পাইকগাছা সংবাদ ॥ আমন উৎপাদন লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে


343 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাইকগাছা সংবাদ ॥ আমন উৎপাদন লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে
জানুয়ারি ২৪, ২০১৬ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

 

এস, এম, আলাউদ্দিন সোহাগ,পাইকগাছা (খুলনা) :
আবহাওয়ার অনুকুল পরিবেশ ও উপকরণের ঘাটতি না থাকায় এবার পাইকগাছায় আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে উৎপাদনের। তবে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় হতাশয় রয়েছেন সেখানকার কৃষকরা। তাদের মতে উৎপাদন ভালো হলেও বাজার দর ভালো না থাকায় ধান চাষে তাদের রীতিমত লোকসান গুনতে হচ্ছে। এতে করে চলতি বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কার পাশাপাশি আগামী মওসুমে আমন আবাদে আগ্রহ হারাবেন কৃষকরা এমনটাই মনে করছেন ভুক্তভোগীদের অনেকেই। এবছর উপজেলায় ১৬ হাজার ৯শ ৩০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। যা বিগত বছরের চেয়ে ৪৩০ হেক্টর বেশী। সংগ্রহ শেষে ৫১ হাজার মেট্রিক টন (চাল) উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আবহাওয়ার অনুকুল পরিবেশ, উপকরণের ঘাটতি না থাকা ও নিয়মিত পরামর্শ প্রাপ্তিতে এবার পাইকগাছায় আমন আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। গতবারের চেয়ে ৪৩০ হেক্টর বেশি পরিমান ১৬ হাজার ৯শ’ ৩০ হেক্টর জমিতে প্রায় ৫১ হাজার মেট্রিকটন চাল উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। যা থেকে এলাকার খাদ্য চাহিদা পূরণের পরও প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকবে বলেও দাবি অধিদপ্তরের।

তথ্যানুসন্ধানে জানাগেছে, দীর্ঘদিন যাবৎ পাইকগাছার বিস্তীর্ণ এলাকায় লবণ পানির চিংড়ি চাষ হয়ে আসছে। যে কারণে গত প্রায় এক যুগ ধান চাষ আশংকা জনক ভাবে হ্রাস পেয়েছিল। গত কয়েক বছরে চিংড়িতে অব্যাহত লোকসান ও কৃষি অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল সচেতনতামূলক ভূমিকায় কৃষকরা চিংড়ির পাশাপাশি ধান চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠে। গত কয়েক বছর সফলতাও এসেছে সেখান থেকে। তবে প্রতিবারের ন্যায় এবারও চিংড়ি ঘেরের হাজার হাজার বিঘা জমি পতিত ছিল। যেখানে ধান চাষ বাধ্যতা মূলক করা হলে উৎপাদন কয়েকগুন বৃদ্ধি পেতো বলেও কৃষি বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

প্রসঙ্গত, পাইকগাছা উপজেলায় মোট কৃষি জমির পরিমাণ রয়েছে ৩০ হাজার হেক্টর। যার মধ্যে চলতি মওসুমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ১৬ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করে। যেখানে কৃষকরা ১৬ হাজার ৯শ’ ৩০ হেক্টর জমিতে বিআর-২৩, ব্রি-৫২, ব্রি-৬২, বিনা-৭, ব্রি-৪৯, ব্রি-৩০, ব্রি-৩৩, ব্রি-১১ ও ব্রি ধান-১০ সহ বিভিন্ন উপযোগী উন্নত জাতের আমন আবাদ করে। ইতোমধ্যে কৃষকরা প্রায় শতভাগ ধান সংগ্রহ করেছেন। তবে আশাতীত উৎপাদনেও কৃষকদের চোখে-মুখে যেন বিষাদের ছাপ। চড়া সুদে ঋণ নিয়ে আবাদ করেছিলেন কৃষকদের অনেকেই কিন্তু বাজার মূল্য উৎপাদন খরচের থেকেও কম হওয়ায় তাদের যত কষ্ট। চলতি বোরো আবাদেও বাম্পার ফলন পাবেন বলে তারা মনে করলেও ন্যায্য মূল্য নিয়ে অজানা আশংকায় রীতিমত আতংকগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন তৃণমূল কৃষকদের অনেকেই। বান্দিকাটি আইপিএম কৃষি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান জানান, এবছর হেক্টর প্রতি সাড়ে ৪ মেক্ট্রিক টন উৎপাদন হয়েছে। যা অন্য বছরের চেয়ে অনেক ভাল। তবে স্থানীয় বাজারগুলোতে বর্তমানে ধানের দাম প্রতিমন বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা। ফলে উৎপাদন খরচের চেয়ে বিক্রয় মূল্য কম থাকায় লাভের পরিবর্তে তাদের লোকসানের পাল্লাই ভারী হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম জানান, এবছর বৃষ্টির ভাগ বেশী হওয়ায় উঁচু জমিতেও আবাদ ভালো হয়েছে, আবার স্থান বিশেষ পানি নিস্কাষণ ব্যবস্থা থাকায় নিচু জমিরও উৎপাদন ছিল আশানুরুপ। এসময় তিনি আরো বলেন, আমন বোরো ও আউশ মিলিয়ে  উপজেলায় মোট খাদ্য চাহিদা রয়েছে ৪৯ হাজার মেক্ট্রিক টন। এক্ষেত্রে আমনের যে উৎপাদন হয়েছে তাতে এলাকার চাহিদা পূরণ করেও ৭ হাজার মেক্ট্রিক টন খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকবে ।
##

