৪৫০ কোটি ডলার ঋণ পাবে বাংলাদেশ


290 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
৪৫০ কোটি ডলার ঋণ পাবে বাংলাদেশ
এপ্রিল ৪, ২০১৭ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন সফরে তৃতীয় ধাপে বাংলাদেশকে ৪৫০ কোটি ডলার বা সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে ভারত। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৩৬ হাজার কোটি টাকা। যোগাযোগ, অবকাঠামো, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন খাতের ১৭টি প্রকল্পে এ সহায়তা দেওয়া হবে। ৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় দু’দেশের মধ্যে এ বিষয়ে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তিন দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরের মাধ্যমে দু’দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য-বিনিয়োগসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে ১৯ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। এর মধ্যে তৃতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন প্রকল্পে ঋণ দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, নতুন করে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আগে থেকেই আলোচনা চলছে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে প্রকল্পের তালিকা পাঠানো হয়েছে। যাচাই-বাছাই করে ১৭টি প্রকল্পে ঋণ দিতে রাজি হয়েছে ভারত।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এমওইউ সই হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে প্রকল্পভিত্তিক ঋণচুক্তি হবে। তারপরই অর্থছাড় হবে। তৃতীয় ধাপে যে ঋণ দেওয়া হবে, তার শর্ত আগের দেওয়া ঋণের মতোই। প্রস্তাবিত ঋণের সুদহার হবে ১ শতাংশ। পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ২০ বছরে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত ঋণের মধ্যে শতকরা ৭৫ ভাগ কেনাকাটা করতে হবে ভারত থেকে। বাকি ২৫ ভাগ বাংলাদেশ জোগান দেবে। এ ছাড়া ভারতের মনোনীত ঠিকাদারি কোম্পানি প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। ভারত সরকারের পক্ষে সে দেশের এক্সিম ব্যাংক ঋণ প্রদান করবে। এর আগে ২০১০ ও ২০১৫ সালে একই শর্তে বিভিন্ন প্রকল্পে দুই দফায় ভারতের সঙ্গে মোট ৩০০ কোটি ডলার ঋণচুক্তি সই করেছিল বাংলাদেশ সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরকে কেন্দ্র করে নতুন করে ৪৫০ কোটি ডলার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ৩৬টি কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণে নয় কোটি টাকা অনুদান দেবে ভারত। এ সফরের সময় সে বিষয়ে চুক্তি হবে। এ ছাড়া শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন সংস্থার সক্ষমতা বাড়াতে কারিগরি সহায়তার বিষয়ে এমওইউ সই হবে। যোগাযোগ খাতের মধ্যে সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নে অর্থায়ন করতে আগ্রহী ভারত, বিশেষ করে মহাসড়ক চার লেন উন্নীতকরণ ও বিদ্যুৎ খাতে ঋণ দেওয়া হবে।

ফিরে দেখা: ২০১০ সালে ভারতের তৎকালীন অর্থমন্ত্রী বর্তমানে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশ সফরের সময় প্রথম দফায় ১০০ কোটি ডলার ঋণচুক্তি সই হয়েছিল। এর মধ্যে পরবর্তী সময়ে ২০ কোটি ডলার অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়। প্রথম ধাপে আটটি প্রকল্পে দেওয়া ঋণের মধ্যে এ পর্যন্ত ৩৫ কোটি ডলার ছাড় হয়েছে। অবশিষ্ট প্রক্রিয়াধীন। ওই সময় দেওয়া ঋণের বেশিরভাগই ছিল রেল খাতে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সফরের সময় দ্বিতীয় দফায় ২০০ কোটি ডলার ঋণচুক্তি হয়।