‌‘শ্যামনগরে গণহত্যা দিবসে ব্যান্ড-শো, এটা কী মিনি পাকিস্তান’ ‍‍


958 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‌‘শ্যামনগরে গণহত্যা দিবসে ব্যান্ড-শো, এটা কী মিনি পাকিস্তান’ ‍‍
মার্চ ২৮, ২০১৭ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

এম কামরুজ্জামান ::
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ২৫ মার্চ গণগত্যা দিবসে (জাতীয় শোক দিবসে) সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ব্যান্ড-শো এর আয়োজন, সড়ক দুর্ঘটনার অজুহাত দেখিয়ে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনাত ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ এবং পরবর্তী ৩ দিন (২৭,২৮ ও ২৯ মার্চ ) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের সকল অনুষ্ঠান মৌখিক ভাবে বন্ধ ঘোষণা করা নিয়ে সেখানে বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা , ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, শ্যামনগরে ২৫ মার্চ গণগত্যা দিবস ও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যেভাবে পালিত হলো তাতে পাকিস্তান সমর্থকরা  উদ্বুদ্ধ হয়েছে, খুশি হয়েছে। যা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে কখনই কেউ প্রত্যাশা করেনা। তারা এ ঘটনার যথাযথ তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন। ‘তারা বলেছেন ‘ এটা কী মিনি পাকিস্তান’।

শ্যামনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আতাউল হক দোলন ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস, ওই দিন জাতির জন্য শোকের। এই শোক দিবসে শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা চত্বরে ২৫ মার্চ রাতে আয়োজন করা হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ওই অনুষ্ঠানে গভীর রাত পর্যন্ত বাইরের জেলা থেকে কণ্ঠশিল্পী এনে সেখানে জেমস্ এর ব্যান্ড-শো চলানো হয়েছে। আর ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে সন্ধ্যায় যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল ওই দিন সড়ক দুর্ঘটনার অজুহাত দেখিয়ে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ওই দিন বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় শ্যামনগরের একটি যাত্রিবাহী বাস খাদে পড়ে ৪ জন নিহত হয়। এ সংবাদ শ্যামনগরে পৌছানোর পরপরি বিকাল সাড়ে ৪ টার পরে ওই দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ যাবতীয় জাতীয় কর্মসূচী বন্ধ ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। শুধু তাই নয়, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে (২৭,২৮ও ২৯ মার্চ ) উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নেওয়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মৌখিক ভাবে বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে।  ইউএনও আমাকেও (দোলনকে) ফোন করে বলেছেন মুন্সিগঞ্জের অনুষ্ঠান বন্ধ রাখার জন্য। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আমরা শোকাহত। তাই বলে জাতীয় দিবসের সকল অনুষ্ঠন বন্ধ করতে হবে কেনো। উপজেলা প্রশাসনের এ ধরণের বিতর্কিত ভূমিকায় পাকিস্তান সমর্থকর ও জঙ্গিরা উদ্বুদ্ধ হয়েছে। যথাযথ তদন্ত করে এর বিচার হওয়া প্রয়োজন।

শ্যামনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদ গাজী আনিছুজ্জামান আনিস ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে বলেন, শ্যামনগর কী বাংলাদেশের বাইরের কোন উপজেলা ? এখানে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় গণহত্যা দিবসে (শোক দিবসে ) অনুষ্টিত হচ্ছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ব্যান্ড-শো। আর  সড়ক দুর্ঘটনার অজুহাত দেখিলে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের যাবতীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এটি কী দেখার কেউ নেই। শ্যামনগর কী এখনও মিনি পাকিস্তান ? তাহলে আমরা কী পাকিস্তানে বসবাস করছি ? এসব দেখবে কে ?

শ্যামনগর উপজেলা মুক্তিযুদ্ধা সংসদের কমান্ডার দেবিরঞ্জন মন্ডল ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে বলেন, খুবই আঘাত পেয়েছি উপজেলা প্রশাসনের এ ধরণের বিতর্কিত ভূমিকায়। জাতীয় শোক দিবসে শোক প্রকাশ না করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ব্যান্ড-শো আয়োজন খুবই দু:খজনক। এটি জাতি প্রত্যাশা করে না। খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় শ্যামনগরের ৪ জন মানুষ মারা গেছে , এটি অব্যশই শোকের। তাই বলে এই অজুহাত দেখিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের ( ২৬ মার্চ বিকাল সাড়ে ৪ টা থেকে ) নির্ধারিত সব অনুষ্ঠান বাতিল করতে হবে ? উপজেলা প্রশাসনের এ ধরণের বিতর্কিত ভূমিকায় দেশ বিরোধী চক্র রিতিমতো উদ্বুদ্ধ হয়েছে।  তিনি এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে ভয়েস অব সাতক্ষীরার এই প্রতিবেদকের সাথে মুঠো ফোনে কথা হয় শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সায়েদ মো: মনজুর আলমের। তিনি ২৫ মার্চ (জাতীয় শোক দিবসে) হণহত্যা দিবসে সন্ধ্যায়  সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা স্বীকার করেই বলেন, ওইদিন যা কিছু করেছি সবই সরকারি নির্দেশনা মেনেই করেছি। আমি সরকারি নির্দেশনার বাইরে কিছুই করেনি। জেনে,শুনে ,বুঝেই করেছি।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন বিষয়ে তিনি বলেন, ২৬ মার্চ বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে আমাদের কাছে খবর আসে খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় শ্যামনগরের একটি বাস খাদে পড়ে ৪ জন মারা গেছে, কয়েক জন আহত হয়েছে। এ খবর জানার পরপরি আমারা ওই দিন বিকাল থেকে স্বাধীনতা দিবসের যাবতীয় কর্মসূচী বন্ধ ঘোষণা করি। কিন্তু ২৭,২৮ ও ২৯ মার্চের কোন অনুষ্ঠান লিখিত ভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়নি। লিখিত ভাবে বন্ধ করেছি কেউ দেখাতে পারবে না। অনুষ্ঠান যারা আয়োজন করেছে তারা করবে, কি করবে না সেটি তাদের ব্যাপার। তারা যদি বন্ধ করতে চায় চায় সেখানে আমার কিছু বলার থাকে না ।