৭ই মার্চ বদলে দিয়েছে বাঙালী জাতির ভবিষ্যৎ : শেখ শাওন আহমেদ সোহাগ


721 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
৭ই মার্চ বদলে দিয়েছে বাঙালী জাতির ভবিষ্যৎ : শেখ শাওন আহমেদ সোহাগ
মার্চ ৭, ২০১৭ ইতিহাস ঐতিহ্য ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

মহান নেতার একটি ভাষনই বদলে দিতে পারে একটি জাতির ভবিষ্যৎ। ঠিক তেমনি বাংলা ও বাঙালী জাতিকে হাজার বছরের দাসত্বের নিগড় থেকে মুক্তির পিছনের অন্যতম একটি কারন ছিল, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর

রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষন। যে ভাষন বাঙালী জাতিকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখায়, পাকিস্তান নামক অত্যাচারী আর নিপীড়নকারী রাষ্ট্রের কাছ থেকে মুক্ত হওয়ার স্বপ্ন দেখায়। যে ভাষনের হাত ধরেই বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ নামক একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়, যার জন্যই আমরা লাল সবুজের পতাকা পেয়েছি। বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাড়াতে পেরেছি।

সেই ৭ই মার্চের মাত্র ১৯ মিনিটের বিশ্ব বিখ্যাত এই ভাষন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নেতাদের কাঁপানো ভাষনের মধ্য অন্যতম। যে ভাষনটি বিশ্বের বুকে জাতির জনক সহ বাংলাদেশ কে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়। জাতির পিতার এই ঐতিহাসিক ভাষন স্বাধীনতা অর্জনের জন্য আজো পৃথিবীর কোন মহান নেতা এত সংক্ষিপ্ত সময়ে এত তাৎপর্যমন্ডিত ভাষন দিতে পারেননি।

রাজনৈতিক গবেষনা সংস্থা ইউএসবি (টঝই) বঙ্গবন্ধুকে ডড়ৎষফ চড়ষরঃরপধষ চড়বঃ বা বিশ্ব রাজনীতির কবি হিসাবে ভূষিত করেছেন।

ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, ৭ই মার্চের দিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দুপুরে খাওয়া দাওয়া করে যখন একটু বিশ্রাম নেওয়ার জন্য বিছানায় যায়, তখন জাতির জনকের সহধর্মিনী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পানের বাটা নিয়ে বঙ্গবন্ধুর মাথার পাশে গিয়ে বসলেন।

বঙ্গমাতা নিজের সুখের কথা চিন্তা না করে নিজের সন্তানদের কথা না ভেবে বাংলা এবং বাঙালী জাতির কথা ভেবে বঙ্গবন্ধুর মাথায় হাত বুলিয়ে বলেছিলেন “তুমি কাউকে ভয় পাবে না, দেশের মানুষ তোমার দিকে তাকিয়ে আছে। তোমার যা বলার দরকার তুমি তাই বলবে, র্নিভয়ে বলবে”। বঙ্গমাতার এই অনুপ্রেরণা জাতির পিতাকে মুগ্ধ করেছিলেন। জাতির পিতা বেরিয়ে পড়লেন।

এরপর রেসকোর্স ময়দানে যখন জাতির পিতা আসলেন তখন রেসকোর্স ময়দানে লাখ লাখ মানুষ জয় বাংলার স্লোগানে প্রকম্পিত করলো বাংলার আকাশ বাতাশ। জাতির পিতা বক্তব্যের শুরুতেই বললেন “ভায়েরা আমার, আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে

আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি…..”
৭ই মার্চের সেই ভাষনটি আজো শুনলে সবার হৃদয়ে জেগে ওঠে ভক্তি আর শ্রদ্ধা। চোখের সামনে ভেসে ওঠে তর্জনি উঁচু করে বজ্র কণ্ঠের সেই বানী……

“তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে এবং
জীবনের তরে রাস্তা-ঘাট যা যা আছে সবকিছু আমি যদি হুকুম দেওয়ার নাও পারি.. তোমরা বন্ধ করে দেবে।
আমরা ভাতে মারবো আমরা পানিতে মারবো”

৭ই মার্চে জাতির পিতার এই বক্তৃতার সুত্র ধরেই ২৬শে মার্চ এদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলো। দীর্ঘ ৯মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর আমরা স্বাধীন হলাম। পেলাম একটি স্বাধীন ও সর্বভৌম রাষ্ট্র। আজ আমরা স্বাধীন জাতি, গর্বিত জাতি। বাংলা আমাদের মাতৃভাষা।

তাই, জাতির পিতা বাংলাকে নিয়ে, বাঙালী জাতির ভাগ্যউন্নয়ন নিয়ে যে স্বপ্ন দেখতেন, এখন সময় এসেছে বঙ্গবন্ধুর সেই প্রতিটি স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করা।

আর মহান নেতার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার জন্য আমাদেরকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জেগে উঠতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এটাই হোক এবারের স্বাধীনতা দিবসের শপথ।

জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু
##