কপিলমুনি সংবাদ ॥ আমির আলীর ‘একটি বাড়ি একটি খামার’


126 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly
কপিলমুনি সংবাদ ॥ আমির আলীর ‘একটি বাড়ি একটি খামার’
জানুয়ারি ১১, ২০১৭ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি ::
কঠোর পরিশ্রম, অদম্য ইচ্ছা ও ধর্য্যের সাথে কোন কাজ করলে যে সফলতা অনিবার্য; তারই প্রমান দিয়েছেন কপিলমুনির চাষী আমির আলী। দারিদ্রতার নির্মমতা যেন তার কাছে অসহায় হয়ে গেছে। আর্থিক কষ্ট আর পরনির্ভরশীলতাকে গুডবাই জানিয়ে তিনি এখন স্বাবলম্বী একজন মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, কপিলমুনির ধোনারদোয়ানিয়া গ্রামের মৃতঃ মেছের আলী গাজীর ছেলে আমির আলী গাজী অত্যন্ত গরীব অসহায় ছিলেন। সরকার তাকে সাড়ে ৪ বিঘা জমি বন্দোবস্ত দেয়। ১৯৯২সাল থেকে সেই জমিই যেন আমির আলীর সংগ্রামস্থল। সেখানে তিনি মৎস্য ঘের করলেও তাতে সফল হননি। ২০১০ সালের দিকে পুকুর কেটে মাটি ভরাট করে লবন পানি মুক্ত করে শুরু করেন নতুন চাষাবাদ। তার বাগানে ৫৪০টি খেজুর গাছ, ৩১০টি বিভিন্ন জাতের কুল গাছ, ৮টি তেঁতুল গাছ, ২০টি কেওড়া ও উড়া গাছ, ৭টি কদবেল গাছ, এছাড়া কাঠবাদাম, বাবলা, পেয়ারা, শিমুল, সজিনা, কালোজাম সহ বিভিন্ন প্রকারের ফলজ ও বনজ গাছ রোপন করেছেন। কুল বাগানের মধ্যে চাষ করেছেন উন্নত জাতের সাদা বেগুন ও পুইশাক। শুধু তাই নয়, বছরের বারো মাসই তিনি বিভিন্ন সবজি ও শাকের চাষ করে থাকেন। চলতি বছর মোটাংকের টাকার কুল ও পুইশাক বিক্রি করেছেন।
ধোনারদোয়ানিয়া মৌজার এক মাত্র বাসিন্দা ৬০ ছুইছুই আমির আলী ব্যক্তি জীবনে নিঃসন্তান, স্ত্রী নিয়ে ওই সবুজে ঘেরা ফসলের ক্ষেতই যেন তার স্বাধীন দুনিয়া। তিনি ওখানেই বসত ঘর বেঁধে বসাবাস করেন। দিন রাত তিনি মাটির বুক চিরে সবুজ ফসল ফলানোর বিরামহীন যুদ্ধে লেগে থাকেন। শুধু শাক-সবজি আর বৃক্ষ রোপন নয়, তিনি গৃহপালিত পশু পালনেও জোর দিয়েছেন। আমিরের বর্তমানে ৫০ টি ভেড়া রয়েছে। বাগানের ভিতরে ৩৩শতক জমির একটি পুকুর রয়েছে, যা থেকে বছরে খরচ বাদেও ১৫-২০হাজার টাকা আসে।
এ বিষয়ে আমির আলী বলেন, ‘আমি হাড়িয়া নদীর চরভরাটের খাস জমি, বন্দোবস্ত নিয়ে চাষাবাদ করে যাচ্ছি, পাশে অবস্থিত হাড়িয়া নদীর লোনা পানির প্রভাবে একটু ক্ষতির সম্মুখিন হতে হয়, তারপরও সকল প্রতিকুলতা কাটিয়ে ফসল ফলিয়ে বেশ ভাল আছি। তবে চাষের জন্য সরকারী সহায়তা পেলে আরো বেশি এগিয়ে যেতে পারতাম’কপিলমুনি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অরুন কুমার পাল বলেন, ‘আমির আলীর সবুজ ফসলে ঘেরা বাড়ি আমি পরিদর্শন করেছি। তিনি একজন সার্থক চাষী বলে আমার মনে হয়েছে। তিনি ফসল ফলানোর জন্য নিরলস পরিশ্রম করেন, আমি তার উন্নতি কামনা করি’। সচেতন এলাকাবাসীর মতে, আমির আলী মাত্র ৬ বছরের চাষাবাদে তিনি ভাগ্যের ব্যাপক পরিবর্তন দেখিয়েছেন। এসমাজের চাষী পরিবারগুলো যদি চাষাবাদে এমন সচেষ্ট হতো তাহলে হয়তো বাংলার অনাচে কানচে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ গড়ে উঠতো।
কপিলমুনিতে বঙ্গবন্ধু’র স্বদেশ
প্রত্যাবর্তন দিবস পালন
কপিলমুনি প্রতিনিধি ::
কপিলমুনিতে যুবলীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় বালির মাঠ সংলগ্ন যুবলীগ কার্যালয়ে কপিলমুনি ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মোঃ ইউনুস আলী মোড়লের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পাইকগাছা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এস এম শামছুর রহমান, প্রধান বক্তা ছিলেন উপজেলা যুবলীগের সাঃ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কাজল কান্তি বিশ্বাস, বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি জি এম ইকরামুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি এস এম রেজাউল হক। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কপিলমুনি ইউপি চেয়ারম্যান আ’লীগ নেতা মোঃ কওছার আলী জোয়ার্দার, বক্তব্য রাখেন কপিলমুনি ইউনিয়ন আ’লীগের সাঃ সম্পাদক শেখ ইকবাল হোসেন খোকন, সরদার মোজাফ্ফর হোসেন, গাজী মিজানুর রহমান, গৌরঙ্গ মন্ডল,  শেখ আবুল কালাম আজাদ, মোস্তাফিজুর রহমান মিন্টু, প্রকাশ মন্ডল, গাজী হারুঅর রশীদ, রজীব গোলদার, প্রকাশ সাহা, আছাদ হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, মধুসুদন হালদার, দীপক বিশ্বাস, সিদ্দিকুর রহমান, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শেখ মনিরুল ইসলাম চঞ্চল, মোঃ আনারুল ইসলাম ডাবলু, ইমরান মোল্যা, শোভন, শাহীন প্রমুখ। সভাটি পরিচালনা করেন কপিলমুনি ইউনিয়ন যুবলীগের সাঃ সম্পাদক শুভংকর রায় শুভ।