৭১’এর রনাঙ্গনের সাথী বরকত এখন ভিক্ষুক


451 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
৭১’এর রনাঙ্গনের সাথী বরকত এখন ভিক্ষুক
জানুয়ারি ১৩, ২০১৬ কালিগঞ্জ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

সোহরাব হোসেন সবুজ, নলতা :
স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এদেশের মুক্তিকামী মানুষ ঝাপিয়ে পড়েছিল পাকিস্থানী হানাদারদের বিরুদ্ধে। ৭১’এর ২৬ মার্চ থেকে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ নয় মাস চলে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। অবশেষে  ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন হয় দেশ।
অর্জিত হল লাল সবুজের বাংলাদেশ নামের একটি ঠিকানা। আর আজ আমরা সেই স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক। কিন্ত যে মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিপাগল, রনাঙ্গনের সাথীরা, বুদ্ধিজীবিরা দেশের জন্য সব কিছুই বিসর্জন দিয়েছেন সেই মহা ত্যাগী মানুষগুলোর মধ্যে সকলের কি যথাযথ মর্যাদায় অভিসিক্ত করা হচ্ছে? তাদের মধ্যে অনেকেই এখনও রয়ে গেছেন মান-মর্যাদা, আর যথাযথ সুযোগ সুবিধা পাওয়ার বাইরে। এমনই এক হতভাগ্য মুক্তিযোদ্ধা বরকত আলী গাজী । ঘুরে বেড়ান পথে পথে। প্রায় সময় ক্ষুদার জ্বালায় হাত পাততে হয় অন্যর কাছে। বিশ পঞ্চাশ টাকায় মেটাতে হয় পরিবারের চাহিদা।

কালিগঞ্জ উপজেলার দেওল গ্রামের মৃত: আয়নুদ্দীন গাজীর পূত্র বরকত আলী গাজী যুদ্ধ করে লাল সবুজের পতাকা ছিনিয়ে আনতে পারলেও ৬৫বছরের জীবনেও জয় করতে পারেননি অভাব আর দরিদ্রতা।
সেই সময়ের স্মৃতিচারন করতে গিয়ে বরকত গাজী বলেন- সবে বিয়ে করেছি, ঠিক সেই সময় চারিদিকে শুরু হয়েছে হানাদারদের বর্বরতা। তখনই সিদ্ধান্ত নিই যুদ্ধে যাওয়ার। নতুন বউ ঘরে, পরিবারের সবাইকে ছেড়ে চলে গেলাম। অনেক পথ পাড়ি দিয়ে ভারতের বসিরহাট জেলার তকিপুরে উঠলাম। এরপর সেখান থেকে আমাকে পাঠানো হলো বিহার ট্রেনিং সেন্টারে। সেখান থেকে ট্রেনিং শেষ করে যুদ্ধকালীন কমান্ডার (অবঃ উপ সচিব) এস এম মিজানুর রহমারের নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধ করেছি।

এরমধ্যে রাজাকার মাওঃ আব্দুর সাত্তারের বাড়ির পাশে খান সেনাদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে আমার মাথায় গুলি লাগে। আমি গুরুতর আহত হই। আমাদের অবস্থান ভারতের সীমান্তবর্তী হওয়ায় ওপার থেকে ডাক্তার এনে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তোলে আমার সহযোদ্ধারা। সুস্থ হয়ে আবার যুদ্ধে যোগ দেই। দেশ শত্রু মুক্ত হওয়ায় অস্ত্র জমা দিয়ে বাড়ি ফিরে আসি।
ফিরে এসে অন্যর বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতাম। এখন আর শক্তি নেই কাজ করার। সংসারে রোজগারের কেউ নেই, দুই মেয়ে বিয়ে দিতে বাকি। তাই এক বেলা খেলে আর এক বেলা উপস  থাকতে হয়। সরকারি ভাতা যেটুকু পাই তাতে সংসার চলে না, তাতে আবার মেয়ের বিয়ে। তাই ইচ্ছা না থাকলেও অপরের কাছে হাত পাততে হয়। সরকারি-বেসরকারিভাবে অন্যান্য কোন সুযোগ সুবিধা আমি পাইনি। এসব কথা বলতে গিয়ে বরকত গাজির দু”চোখ পানিতে ভিজে যায়। ঠিক মত না খেতে পেরে অর্ধহারে-অনাহারে হয়ে গেছেন কংকাল। তাই মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সৈনিক, ৭১’র রনাঙ্গনের সাথী বরকত গাজীকে ভাতার পাশাপাশি অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দেওয়ার জন্য সরকারের নিকট দাবি জানিয়েছে মুক্তিযোদ্ধাসহ এলাকার সচেতন মহল।