২৮৩ করোনা উপর্গধারীর নমুনা সংগ্রহ করে সম্মুখযোদ্ধার পরিচয় দিলেন রাশেদ বিল্লাহ


159 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
২৮৩ করোনা উপর্গধারীর নমুনা সংগ্রহ করে সম্মুখযোদ্ধার পরিচয় দিলেন রাশেদ বিল্লাহ
জুলাই ১১, ২০২০ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

সামিউল মনির ::

করোনা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকসহ সাধারন মানুষের পাশে দাড়ানোই এখন দুষ্কর। সামান্য জ্বর সর্দি কাশিসহ করোনার যেকোন ধরনের উপসর্গ দেখলেই সব শ্রেনী পেশার মানুষ প্রত্যেককে মারাত্বকভাবে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। সুরক্ষা সামগ্রী না থাকার অজুহাতে অনেক চিকিৎসক আর স্বাস্থ্য কর্মী পর্যন্ত উপসর্গধারী রোগী ধারে পাশে না যাওয়ার অজুহাত খুঁজছে।
তবে এক্ষেত্রে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যতিক্রমী ভূমিকা পালন করে সর্ব মহলে প্রসংশিত হয়েছেন মোঃ রাশেদ বিল্লাহ। গত ৬ জুলাই থেকে মাত্র সহকর্মী সফিকুল ইসলামকে নিয়ে তিনি গ্রামের পর গ্রাম ছুটে এসব রোগীদের নুমনা সংগ্রহ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাব এ্যাসিসট্যান্ট রাশেদ ৬ এপ্রিল থেকে পর্যন্ত ২৮৩ জন করোনা উপসর্গধারীর নুমনা সংগ্রহ করেছেন। গত ৯ জুলাই পর্যন্ত ২৮৩ জনের নমুনা সংগ্রহকারী এ ব্যক্তি এখন নিজেই সামান্য কিছু উপসর্গ নিয়ে নমুনা দেয়ার পর থেকে বাড়িতে কোরায়ারেন্টিনে রযেছেন।
প্রতিবেদকের সাথে আলাপচারিতায় তিনি জানান গত ৬ এপ্রিল থেকে তার নেতৃত্বে সফিকুল ইসলামসহ আরও দুই জন মিলে তারা উপজেলার বিভিন্ন বাড়ি বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ ওমর ফারক সাহেব তাকে সার্বক্ষনিক পরামর্শ দিয়ে সাহস যুগিয়েছেন বলেও তিনি জানান।
রাশেদ বিল্লালহ জানান শুরুতে বাড়ি বাড়ি যেয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হলেও পরবর্তীতে গত কয়েক সপ্তাহ হাসপাতালে নুমনা সংগ্রহ কার্যক্রম চালু করা হলেও মাঝে মধ্যে বাড়ি বাড়ি যেয়েও নুমনা নিতে হচ্ছে।
তবে ৯ জুলাই থেকে নিজেকে সামান্য কিছু উপসর্গ নিয়ে দুঃচিন্তায় রয়েছেন জানিয়ে এ সম্মুখযোদ্ধা বলেন, মানুষের জন্য কিঝু করার ব্রত নিয়ে শুরু থেকে কাজ শুরু করেছি। তাই যতটা সম্ভব সুরক্ষা সামগ্রী নিয়ে রোগাক্রান্ত মানুষের নুমনা সংগ্রহ করে বিবেক, সমাজ সর্বোপরি রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করে যাচ্ছি। করোনা উপসর্গ নিয়ে ভুগতে থাকা রোগীদের নুমনা সংগ্রহ করে সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে ইতিমধ্যে এলাকার সকলের প্রিয় পাত্রে পরিনত হওয়া রাশেধ বিল্লাহ নিজ পরিবারসহ তার জন্য দোয়া কামনা করেছেন।
এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ ওমর ফারক বলেন, রাশেদ বিল্লাহ তার টিম নিয়ে যেভাবে মানুষের বাড়ি বাড়ি যেয়ে নুমনা সংগ্রহ করেছে তা সবার পক্ষে সম্ভভ ছিল না। ১১ জুলাই পর্যন্ত শ্যামনগরে ৩৫ জন করোনা আক্রান্ত হযেছেন বলেও তিনি জানা। তবে আমজাদ হোসেনসহ আরও কয়েকজন মারা গেলেও তারা শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সনাক্ত হওয়া রোগী ছিলেন না বলেও জানান তরুন এ চিকিৎসক।

#