১০ যুবলীগ নেতাকর্মীকে পেটালেন তাহেরপুত্র


134 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
১০ যুবলীগ নেতাকর্মীকে পেটালেন তাহেরপুত্র
সেপ্টেম্বর ২২, ২০২১ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

লক্ষ্মীপুর জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা

অনলাইন ডেস্ক ::

লক্ষ্মীপুর জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা উপলক্ষে কেন্দ্রীয় নেতাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে অপেক্ষা করার সময় ১০ নেতাকর্মীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। খোদ জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সালাহ উদ্দিন টিপু ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে এ হামলার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার বাঘবাড়ী গণকবর ও জেলেপল্লি এলাকার সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
সালাহ উদ্দিন লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের আলোচিত সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তাহেরের ছেলে। তবে সালাহ উদ্দিন মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
আহতরা সবাই সদর উপজেলা যুবলীগের প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ইউনুছ হাওলাদার রুপম ও তার অনুসারী। হামলার সময় বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রীসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের ছবি সংবলিত ফেস্টুন-ব্যানার ভাঙচুর ও বিনষ্ট করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
দলীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল দুপুরে শহরের সোনার বাংলা চায়নিজ রেস্টুরেন্টে প্রায় চার বছর পর প্রথম জেলা যুবলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির বর্ধিত সভা হওয়ার কথা ছিল। সেখানে অংশ নেওয়ার কথা ছিল কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হাবিবুর রহমান পবন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম, উপ-পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক শামছুল ইসলাম পাটোয়ারী, সহসম্পাদক অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন রিগ্যানসহ দলের নেতাদের। কেন্দ্রীয় নেতাদের ঢাকা থেকে দুপুরে রামগঞ্জ হয়ে লক্ষ্মীপুরে আসার সূচি নির্ধারিত ছিল। এ জন্য অন্তত ১০ সাবেক যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা কেন্দ্রীয় নেতাদের শুভেচ্ছা জানাতে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে রামগঞ্জ-লক্ষ্মীপুর সড়কের পাশে দাঁড়ান। এ সময় যুবলীগ সভাপতি সালাহ উদ্দিনের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়।
জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ইউনুছ হাওলাদার রুপম অভিযোগ করেন, দুপুর ১২টার দিকে তিনি পাঁচ হাজার নেতাকর্মী নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার বাঘবাড়ী গণকবর এলাকায় দাঁড়িয়েছিলেন। সেখানে হঠাৎ সালাহ উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল যুবক মোটরসাইকেলে এসে পরিকল্পিতভাবে হামলা করে। সালাহ উদ্দিন লাঠি নিয়ে তার কর্মীদের এলোপাতাড়ি
পেটাতে থাকলে এগিয়ে যান। এ সময় তিনি তাকেও লাঠিপেটা করেন। এতে তিনি, যুবলীগের সভাপতি পদপ্রত্যাশী ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ নুরুল আজিম বাবরসহ ১০ নেতাকর্মী আহত হন।
এ অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা যুবলীগের সভাপতি এ কে এম সালাহ উদ্দিন টিপু বলেন, রুপম তার লোকজন নিয়ে সড়ক অবরোধ করায় তাদের সরে যেতে বলা হয়। এ নিয়ে বাবর ও রুপমের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছে। কাউকে মারধর করা হয়নি।
লক্ষ্মীপুর মডেল থানার ওসি জসিম উদ্দিন বলেন, মারধরের বিষয়টি জানতাম না। তবে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতাদের শুভেচ্ছা জানাতে রুপম তার লোকজন নিয়ে সড়ক অবরোধ করলে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তাদের সরে যেতে বলেন। এ সময় তাদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে।
হামলায় আহত যুবলীগ নেতাকর্মীদের দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় নেতারা। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দলীয় নেতাকর্মীদের দেখতে যান সংঠনটির প্রেসিডিয়াম সদস্য হাবিবুর রহমান পবন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ নাইম, উপ-পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক শামছুল ইসলাম পাটোয়ারীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। এ সময় তাদের প্রতি সমবেদনা জানান তারা। এদিকে, বর্ধিত সভায় গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশে বাধার মধ্য দিয়ে বিকেলে শুরু হওয়া সভা শেষ হয় রাত সাড়ে ৮টায়।
২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর সালাহ উদ্দিনকে সভাপতি ও আবদুল্লাহ আল নোমানকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন বছরের জন্য কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর নানা বিতর্কে পূর্ণাঙ্গ কমিটি আলোর মুখ দেখেনি।