২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত শহিদদেরপ্রতি এমপি রবির শ্রদ্ধাঞ্জলি


465 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত শহিদদেরপ্রতি এমপি রবির শ্রদ্ধাঞ্জলি
আগস্ট ২১, ২০১৮ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

 

মাহফিজুল ইসলাম আককাজ :
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত শহিদ সকল আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী দের প্রতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি এমপির বিন¤্র্র শ্রদ্ধাঞ্জলি। শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের ইতিহাসের আরেকটি কলঙ্কজনক ও রক্তাক্ত দিন ২১ আগস্ট। আজ ১৪ তম বছর। ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। ৩০ বছর পর সেই আগস্ট মাসেই বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা করা হয়। বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালে ২১ শে আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে নারকীয় এই গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বোমা-গ্রেনেড হামলা ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদে তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগ এক সমাবেশের আয়োজন করে। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ট্রাকের ওপর স্থাপিত মঞ্চে দাঁড়িয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্য শেষ করার পর পরই বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে অতর্কিতে চারিদিক থেকে গ্রেনেড এসে পড়তে থাকে। ওই সময় মঞ্চে উপবিষ্ট দলের জাতীয় নেতারা পরিস্থিতি বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে মানববর্ম রচনা করে সভাপতি শেখ হাসিনাকে রক্ষা করেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে সেদিন শুধু গ্রেনেড হামলাই চালানো হয়নি, তিনি যখন গাড়িতে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করছিলেন, তখনও তাকে লক্ষ্য করে গাড়িতে গুলি চালানো হয়েছিলো। সেই দিনের সেই চিত্র ছিল ইতিহাসের নারকীয় গঠনা গুলোর মধ্যে একটি। অল্পের জন্য যদি ও জননেত্রী শেখ হাসিনা রক্ষা পেয়েছিলেন কিন্তু চারিদিকে মানুষের রক্তে রঞ্জিত হয়ে গিয়েছিল সেই দিন বঙ্গবন্ধু এভিনিউ। চোখের সামনে এখনো ভেসে উঠে লাশের সারি, আহত মানুষের আত্তচিৎকার, একটু বেচে থাকার আকুতি। এই বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় ৪শ’ জন আহত হন। আহতদের অনেকেই চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন। তাদের কেউ কেউ আর স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাননি। এই বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় নিহতরা হলেন- সাবেক মরহুম রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান এর সহধর্মিনী আইভি রহমান, তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী ল্যান্স করপোরাল (অব.) মাহবুবুর রশীদ, আবুল কালাম আজাদ, রোজিনা বেগম, নাসির উদ্দিন সরদার, আতিক সরকার, আবদুল কুদ্দুস পাটোয়ারি, আমিনুল ইসলাম মোয়াজ্জেম, বেলাল হোসেন, মামুন মৃধা, রতন শিকদার, লিটন মুনশী, হাসিনা মমতাজ রিনা, সুফিয়া বেগম, রফিকুল ইসলাম (আদা চাচা). মোশতাক আহমেদ সেন্টু, মোহাম্মদ হানিফ, আবুল কাশেম, জাহেদ আলী, মোমেন আলী, এম শামসুদ্দিন এবং ইসাহাক মিয়া। মারাত্মক আহত হয়েছিলেন সেদিন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা, আমির হোসেন আমু, আব্দুর