স্বাস্থ্য অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে : সুপ্র


249 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
স্বাস্থ্য অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে : সুপ্র
এপ্রিল ৬, ২০১৬ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

‘স্বাস্থ্য অধিকার, মৌলিক অধিকার – চাই সাংবিধানিক স্বীকৃতি’ এই শ্লোগানকে সামনে নিয়ে  ৬ এপ্রিল ২০১৬, বুধবার, সকাল ১১.০০ মিনিটে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান-সুপ্র। সম্মেলনের সহ-আয়োজক হিসেবে ছিল দিনাজপুরের কাম টু ওয়ার্ক, কুমিল্লার দর্পণ, জামালপুরের আইজল, বরগুনার জাগো নারী, শরীয়তপুরের এসডিএস, কুষ্টিয়ার সেতু, সাতক্ষীরার স্বদেশ সাতক্ষীরা এবং চট্রগ্রামের ইপসা-এই ৮টি সংস্থা। শুরুতেই দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ডায়াবেটিস প্রতিরোধ’ বিষয়ে মূল বক্তব্য তুলে ধরেন সংবাদ সম্মেলনের প্রধান আলোচক সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি’র শীর্ষ সমন্বয়কারী ড. মুহাম্মদ আবদুল মজিদ। এর পূর্বে সুপ্র’র চেয়ারপার্সন আহমেদ স্বপন মাহমুদের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় সম্মেলনে শুভেচ্ছা বক্তব্য পাঠ করেন সুপ্র’র সাধারণ সম্পাদক ও ইপসা’র প্রধান নির্বাহী মো.আরিফুর রহমান এবং সম্মেলন পত্র পাঠ করেন সুপ্র’র জাতীয় পরিষদ সদস্য ও সেতু’র নির্বাহী পরিচালক এম এ কাদের। সম্মেলনে বক্তারা  সুস্পস্টভাবে দাবি জানান যে, নাগরিক স্বাস্থ্যের সকল দায়-দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে। এক্ষেত্রে মৌলিক অধিকার হিসাবে ‘স্বাস্থ্য’ কে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি প্রদান করতে রাষ্ট্রের পরিচালক সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সম্মেলনে বক্তারা  আরো বলেন, সরকার ঘোষিত রূপকল্প (ভিশন) ২০২১-এ স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নানামুখী পদক্ষেপ ও সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টা ও অর্জন প্রসংশনীয় সত্ত্বেও স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বরাদ্দের হার অত্যন্ত হতাশজনক। স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দের হার প্রতিবছর না বেড়ে বরং কমছে। মাঝারি মানের স্বাস্থ্যসেবার জন্য যেখানে জিডিপির ৩% বরাদ্দ থাকা দরকার সেখানে এখাতে বরাদ্দ মাত্র ০.৭৪ শতাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরো বলেন যে, সুপ্র দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য কার্ড প্রবর্তনের কথা বলে আসছিল। দেরীতে হলেও বিগত ২৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় পাইলট ভিত্তিতে টাঙ্গাইলের ৩ টি উপজেলায় (মধুপুর, কালিহাতী, ঘাটাইল) স্বাস্থ্য কার্ড চালু করল সরকার। দারিদ্যসীমার নীচে বসবাসরত ১ লাখ মানুষ এই প্রকল্পের আওতায় সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকার চিকিৎসা সুবিধা পাবে যা নি:সন্দেহে সরকারের প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে এক্ষেত্রে প্রকৃত ভূক্তভোগীরা যেন সুবিধা পায় সেজন্য সরকারকে কড়া নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির অধিকার থেকে বেশী বঞ্চিত পার্বত্য, চর, হাওর, বিল, উপকূল এবং শহরের বস্তি এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। সর্বোপরি সবার জন্য স্বাস্থ্য কার্ড নিশ্চিত করতে হবে।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে বক্তারা বলেন যে, স্বাস্থ্যখাতের বেসরকারিকরণ এখন সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে চলছে সামনের দিকে। ফলে স্বাস্থ্যকে অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টা দিনে দিনে অনেকটাই বিবর্ণ হতে চলেছে। স্বাস্থ্য অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে প্রদান করা হলেও, সেগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় নি। স্বাস্থ্যখাতের বেসরকারিকরণ সু®পষ্টভাবে স্বাস্থ্যসেবায় ধনী এবং দরিদ্রের বৈষম্যকে ক্রমশ প্রকট করে তুলছে।

বক্তারা আরো বলেন, ভেজাল ঔষধ ও খাদ্য সুস্থাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। সরকারকে এদিকে কড়া নজরদারি ও সুষ্ঠু পদক্ষেপ নিতে হবে। বক্তাগণ মানসিক স্বাস্থ্যে উন্নয়নে খুন, ধর্ষণসহ নানা ধরনের বর্তমান সমাজের অস্থির পরিস্থিতির সুষ্ঠু মোকাবেলায় সরকারের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সম্মেলনে বাজেট বিষয়ক নাগরিক মোর্চার সুবল সরকার ও ফিরোজা বেগম ছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক্স ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ ও সুপ্র সচিবালয়ের কর্মীবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে সুপ্র’র দাবিগুলো নি¤œরূপ তুলে ধরা হলো-

ক্স    মৌলিক চাহিদা নয়,স্বাস্থ্যকে মৌলিক অধিকার হিসেবে সংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে;
ক্স    স্বাস্থ্যখাতের বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ করাসহ সরকারিভাবে সবার জন্য স্বাস্থ্যবীমার ব্যবস্থা করতে হবে;
ক্স    জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি ২০১১ অনুসারে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতি ৬০০০ জনগোষ্ঠীর জন্য ১ টি করে কমিউিনিটি ক্লিনিক স্থাপন নিশ্চিত করতে হবে এবং  ক্লিনিকগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন ও তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে;
ক্স    জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে কমপক্ষে জিডিপি-র ৩ শতাংশ বা মোট বাজেটের ১০ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দকৃত বাজেটের সিংহভাগ বেতন, ভাতা বাবদ নয় বরং জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে ব্যয় করা এবং বাজেট ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে;
ক্স    নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ এর যথাযথ বাস্তবায়ন এবং ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ বিল-২০১৫ এর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে;
ক্স    স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে  বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ব্যবস্থা করতে হবে;
ক্স    ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সকল হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ঔষুধপত্র এবং চিকিৎসা সরঞ্জামাদি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি