনি নিজেই তাদের শমসের নগরে পোৗঁছে দিতে গিয়েছিল। অত:পর সাতক্ষীরার খধহফ পঁংঃড়স ধহফ পবহঃৎধষ বীপরংব রহংঢ়বপঃড়ৎ এর ছেলে খসরু ও পাইকগাছার মহাসিন আমাকে জানায় রবি ও রহমতউল্লাহ (দাদু) টহফবৎ ধৎৎবংঃ আছে। আমি নির্দিষ্ট দিনে শমসের নগরে পৌঁছে ঈড়সসধহফবৎ ঝঁসড়হঃ কে রবি ও রহমতউল্লাহ (দাদু) কে ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলাম । আমার কথা ঈড়সসধহফবৎ ঝঁসড়হঃ রেখেছিল। তারপর বেজ এ পৌঁছানোর সাথে সাথে ফোর্ট উইলিয়াম থেকে ক্যাপ্টেন রাজার ডাক এসেছিল। সেখানে যাওয়ার পর তারা ক্যাপ্টেন রাজারকে অভিনন্দন জানিয়েছিল।