২০০ পাকিস্তানি ‘যুদ্ধাপরাধীর তালিকা’ দিলেন শাজাহান খান


312 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
২০০ পাকিস্তানি ‘যুদ্ধাপরাধীর তালিকা’ দিলেন শাজাহান খান
ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৬ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
একাত্তরে পাকিস্তানি সৈন্যদের মধ্যে যারা যুদ্ধাপরাধ ঘটিয়েছে, তাদের একটি তালিকা দিয়েছে ‘আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলন’।

একাত্তরে বাংলাদেশি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও দণ্ড কার্যকরের মধ্যে গড়ে ওঠা সংগঠনটির আহ্বায়ক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান মঙ্গলবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে ২০০ জনের এই তালিকা তুলে ধরেন।

বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে পাকিস্তানের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশের পর পাকিস্তানি সৈন্যদের বিচারের দাবিও জোরাল হয়ে উঠেছে।

এরপরই পাকিস্তানি সৈন্যদের গণবিচারের উদ্যোগ নিয়ে শাজাহান খানের নেতৃত্বে নামে ‘আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলন’।

একাত্তরে ১৯৫ জন পাকিস্তানি সৈন্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এলেও তালিকায় তার চেয়ে পাঁচজন বেশি থাকার ব্যাখ্যাও দেন শাজাহান খান।

তিনি বলেন, “১৯৫ জনের তালিকা প্রকাশ করার কথা থাকলেও নতুন পাঁচজনের তথ্য পাওয়ায় ২০০ জনের তালিকা করা হয়েছে।”

এরকম আরও তথ্য আসছে দাবি করে এই মন্ত্রী বলেন, “সেগুলো যাচাই-বাছাই করে ভবিষ্যতে আরও তালিকা প্রকাশ করা হবে।”

প্রকাশিত তালিকার ৬৮ জনের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের নীলনকশা প্রণয়ন ও পরিকণ্পনা বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

জেনেভা কনভেনশনসহ আন্তর্জাতিক সব যুদ্ধনীতি লঙ্ঘন করে সরাসরি গণহত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগে অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে ১১৮ জনের বিরুদ্ধে। ১৪ জনের বিরুদ্ধে ব্যাপক হারে গণহত্যায় অংশ নেওয়ায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এই তালিকার একজন লেফটেন্যান্ট জেনারেল, পাঁচজন মেজর জেনারেল, পাঁচজন কর্নেল, ২০ জন ব্রিগেডিয়ার, ৩৯ জন লেফটেন্যান্ট কর্নেল, ৪৫ জন ক্যাপ্টেন, ৮১ জন মেজর, দুজন লেফটেন্যান্ট, তিনজন বিমানবাহিনীর ও তিনজন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি জাতীয় সংসদে উত্থাপনের জন্য বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে মিছিল নিয়ে স্পিকারকে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে শাজাহান খানের সঙ্গে ছিলেন সাংবাদিক আবেদ খান, চলচ্চিত্র পরিচালক কাজী হায়াৎ, মুক্তিযোদ্ধা ইসমত কাদির গামা, অধ্যাপক আব্দুল মান্নান চৌধুরী, অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী প্রমুখ।

পাকিস্তানিদের গণবিচারের এই উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছে একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির নির্বাহী সভাপতি শাহরিয়ার কবির।