৮ কোটি টাকা নিয়ে উধাও চলন্তিকা যুব সোসাইটি !


735 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
৮ কোটি টাকা নিয়ে উধাও চলন্তিকা যুব সোসাইটি !
জুন ২, ২০১৮ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

খুলনা প্রতিনিধি ::
প্রতারনার ফাঁদ চলন্তিকা যুব সোসাইটি নামে একটি অফিস খুলে গ্রাহকদের কাছ থেকে ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। গ্রাহকের জমাকৃত টাকা দিয়ে প্রতারকচক্র সকলের অজান্তে নিজেদের নামে ও তাদের স্ত্রী, পূত্র, কন্যা, আত্মীয়দের নামে বাড়ী, গাড়ী, জমি, খরিদ করছে ও বিদেশে এই টাকা পাচার করেছে।
জানা যায়, লোভের বশবর্তী ও প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ২০০৪ সালে বটিয়াঘাটা থানায় চলন্তিকা যুব সোসাইটি নামে একটি অফিস খোলা হয়। বাদী পক্ষে ওই অফিসের হিসাব রক্ষক লিপিকা মিস্ত্রি ও পঙ্কজ কুমার মল্লিক ওই অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারী। চলন্তিকার চেয়ার ম্যান খবিরুজ্জামান(৫৫) ও নির্বাহি সদস্য মোঃ রফিকুল ইসলাম(৫০) পরস্পর যোগসাজসে সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার ৬নং রোডস্থ ১ নম্বর বাড়ী চৌধুরী ভিলায় খুলনা হেড অফিস হিসেবে চালাতো। নগরীর জিরোপায়েন্ট চলন্তিকা ভবনটি প্রকল্প কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হত। আসামী মিজানুর রহমান(মিল্টন) চলন্তিকার গনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে বটিয়াঘাটা শাখায় উক্ত প্রকল্পের অধিক সুদে টাকা রাখার জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে। এরপর থেকে গ্রাহকগণ প্রতারনার ফাদে পড়ে কিছু কিছু টাকা রাখা শুরু করে। অসৎ উদ্দেশ্যে জনগনের আস্থা অর্জনের জন্য বটিয়াঘাটায় চলন্তিকা যুব সোসাইটির নামে একটি ভবন তৈরী করা হয়। প্রতারক মিজানুর রহমান(মিল্টন)এর অপপ্রচার ও অপকৌশলের কারনে গ্রাহকগণ অধিক মুনাফার আশায় উৎসাহিত হয়ে ২০০৬ সাল থেকে টাকা রাখা শুরু করে। বাদী ও সাক্ষীগণ আসামী মিল্টনের প্ররোচনায় উক্ত প্রকল্পে টাকা মেয়াদী হিসেবে রাখা শুরু করে। বাদী লবনচরা থানার সাচিবুনিয়া(চরা) এলাকার সুমিত্রা রায় ওরফে বিশ্বাস গত ২০১৬ সালের ১০ মে চলন্তিকা যুব সোসাইটিতে ১ লক্ষ টাকা মেয়াদী হিসেবে জমা রাখেন। গত ২৬ মার্চ বাদী সুমিত্রা লোকমুখে জানতে পারে যে চলন্তিকা যুব সোসাইটি অফিসে তালা ঝুলছে। তাৎক্ষণিকভারে বাদী অবাক হয়ে যায়। বাদী সুমিত্রা চলন্তিকার এজিএম অনিমেষ রায় ও জলমার পঙ্কজ কুমার মল্লিক সাক্ষীগণের কাছ থেকে জানতে পারে যে গ্রাহকের প্রতিদিনের জমা টাকা রুপালী ব্যাংক লিঃ ১নং আসামী চলন্তিকার চেয়ারম্যান খবিরুজ্জামান(৫৫) ও ২ নং আসামী চলন্তিকা যুব সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক মোঃ সরোয়ার হোসাইন(৪৮) নামীয় ৭১৫ নং হিসেবে জমা করা হচ্ছে। গ্রাহকের জমাকৃত টাকা দিয়ে আসামীগণ সকলের অজান্তে নিজেদের নামে ও তাদের স্ত্রী, পূত্র, কন্যা, আত্মীয়দের নামে বাড়ী, গাড়ী, জমি, খরিদ করছে ও বিদেশে এই টাকা পাচার করছে।
২নং সাক্ষী এজিএম অনিমেষ রায় বলেন, যে এবছরের সালের ২৫ মার্চ তিনি জানতে পেরে হেড অফিসে যান এবং হেড অফিসে তালা মারা দেখে অফিসারদের না পেয়ে চলে আসেন। বাদীনী অন্যান্য গ্রাহকদের অর্থাৎ সাক্ষীদের নিয়ে এবছরের ২৪ মে চলন্তিকা যুব সোসাইটি অফিসে গেলে ৮নং আসামী গনসংযোগ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান(মিল্টন) তাদেরকে অফিসে ঢুকতে বাধা দেয় এবং তাদের সাথে দূর ব্যবহার করে। আসামীরা বাদী ও সাক্ষীদের ২০১৬ অর্থ বছরে মোট ৫৫ লক্ষ ২০ হাজার টাকা গ্রহকদের টাকা ভঙ্গ করে আত্মসাৎ করেছে। আসামী মিল্টন চলন্তিকা যুব সোসাইটির নামী সম্পদ অন্যান্য আসামীদের সাথে যোগসাজসে বিভিন্নভাবে তার নিজ হেফাজতে রেখেছে। তাছাড়া বটিয়াঘাটা শাখা থেকে কোটি টাকার অধিক টাকা আত্মসাৎ করে একই আসামীরা শেকড় সঞ্চয় ও রীনদান সমবায় সমিতি লিঃ ৫, বাবু খান রোড খুলনায় নতুন নামে আর একটি প্রতারনার ফাদ পেতেছে। আসামীগণ বাদী ও সাক্ষীদের টাকা আত্মসাৎ করে দন্ডবিধির ৪০৬/৩২০ শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছে। বাদী সুমিত্রা রায় থানায় গিয়ে মামলা করতে ব্যর্থ হয়ে ২০১৮ সালের ৩০ মে খুলনা হাকীমী ঘ অঞ্চলে মামলা দায়ের করেন যার নং-৬৮/১৮।
মামলার আসামীরা হচ্ছে, চলন্তিকা যুব সোসাইটির চেয়ার ম্যান মোঃ খবিরুজ্জামান, নির্বাহি পরিচালক সরোয়ার হোসাইন, কোষাধক্ষ্য আলী আহম্মদ শেখ, নির্বাহী সদস্য স ম আব্দুস সোবহান, নির্বাহি সদস্য রফিকুল ইসলাম, নির্বাহি সদস্য শামীম পারভেজ, জণসংযোগ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান মিল্টন।
এজিএম অনিমেষ রায় বলেন, প্রায় ২ হাজার ৭শ গ্রাহকের কাছ থেকে ৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়েছে।