সাতক্ষীরা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর বদলি নিয়ে টালবাহানা !


1176 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর বদলি নিয়ে টালবাহানা !
নভেম্বর ১৫, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

 

বিশেষ প্রতিনিধি :
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী নুর আহম্মদকে বদলির ১০দিন অতিবাহিত হলেও তিনি দায়িত্ব না ছেড়ে বসে আছেন। একই সাথে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের অফেক্ষায় বাগেরহাট জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী এস এম শামিম আহম্মেদ যোগদান করতে পারছেন না বলে জানাগেছে। খুলনার মেসার্স ওয়েলকাম মটরস এর স্বত্তাধিকারি এস এ বাদলের ১কোটি ৭০ লাখ টাকার বিল প্রদানে ঘাপলার অভিযোগের ভিত্তিতে উক্ত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী খালেদা আহসান গত ৫ নভেম্বর ওই বদলির আদেশ প্রদান করেন। নুর আহম্মেদকে সাতক্ষীরা থেকে ঢাকার পানি সরবরাহ স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যশিক্ষা প্রকল্পাধীন বিভাগে দায়িত্ব দেয়া হয়।

খুলনার মেসার্স ওয়েলকাম মটরস এর স্বত্তাধিকারি এস এ বাদলের অভিযোগে জানাগেছে, জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী নুর আহম্মদ ঠিকাদারদের সাথে ভাগাভাগি করে বিভিন্ন কাজের পার্টনার হিসেবে থাকেন। ক্ষমতার বলে দরপত্র লেসে দাখিল হলে চুক্তি অনুযায়ী তিনি তা উর্দ্ধদরে পরিনত করে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নেন। তার দেনদরবারের সাথে মিল না হওয়ায় ওয়েলকাম মটরস এর এক কোটি ৭০ লাখ টাকার বিল আটক করে রেখেছেন। ঠিকাদারদের সাথে ঘুষ বাণিজ্যের নানা অভিযোগে নির্বাহী প্রকৌশলীর নামে হাইকোর্ট সহ খুলনা ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন আদালতে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়াও গত বছরের ১১ জুলাই আশাশুনির পশ্চিম বাকড়ার হাবিবুল্যাহ হত্যা মামলার এজাহার নামীয় ১ নং আসামী নুর আহম্মদ। তবে এ মামলা থেকে পুলিশ তাকে অব্যহতি দিয়েছেন বলে খবর রয়েছে। যার মামলা নং-৯ তাং-১২.০৭.১৫।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিগত ২০১২ সালে কলারোয়ার ঠিকাদার রুহুল কুদ্দুস এর নিকট ১৬৮১ মিটার পিভিসি পাইপ পাওনা থাকা স্বত্তেও তা আদায় না করে ব্যক্তিগত সুবিধা নিয়ে তার বিল প্রদানের ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি বিগত ১৩-১৪ অর্থ বছরের দরপত্র নং-১১ এর ৩টি দরপত্র ড্রপিং এ অংশ নিয়ে একটি কাজ পান ওয়েলকাম মটরস। বাকি দুটি কাজ না পেলেও পে-অর্ডার ফেরত চাইলে একটি দেন আর একটি নিয়ে টালবাহানার অভিযোগে খুলনা আদালতে ৯৮ ধারায় একটি মামলা দায়ের করলে আদালতের মাধ্যমে তিনি বাকি পে-অর্ডারটি বুঝে পান। এসব নানাবিধও অভিযোগের বোঝা মাথায় নিয়ে নুর আহম্মদ সাতক্ষীরা অফিসের দায়িত্ব পালন করছিলেন। এরই মধ্যে খুলনার এস এ বাদল শীর্ষ পর্যায়ে বার বার অভিযোগ করার পর গত ৫ নভেম্বর এবিভাগের প্রধান প্রকৌশলী খালেদা আহসান নির্বাহী প্রকৌশলী নুর আহম্মেদকে বদলির নির্দেশ দেন।

এস এ বাদল বলেন, বদলির আদেশ দেয়ার পর তা অতিদ্রুত ফ্যাক্স যোগে অথবা ই-মেইলের মাধ্যমে স্ব স্ব দপ্তরে আসার কথা থাকলেও গত ১০ দিনেও সেই আদেশ খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়, বাগের হাট জেলা অফিস ও সাতক্ষীরা অফিসে এসে পৌছাইনি। এরই মধ্যে বিশেষ যোগাযোগে তিনি বদলির এআদেশ হাতে পেয়েছেন।

এব্যাপারে সাতক্ষীরার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী নুর আহম্মদ জানিয়েছেন, তিনি অফিসিয়ালি বদলির কোন আদেশ হাতে পাননি। তবে বদলির বিষয়টি তিনি শোনার পর-পরই ক্যানসিল হয়েছে বলে সেটিও শুনেছেন কিন্ত কোন আদেশই তার হাতে আসেনি। পেলেই তিনি কর্মস্থল ত্যাগ করবেন বলে জানান। এ প্রসঙ্গে নুর আহম্মদ আরও বলেন, খুলনার মামলাবাজ ঠিকাদার ওয়েলকাম মটরস দীর্ঘদিন আমার পেছনে লেগে আছে। আমি যা জানি না তিনি তা জানেন। তিনিও একাধিক মামলা করেছেন আমার নামে। অপর দিকে বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম শামীম আহম্মেদ জানান, আমাকে সাতক্ষীরায় যোগদান করতে হবে শুনেছি তবে অফিশিয়ালি কোন আদেশ আমার হাতে এসে পৌছায়নি।