শ্যামনগরে ৩০ লাখ টাকার টেন্ডারবাজি : প্রকল্প কর্মকর্তা জাফর রানার দৌড়ঝাপ


477 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly
শ্যামনগরে ৩০ লাখ টাকার টেন্ডারবাজি : প্রকল্প কর্মকর্তা জাফর রানার দৌড়ঝাপ
জানুয়ারি ১১, ২০১৭ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly

মনজুর কাদীর ::
শ্যামনগরে প্রায় ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে গোপনে সমঝোতার মাধ্যমে সেতু নির্মাণ কাজের টেন্ডার প্রদানকারী স্থানীয় প্রকল্প কর্মকর্তা জাফর রানা নিজেকে রক্ষা করতে নানা মহলে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন। বিশেষ করে শ্যামনগর ও সাতক্ষীরার সাংবাদিকদেরকে ম্যানেজ করতে তিনি মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

আর যাতে কোন পত্রিকায় ফলোআপ সংবাদ প্রকাশিত না হয় সেজন্য তিনি স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকদেরকে দিয়ে সাংবাদিক মহলে নানা ভাবে তদবীর শুরু করেছেন। মোটা অংকের টাকারও অফার করছেন তারা।

বুধবার সকাল থেকেই সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক দফায় জাফর রানার পক্ষে অবস্থান নিয়ে ভয়েস অব সাতক্ষীরা সম্পাদকের  কাছে শ্যামনগরের দুইজন সাংবাদিক মোবাইলে রিং করেন। তারা ফলোআপ রিপোর্ট না করার জন্য তদবীর করেন।

একজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার পক্ষ নিয়ে কেনো বার বার মোবাইলে বিরক্ত করছেন কঠোর ভাষায় জানতে চান ভয়েস অব সাতক্ষীরার সম্পাদক এম কামরুজ্জামান। এরপর থেকেই পিছুহটে সুপারিশকারী ওই দুই সাংবাদকর্মী।

প্রসঙ্গত, শ্যামনগরে যথাযথ প্রক্রিয়ায় লটারি না করেই  গোপন সমঝোতার মাধ্যমে সেতু নির্মান টেন্ডারের  কাজ বিতরন করার অভিযোগ ওঠে।
সাতক্ষীরার  ঠিকাদাররা এ অভিযোগ করে বলেন তারা প্রত্যেকেই সিডিউল ক্রেতা। অপেক্ষায় ছিলেন লটারির । অথচ গত সোমবার দুপুর ১২ টায় শ্যামনগরে  যেয়ে জানতে পারেন লটারি হয়ে গেছে। কিভারে কাকে নিয়ে লটারি হলো কে কে এ লটারির সময় উপস্থিত ছিলেন সে সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দিতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।
তবে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সায়েদ মো. মঞ্জুর আলম বলেন ‘ ঠিকাদারদের অভিযোগ সত্য নয়। নিয়ম অনুযায়ী সবাইকে লটারির তারিখ ও সময় জানানো হয়েছে। লটারি কোনো প্রকার সমঝোতা ছাড়াই যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে’। তিনি বলেন লটারির সময় আমি নিজেই সেখানে উপস্থিত ছিলাম।
ঠিকাদাররা অভিযোগ করে বলেন পাতানো টেন্ডারে প্রতিটির বিপরীতে সর্বনি¤œ এক লাখ টাকা  হিসাবে সর্বমোট ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন শ্যামনগর ইউএনও অফিসের প্রকল্প কর্মকর্তা জাফর রানা।  তারা এই টেন্ডার বাতিল করে নতুন করে বিধি অনুযায়ী লটারির  দাবি জানান।
শ্যামনগর থেকে ঠিকাদার নুরুদ্দিন মাহমুদ, আজমল হোসেন, মো. ইলিয়াস হোসেন, শাহেদুর রহমান, শেখ সাঈদুর রহমান, কাজী আখিরুল ইসলাম, শেখ সাদেকুর রহমান, শাহজাহান আলম নাহিদুল ইসলাম, এমএ রব, দেবহাটার মুকুল হোসেন, আশাশুনি উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি, ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা সাকিলের প্রতিনিধি, সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আলমের প্রতিনিধি জানান তারা জেলা ত্রাণ অফিস থেকে  ২৭ গ্রুপের সিডিউল ক্রয় করেন এবং ২৯ ডিসেম্বর  তা ড্রপ করেন।  প্রায় ১৫ কোটি টাকায় ২৭ টি সেতু নির্মান বিষয়ক এই টেন্ডারের লটারি হবার নির্দিষ্ট দিন তারিখ কিছুই তাদের জানানো হয়নি। এ ব্যাপারে তারা শ্যামনগরের প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার জাফর রানাকে দায়ী করে বলেন তিনি গোপন সমঝোতা করে কাজ ভাগ করে দিয়ে আর্থিক সুবিধা লাভ করেছেন। যারা সমঝোতায় এসেছেন এমন কয়েকটি নাম জানিয়ে তারা বলেন ভাগ্যবান সে সব ঠিকাদার কাজ পেয়েছেন।
ঠিকাদাররা বলেন তারা আগে থেকেই এমনটি আঁচ করেছিলেন। এজন্য জেলা প্রশাসকের কাছে প্রায় ৬০ জন ঠিকাদার আবেদনও  করেছিলেন স্বচ্ছ টেন্ডারের জন্য। কিন্তু সে আবেদন কর্তৃপক্ষের মন গলাতে পারেনি।
সোমবার রাতে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এসে ঠিকাদার এসএম সামসুজ্জামান, ইসমাইল হোসেন, মীর মোশাররফ হোসেন মন্টু, জাকির হোসেন, আসাদুজ্জামান সেলিম , আবদুর রাজ্জাকসহ অনেক ঠিকাদার  সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে আরও বলেন তাদেরকে নোটিশ না দিয়ে গোপনে পাতানো কায়দায় লটারির সেরেছেন কর্তৃপক্ষ। তারা বলেন আগের রাতেও লটারির কথা তাদের জানানো হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী সাত দিন আগে তাদের নোটিশ দিয়ে জানানোর কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপনও দেওয়া যেতো , সেটাও করেন নি কর্র্তৃপক্ষ। তারা জানান যারা কাজ পেয়েছেন এমন ৩০ থেকে ৩২ জনকে উপস্থিত দেখিয়ে কথিত লটারি করা হয়েছে। অথচ  সিডিউল ড্রপকারীর সংখ্যা ছিল ১২০ জনেরও বেশি। তারা এই টেন্ডার বাতিলের দাবি জানান।
বিষয়টি জানতে চেয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জাফর রানার সাথে বারবার  যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেছে। রাত দশটায় জাফর রানাকে টেলিফোনে পাওয়া যায়। তিনি বলেন লটারিতে কখনও বেশি ঠিকাদার থাকেন না। তিনি জানান সবার মোবাইল নম্বর তার জানা নেই এজন্য কালিগঞ্জ ও দেবহাটা ঠিকাদার সমিতিকে জানিয়েছিলেন লটারির দিন তারিখ।
অপরদিকে  উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন তার সামনেই লটারি হয়েছে। অভিযোগ সত্য নয়।
ঠিকাদাররা শ্যামনগরের টেন্ডার বাতিলের জোর দাবি জানিয়ে বলেন আরও ছয়টি উপজেলায় মোট ৮৩ টি গ্রুপের লটারি হবে। সেগুলি যাতে বিধি অনুযায়ী হয় এবং সকল ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা থাকে তা নিশ্চিত করার জন্য তারা  জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।
###