রাজ্জাক, সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, ওবায়দুল কাদের, এডভোকেট সাহারা খাতুন, মোহাম্মদ হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, নজরুল ইসলাম বাবু, আওলাদ হোসেন, সাঈদ খোকন, মাহবুবা আখতার, এডভোকেট উম্মে রাজিয়া কাজল, নাসিমা ফেরদৌস, শাহিদা তারেক দীপ্তি, রাশেদা আখতার রুমা, হামিদা খানম মনি, ইঞ্জিনিয়ার সেলিম, রুমা ইসলাম, কাজী মোয়াজ্জেম হোসেইন ও মামুন। আহত আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী-সমর্থকদের অনেকে এখনো স্পিটারের আঘাত নিয়ে ধুকে ধুকে জীবন কাটাচ্ছেন। সেদিন যারা আহত হয়েছিলেন তাদের অনেককেই সারা জীবন গ্রেনেডের স্পিন্টার বহন করে চলতে হবে । কেউ কেউ সারা জীবনের জন্য পঙ্গুত্ব নিয়েই বেঁচে আছেন।পরবর্তী সময়ে ঢাকার সাবেক মেয়র হানিফ, শরীরে অসংখ্য গ্রেনেড এর স্পিনটার নিয়ে জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গ্রেনেড হামলার পরে তৎকালীন খালেদা-নিজামী সরকারের কর্মকান্ড ছিল সন্দেহজনক। স্মরণ কালের সেই গ্রেনেড হামলার বিষয়ে তৎকালীন বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সময় স্বরাষ্ট প্রতি মন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের তত্ত্বাবধানে একটি তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় এবং এতে জজ মিয়া নামে এক ভবঘুরে, একজন ছাত্র, একজন আওয়ামী লীগের কর্মীসহ ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। খালেদা-নিজামীর অপকর্ম ঢাকতে। অথচ পরবর্তী তদন্তে তত্তাবধায়ক সরকারের সময়ে তাদের কারো বিরুদ্ধেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। খালেদা-নিজামীর তৎকালীন সরকার শুধু জজ মিয়া নাটকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। গ্রেনেড হামলার সকল আলামত নষ্ট করে দিয়েছিল যাতে করে ভবিষ্যতে আর এই গ্রেনেড হামলার কোনও আলামত খুজে পাওয়া না যায়। এর পর ২০১১ সালের ৩ জুলাই আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হয়। সম্পূরক এ চার্জশিট দাখিল করতে দুই বছরে ১৪ দফা সময় নেয়া হয়। এরপর সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দ পরবর্তীতে তদন্ত করেন। তিনি একই বছরের ৩ জুলাই গ্রেনেড হামলার হত্যা ও বিষ্ফোরকের পৃথক দুই মামলায় সিআইডির সম্পূরক অভিযোগপত্র (চাজশীট) দাখিল করেন। এতে করে এই মামলায় প্রথম এবং সম্পূরক চার্জশীটের মোট আসামি দাঁড়ায় ৫২ জনে। মামলাটি এখন দ্রুত বিচার আদালতে বিচারাধীন। চার্জশিটভুক্ত ৫২ আসামির মধ্যে রয়েছেন সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান, তার ভাই মফিজুর রহমান ওরফে অভি, আবুল কালাম আজাদ, শরিফ শহিদুল ইসলাম ওরফে বিপুল, মাওলানা আবু সাইদ ওরফে ডা. আবু জাফর, জাহাঙ্গীর আলম, মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন আহমেদ ওরফে তামীম, মুফতি মইন উদ্দিন শেখ ওরফে আবু জান্দাল, আরিফ হাসান ওরফে সুমন, রফিকুল ইসলাম গাজী ওরফে সবুজ, উজ্জ্বল ওরফে রতন ও শাহাদাত উল্লাহ জুয়েল। আসামিদের মধ্যে ৩৩ জন বর্তমানে কারাগারে আছেন। এদের মধ্যে একমাত্র জামিন পাওয়া আসামি হলেন ঢাকার সিটি করপোরেশনের ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুর রহমান আরিফ। সম্পুরক চার্জশীট দাখিলের সময় মোট ১৮ জন পলাতক ছিলেন। পরে ৬ পুলিশ কর্মকর্তা আদালতে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে গেলে পলাতক আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ১২ জনে। বিচারকার্য শেষ পর্যায়ে। যে কোনদিন মামলার রায় হবে। আসামীরা দৃষ্ট্রান্তমূলক শাস্তি পাবে এবং জাতি কলঙ্কমুক্ত হবে।