পাইকগাছা কলেজটি প্রতিষ্ঠার ৪৯ বছর পার হলেও জাতীয়করন হয়নি

পাইকগাছা প্রতিনিধি :
প্রতিষ্ঠার ৪৯ বছরেও জাতীয়করণ হয়নি খুলনা জেলার সুন্দরবন সংলগ্ন অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঐতিহ্যবাহী পাইকগাছা কলেজটি। ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ৪৯ বছর পার করেছে এই ঐতিহ্যবাহী কলেজটি। নানা সময়ে জনপ্রতিনিধিরা কলেজটি সরকারিকরণের প্রতিশ্রুতি দিলেও আজ অব্দি আলোর মুখ দেখেনি। ফলে এ উপজেলার মেধাবী গরীব শিক্ষার্থীরা সরকারি কলেজে পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় কলেজটি অন্যতম সহায়ক হিসাবে ব্যবহার হয়ে এসেছে। তাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে থাকা ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানটি উপজেলার প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে জাতীয়করণের জোর দাবী জোরালো হয়ে উঠছে। উল্লেখ্য ২০১০ সালের ২৩ জুলাই আইলাবিধ্বস্ত এলাকা সফরে এসে পার্শ্ববর্তী উপজেলার বাগালি ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন মাঠে এক বিশাল জনসমাবেশে জননেত্রী শেখ হাসিনা দুটি উপজেলায় দুটি কলেজ জাতীয়করনের ঘোষনা দেন। সম্প্রতি কয়রা মহিলা কলেজ জাতীয়করন হয়।

 

পাইকগাছা উপজেলার এই ঐতিহ্যবাহী পাইকগাছা কলেজটি প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে রয়েছে। ঘোষণার পর সে সময় শিক্ষক শিক্ষার্থী ও এলাকার শিক্ষানুরাগী তথা সাধারণ মানুষ উল্লসিত অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা উপজেলায় বিশাল র‌্যালির মাধ্যমে আনন্দ উল্লাস প্রকাশ করেন। কিন্তু সেদিনের সেই আনন্দ উল্লস আস্তে আস্তে হতাশার অন্ধকারে ঢাকা পড়তে শুরু করেছে যেন। কলেজটি জাতীয়করণ হলে ছাত্র-ছাত্রী উভয়ই উচ্চ শিক্ষা অর্জন করতে পারবে। তাই কলেজটি জাতীয়করণ জরুরী বলে মনে করছেন স্থানীয় শিক্ষাবিদরা। পাইকগাছা কলেজটি জাতীয়করনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অত্র উপজেলার সকল শ্রেণী পেশার মানুষ। কলেজ সূত্রে জানা যায়, প্রশাসনিক, বিজ্ঞান, কলা ও বাণিজ্য ও অনার্স (সম্মান) শ্রেণী বিদ্যমান রয়েছে। এ কলেজে। উচ্চ মাধ্যমিক শাখায় ব্যবসায়িক শিক্ষা, বিজ্ঞান, মানবিক, ডিগ্রি পর্যায়ে বিবিএ, বিএ, বিএসএস ও  অনার্স (সম্মান) শ্রেণীতে বাংলা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজকর্ম ও ব্যবস্থাপনাসহ ৪টি বিষয় চালু রয়েছে এবং অপেক্ষমান আছে ৩ টি বিষয়। সকল বিভাগে ৬৪ জন শিক্ষক ও ১৩ জন কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছে। বর্তমানে কলেজটিতে প্রায় দু’হাজারের অধীক ছাত্র-ছাত্রী অধ্যয়নরত রয়েছে। ১৯৬৭ সালে বর্তমান পৌর সদরে ৫.৩৯ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ৮০ ‘র দশকে ১০ কক্ষ বিশিষ্ট ২ তলা কলা ভবন নির্মাণ হয়েছিল।

