১১ এমপির আ’লীগে যোগদান প্রশ্নবিদ্ধ !


450 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
১১ এমপির আ’লীগে যোগদান প্রশ্নবিদ্ধ !
মে ১০, ২০১৭ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::
এগারো স্বতন্ত্র এমপির আওয়ামী লীগে যোগদানের আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংবিধান ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী স্বতন্ত্র এমপিরা কোনো দলে যোগ দিতে পারবেন কি-না, তা খতিয়ে দেখছেন সংসদ সচিবালয়ের আইন শাখার কর্মকর্তারা। যদিও স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, কোনো স্বতন্ত্র এমপি কোনো দলে যোগদান করেছেন_ এমন তথ্য তার কাছে নেই। কোনো এমপি বা দলের পক্ষ থেকে তাকে এমন কিছুই জানানো হয়নি। এমনকি চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজও ১১ এমপির যোগদানের বিষয়টি এখন আর নিশ্চিত করছেন না। যোগ দেওয়া এমপির একাধিকজনকে ফোন দিলে তারা ফোন ধরেননি।

গত রোববার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় ১১ স্বতন্ত্র এমপি অংশ নেন। এর আগেই চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ ও সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদের উদৃব্দতি দিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে ১১ স্বতন্ত্র এমপির আওয়ামী লীগে যোগদানের খবর প্রকাশিত হয়।

সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণত স্বতন্ত্র এমপিরা দলে যোগ দিতে চাইলে সংশ্লিষ্ট এমপি এবং যে দলে যোগ দিচ্ছেন, ওই দল থেকে স্পিকারকে চিঠি দিয়ে অবহিত করা হয়ে থাকে। কিন্তু এবারের ক্ষেত্রে সে রকম কিছু করা হয়নি। স্পিকারের কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী স্বতন্ত্র এমপিরা রাজনৈতিক দলের এমপি হিসেবে পরিচিত হতে পারবেন কি-না, তা নিয়ে আইনি জটিলতা রয়েছে। আইনের বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখনও চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। গতকাল রাতে এ বিষয়ে চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ সমকালকে বলেন, ১১ এমপি আওয়ামী লীগ যোগ দিয়েছেন_ এটা না বলে

সংসদীয় দলের সভায় অংশ নিয়েছেন, এটা বলাই ভালো। স্বতন্ত্র এমপিদের দলে যোগ দিতে আইনি জটিলতার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে হয়তো তাদের দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। তা ছাড়া ১১ স্বতন্ত্র এমপি আগে থেকেই আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের পদে রয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করলেও পরে দলীয় সভায় তাদের সবাইকে ‘সাধারণ ক্ষমা’ ঘোষণা করা হয়েছে। চিফ হুইপ আরও বলেন, অতীতে স্বতন্ত্র এমপিদের দলে যোগ দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। ১৯৮৬ সালে স্বতন্ত্র এমপি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে নিজেও আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন বলে জানান আ স ম ফিরোজ।

সংসদ সচিবালয়ের আইন শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর আগে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে স্বতন্ত্র এমপিদের দলে যোগ দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ ছিল। বাহাত্তরের সংবিধান পুনঃপ্রবর্তনের পর ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন হয়েছে। এখন এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা সংবিধানে উল্লেখ নেই। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের আইন শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২(১)(খ) অনুযায়ী জাতীয় সংসদের প্রার্থী হতে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কর্তৃক মনোনীত অথবা স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসংবলিত সই বাধ্যতামূলক।

২০১১ সালের ৩০ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বিল পাস হয় এবং ২০০৮ সালে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক সই বাধ্যতামূলকের বিধান যুক্ত করা হয়। দশম সংসদ নির্বাচনে ১৬ সংসদ সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া স্বতন্ত্র এমপিরা হলেন_ গাইবান্ধা-৪ আসনের আবুল কালাম আজাদ, নওগাঁ-৩ আসনের ছলিম উদ্দিন তরফদার, কুষ্টিয়া-১ আসনের রেজাউল করিম চৌধুরী, ঝিনাইদহ-২ আসনের তাহজীব আলম সিদ্দিকী, যশোর-৫ আসনের স্বপন ভট্টাচার্য, ঢাকা-৭ আসনের হাজি মো. সেলিম, নরসিংদী-২ আসনের কামরুল আশরাফ খান, নরসিংদী-৩ আসনের সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, মৌলভীবাজার-২ আসনের আবদুল মতিন, কুমিল্লা-৩ আসনের ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন ও কুমিল্লা-৪ আসনের রাজী মোহাম্মদ ফখরুল।

স্বতন্ত্র অন্য পাঁচ এমপি হলেন মেহেরপুর-২ আসনের মকবুল হোসেন, পিরোজপুর-৩ আসনের রুস্তম আলী ফরাজী, ফরিদপুর-৪ আসনের মজিবুর রহমান চৌধুরী, ফেনী-৩ আসনের রহিমউল্লাহ ও রাঙামাটির ঊষাতন তালুকদার।

জাতীয় সংসদের একজন কর্মকর্তা জানান, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনের পরপর স্বতন্ত্র এমপিদের অনেকেই আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করেছিলেন। পরে তারা হাজি সেলিম এমপির নেতৃত্বে ১৬ স্বতন্ত্র এমপিকে নিয়ে একটি জোট গঠন করেন। তাদের এই জোটের সমর্থনে আনুপাতিক হারে সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনও বণ্টন করা হয়। যার অংশ হিসেবে সংরক্ষিত নারী আসন-৪১ কাজী রোজী, নারী আসন-৪২ নূরজাহান বেগম ও নারী আসন-৪৩ উম্মে রাজিয়া কাজল মনোনীত এমপি হন। যদিও এই তিন নারী সংসদ সদস্য অনেক আগেই আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, স্বতন্ত্র এমপিদের জোট না থাকলে এই তিন এমপির কীভাবে তাদের মনোনীত এমপি হবেন, সেটাই স্পষ্ট নয়।

সূএ: সমকাল