৭৫ বছর পর দেখা প্রেমিক-প্রেমিকার


173 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
৭৫ বছর পর দেখা প্রেমিক-প্রেমিকার
জুন ১৩, ২০১৯ প্রবাস ভাবনা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ জার্মান দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে জোট বেঁধে লড়াই করছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স। ১৯৪৪ সালে পূর্ব ফ্রান্সের ব্রায়িতে একটি রেজিমেন্টে নিযুক্ত ছিলেন মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কেটি রবিন্স। ফ্রান্সের সেই ঘাঁটিতে থাকাকালীন ১৮ বছর বয়সী ফরাসি তরুণী জেনেই পিয়ারসন নি গেনেই- এর প্রেমে পড়েন তিনি। তবে তাদের দেখা হওয়ার মাত্র দুই মাসের মধ্যেই পূর্ব ফ্রন্টের উদ্দেশ্যে তাড়াহুড়ো করে গ্রাম ছেড়ে যেতে হয় কেটি রবিন্সকে।

জেনেইয়ের একটি ছবি নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন রবিন্স। এরপর কেটে যায় দীর্ঘ ৭৫ বছর। এই দীর্ঘকাল জেনেইয়ের শেষস্মৃতি আগলে রাখেন রবিন্স।

এরপর কয়েক মাস আগে একদিন ফ্রান্সের একদল সাংবাদিক বিশেষ প্রতিবেদনের কাজে রবিন্সের সাক্ষাৎকার নিতে যান। সে সময় সাংবাদিকরা যুক্তরাষ্ট্রের অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করছিলেন। তাদের সঙ্গে দেখা হতেই ফ্রান্সের প্রচারমাধ্যম ফ্রান্স-টু এর সাংবাদিকদের জেনেই-এর সেই ছবিটি দেখিয়ে রবিন্স বলেন, আমি ফ্রান্সে ফিরে গিয়ে জেনেইকে বা তার পরিবারকে খুঁজে বের করতে চাই।

সাংবাদিকদের সঙ্গে এই সাক্ষাতের কয়েক সপ্তাহ পরেই রবিন্স ডি-ডে ল্যান্ডিং অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া নরম্যান্ডি ল্যান্ডিং এর ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ফ্রান্সে যান। এদিকে রবিন্সকে চমকে দিতে ফ্রান্সের ওই সাংবাদিকরা আগে থেকেই জেনেইকে খোঁজ বের করেন। এরপর রবিন্সকে সাংবাদিকরা নিয়ে যান সেই রিটায়ার হোমে, যেখানে অপেক্ষায় ছিলেন জেনেই।

৭৫ বছর পর আবার মুখোমুখি হন রবিন্স-জেনেই। দেখা হতেই তারা একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে চুম্বন করেন। সে সময় রবিন্সের গায়ে ছিল সামরিক পোশাক আর জেনেই এসেছিলেন কালো পোশাকে পরিপাটি হয়ে।

পরে জেনেই সাংবাদিকদের বলেন, আমি সবসময়ের রবিন্সের কথা মনে করতাম। আশা করতাম, একদিন ও নিশ্চয়ই ফিরে আসবে। নিজেদের আলাদা হওয়ার মুহূর্তটির স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, রবিন্স যখন ট্রাকে করে ফিরে যাচ্ছিল, আমার মন এতোটাই ভেঙে পড়েছিল যে আমি ভীষণ কাঁদছিলাম। আমি আশা করেছিলাম, যুদ্ধ শেষে সে হয়তো আর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাবে না।

আক্ষেপ করে জেনেই বলেন, রবিন্স এতদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে কেন ছিল? আমার কাছে আরও আগে কেন ফিরে আসেনি? আমি ভাবি, যদি সে আরও আগে ফিরতো।

জেনেই পরে বিয়ে করেন। সেই সংসারে তার পাঁচ সন্তান রয়েছে। অন্যদিকে রবিন্সও বিয়ে করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে নিজের পরিবার নিয়ে থাকছেন তিনি। তাদের দুজনই নিজেদের সঙ্গীকে হারিয়েছেন।

একদিন তাদের আবারও নিশ্চয়ই দেখা হবে- বিদায়ী চুম্বনে এমনটাই আশা করছিলেন রবিন্স-জেনেই। সূত্র: বিবিসি