১৯৯৫ সালে ৩তলা বিশিস্ট ১২ টি রুমের বিজ্ঞান ভবন।  সকল বিভাগে আশানুরুপ ফলাফল অর্জন করে এই কলেজটি। অনার্স (সম্মান) শ্রেণীর বিগত ৩ বছরের ফলাফলে দেখা যায় শতভাগ পাশের রেকর্ড গড়ে ১ম বিভাগে উর্র্ত্তীর্ন হয় একাধিক ছাত্র-ছাত্রী। পাইকগাছা কলেজের গভংনিং বডির সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য এ্যাড. শেখ মোঃ নূরুল হক মহোদয় কলেজটি জাতীয়করনের জন্য ডিও লেটার প্রেরনের পর থেকে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে অত্র কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারী ও মেধাবীদের মধ্যে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ঐতিহ্যবাহী এ কলেজটি জাতীয়করনের জন্য জোর প্রচেষ্ঠা অব্যহত রেখেছেন। কলেজ অধ্যক্ষ ভারপ্রাপ্ত মিহির বরণ মন্ডল জানান-পাইকগাছা কলেজটি মুক্তিযুদ্ধের সময় অন্যতম ভূমিকা পালন করেছিল, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অত্র কলেজটি বহন করে। তাই শিক্ষার মানোন্নয়নে  উপজেলার প্রথম কলেজ হিসেবে এ কলেজটিকে সরকারিকরণ করা হলে এলাকায় শিক্ষার মান আরো বৃদ্ধি পাবে।
##
পাইকগাছায় লস্কর আ’লীগের প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি :
পাইকগাছায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লস্কর ইউনিয়নের বিএনপি পন্থি ইউপি চেয়ারম্যান কেএম আরিফুজ্জামান তুহিন বিএনপি থেকে আওয়ামীলীগে যোগদান করবেন এমন আশংকায় ৩ নং ওয়ার্ড আ’লীগের প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকালে লক্ষ্মীখোলা কলেজিয়েট স্কুলের সামনে আ’লীগনেতা ছদর উদ্দিন মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন আ’লীগনেতা গাজী রফিকুল ইসলাম, আফসার আলী মোল্লা, এ্যাডঃ ইদ্রিসুর রহমান মন্টু, আলহাজ্ব মুজিবর রহমান সানা, আবুল হামজা, জালাল উদ্দীন, শহিদুল্লাহ কায়সার, মোঃ ইব্রাহিম, শহিদুল ইসলাম খোকন, ইউনুচ মোল্লা, হারুণ মোল্লা, হাফিজুর রহমান, মুজিবর রহমান, গোলাম মোস্তফা গাজী, ফিরোজ গাজী, কোমর মোল্লা, জব্বার মোল্লা, ফেরদাউস মোল্লা, চঞ্চল সরদার, শহীদ মোল্লা, রফিক সরদার, কলিম সরদার, হাবিবুল্লাহ সরদার, সোনাই সরদার, নাজেম সানা, ইমরান হোসেন, সাদ্দাম মোল্লা, সমিরুল মোল্লা, আছলাম মোল্লা, জাহাঙ্গীর আলম ও মনজুরুল ইসলাম। ইউপি চেয়ারম্যান তুহিনের নিজ ওয়ার্ডেয় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তারা আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি-জামায়াতের কেউ যাতে আ’লীগে যোগ দিয়ে সুবিধা নিতে না পারে এ জন্য দলীয় উর্দ্ধতন নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।