৫৭ ধারা কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়: হাইকোর্ট


382 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
৫৭ ধারা কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়: হাইকোর্ট
সেপ্টেম্বর ১, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
বহুল আলোচিত তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারা বাতিলের বিষয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এতে ৫৭ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করে কেন বাতিল করার নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও লেখকসহ ১১ ব্যক্তির পক্ষে করা এক রিটের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার এই রুল জারি করেন।

আগমী চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিবকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে, ৫৭ ধারা নিয়ে করা আরেকটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে বুধবার আদেশের দিন নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ।

বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের এ দিন নির্ধারণ করেন। জাকির হোসেন নামের এক ব্যক্তির পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির এ রিটটি করেন।

আদালতে এই রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন ইমরান এ সিদ্দিক ও শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

এর আগে গত ৩০ আগস্ট হাইকোর্টের একই বেঞ্চ ৫৭ ধারা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দের করা একটি রিট শুনানি নিয়ে খারিজ করে দিয়েছিলেন।

তবে এরপর ওইদিনই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও লেখকসহ ১১ ব্যক্তির পক্ষে আইসিটি আইনের ৫৭ ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আরেকটি রিট করা হয়। এতে বলা হয়, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অঙ্গীকারের সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা সাংঘর্ষিক। মঙ্গলবার ওই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করেন।

রিটকারীরা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আহমেদ কামাল, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আকমল হোসেন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক গীতি আরা নাসরিন ও ফাহমিদুল হক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজীম উদ্দিন খান, সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক সামিনা লুৎফা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আনু মুহাম্মদ, ঢাকার নাগরিক আবদুস সালাম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সাংস্কৃতিক কর্মী অরূপ রাহী এবং লেখক রাখাল রাহা।

আদালতে শিক্ষক-লেখকদের পক্ষে করা রিট আবেদনের শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ূয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোতাহার হোসেন সাজু।

বহুল আলোচিত আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা বাতিলের জন্য ইতোমধ্যে ‘সম্পাদক পরিষদ’সহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকেও দাবি জানানো হয়েছে।

আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে-ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কোনো ব্যক্তির তথ্য যদি নীতিভ্রষ্ট্র বা অসৎ হতে উদ্ধুদ্ধ করে, এতে যদি কারও মানহানি ঘটে, রাষ্ট্র বা ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়, তা হবে অপরাধ। এর শাস্তি অনধিক ১৪ বছর কারাদণ্ড এবং অনধিক এক কোটি টাকা জরিমানা।

২০০৬ সালে পাস হওয়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৯ ও ২০১৩ সালে দুই দফায় সংশোধন করা হয়। সর্বশেষ সংশোধনে সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর থেকে ১৪ বছর কারাদণ্ড করা হয়। আর ৫৭ ধারার অপরাধকে করা হয় অজামিনযাগ্য।

বিভিন্ন সংগঠনের মতে, ৫৭ ধারার প্রয়োগ করা হলে জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হবে। এটা সংবিধান প্রদত্ত জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থি। তাছাড়া উদ্দেশ্যমূলকভাবেও এই ধারার অপপ্রয়োগ হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।