এক সপ্তাহ ধরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ অচল : সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রীর প্রচেষ্টা ব্যর্থ


377 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
এক সপ্তাহ ধরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ অচল : সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রীর প্রচেষ্টা ব্যর্থ
নভেম্বর ৫, ২০১৫ ফটো গ্যালারি শিক্ষা
Print Friendly, PDF & Email

 

ইব্রাহিম খলিল / নাজমুল হক :
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের অচলবস্থার নিরসন হয়নি। বৃহস্পতিবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় সম্পর্কীত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রী ডা: আ ফ ম রুহুল হক এমপি সহ সরকারের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল বৈঠক করলেও কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে ওই বৈঠক। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ওই প্রতিনিধি দলকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল চালুসহ তাদের ঘোষিত ৩ দফা বাস্তবায়ন না হলে তারা আর ক্লাসরুমে ফিরে যাবে না। ডা: আ ফ ম রুহুল হক আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের দাবী বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলেও শিক্ষার্থীরা তা মানেনি। দাবী আদায়ে তারা ফূর্বের অবস্থানে অনড়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানায়, বৈঠকে আমাদের দাবী পূরণ না হওয়ায় আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। ৫০০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল চালু না হলে আমরা আর ক্লাসে ফিরবো না।

অন্যদিকে কলেজ প্রশাসন জানায়, সভায় ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। কিন্তু শিক্ষার্থীরা সে-টি গ্রহণ করেননি। ফলে কোন সমাধান ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়েছে।

সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার ষষ্ঠ দিনের মতো সকাল থেকেই মিছিল-স্লোাগানে মুখরিত হয়ে ওঠে কলেজ ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে চলে এসে অবস্থান গ্রহণ করে। শিক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ৯টায় প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে বন্ধ করে দেয়। টানা রৌদ্রে শিক্ষার্থীরা মুহুমুহু স্লোগান দিতে থাকে। রৌদ্র উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা কলেজ প্রশাসনিক ভবন বন্ধ দেয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। অনুষ্ঠিত সমাবেশে রাখেন আন্দোলনের সমন্বায়ক কলেজের ৫ম বর্ষের শিক্ষার্থী আলমগীর হোসেন, মিনাক কুমার বিশ্বাস, শরিফ আহমেদ, ৪র্থ বর্ষের নাফিসা ইতিশ, ৩য় বর্ষের মাজহার আকন্দ, ২য় বর্ষের মংসিং মারমা প্রমূখ।

বেলা সাড়ে ১১টায় আন্দোলনরত সকল শিক্ষার্থীদের নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কলেজের অধ্যক্ষ ডা. কাজী হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হকএমপি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (মেডিকেল শিক্ষা) ডা. আব্দুর রহিম, জেলা পরিষদের প্রশাসক মনসুর আহমেদ, জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. মোখলেছুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. নজরুল ইসলাম, জেলা বিএমএর সাধারণ সম্পাদক ডা. আজিজুর রহমান, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী আলমগীর হোসেন, তানভীর হোসেন মিনাক কুমার প্রমুখ।

সভায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সমন্বয়কারী আলমগীর হোসেন বলেন, আমাদের এমবিবিএস কোর্স প্রায় শেষ পর্যায়ে। কিন্তু আমরা জানি না কোন কোন বিষয়ে পড়ানো হয়, কি পড়ানো হয়। কোন বিভাগে কি পড়ানো হয়। আমাদের ভালো ডাক্তার বানানোর দায়িত্ব আপনাদের। তিনি আরো বলেন, আমরা জাতির অভিশাপ হতে আসি নি, আর্শিবাদ হতে এসেছি। তিনি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল চালু করার দাবী তুলে ধরেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. নজরুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের দাবীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে দ্রুত দাবী বাস্তবায়ন করার তাগিদ দেন।

বিএমএ’র জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. আজিজুর রহমান বলেন, বিএনপি আন্দোলন করে বেশিদিন টিকে থাকতে পারিনি। তোমরাও টিকে থাকতে পারবা না।

জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবীগুলো প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হয়েছে। স্বাস্থ্য সচিবের সাথেও কথা হয়েছে। তারা দ্রুত সমাধান কারার আশ্বাস দিয়েছে।

জেলা পরিষদের প্রশাসক মুনছুর আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবীর সাথে আমি একমত। তিনি আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল চালুর করার দাবী জানান।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (মেডিকেল শিক্ষা) ডা. আব্দুর রহিম বলেন, শিক্ষার্থীদের যে দাবীগুলো এই মুহুর্তে পূরণ না করলেই নয় সেগুলো দ্রুত পূরণ করা হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহবান জানান।

স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় সম্পর্কীত স্থায়ী কমিটির সভাপতি , সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডা: আ ফ ম রুহুল হক এমপি বলেন, শিক্ষার্থীরা দাবী না করলেও সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল লাভ করতো। এটি কোন দাবীই না। হাসপাতালে ৭ জন ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা আগামী ৪ দিনের মধ্যে যোগদান করবে। তিনি আরো বলেন, তোমাদের ক্লিনিক্যাল কাজ সদর হাসপাতালে কর। আমরা আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল চালু করার ব্যবস্থা করবো। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা ক্লাসে ফিরে যাও, আমাদের সময় দাও।

আন্দোলনরত একাধিক শিক্ষার্থীরা জানায়, তাদের দাবী প্রশাসন না শুনে তাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। ফলে আমরা আন্দোলন বন্ধ করেনি। দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।