পারুলিয়া গুচ্ছগ্রাম এলাকায় যাত্রার নামে চলছে নগ্ন নৃত্য, জুয়ার আসর


351 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পারুলিয়া গুচ্ছগ্রাম এলাকায় যাত্রার নামে চলছে নগ্ন নৃত্য, জুয়ার আসর
জানুয়ারি ২১, ২০১৭ দেবহাটা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

মনজুর কাদীর, ক্রাইম রিপোর্টার ::
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা পরিষদ ও থানা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে পারুলিয়া গুচ্ছগ্রাম সাইক্লোন সেন্টার এলাকায় যাত্রার নামে চলছে যুবতীদের নগ্ন নৃত্য, মদ গাজা ও জুয়ার আসর। প্রকাশ্যে অসামাজির এই কাজের বিনিময়ে প্রতিরাতে লুটে নেয়া হচ্ছে হাজার হাজার টাকা। আর অন্যদিকে যাত্রা প্যান্ডেলের পাশে বসছে জুয়া ও মদ গাজার আসর। এধরনের কার্য্যকলাপের কারনে ঐ এলাকায় প্রতিদিন আইন শৃঙ্খলা পরিপহ্নী কাজ যেমন ঘটছে তেমনি বিপথগামী হচ্ছে উঠতি বয়সের যুবকরা।

এ ব্যাপারে দেবহাটা থনার ওসি মামুন অর রশিদ ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে বলেন, জেলা প্রশাসক সারা রাত ধরে যাত্রা চলার অনুমতি দিয়েছেন। পুলিশ রাত ১ টা পর্যন্ত সেখানে ডিউটি করে। রাত ১ টার পরে পুলিশ চলে আসে। এর পরে সেখানে কি হয় তা আমার জানানেই। তিনি আরও বলেন, এলাকার মানুষ নগ্ন নৃত্যের বিষয়টি জানানোর পর আমিসহ দেবহাটার ইউএনও ও স্থানীয় চেয়ারম্যান গিয়ে যাত্রা বন্ধ করে দিয়ে আসি। কিন্তু এর পরও তারা চালাচ্ছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, মোকরেম শেখ এর নামে যাত্রার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনি এলাকার খুবই প্রভাবশালী। সেখানে প্রতি রাতেই যাত্রার নামে নগ্ন নৃত্য চলছে। কিন্তু সে এতোটাই প্রভাবশালী যে, বলার সাহস কারো নেই। আমি লোক পাঠিয়ে দেখেছি গভীর রাতে সেখানে নগ্ন নৃত্য , জুয়ার আসর বসছে সেখানে।

দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ-আল-আসাদ শনিবার সন্ধ্যায় ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে বলেন, ডিসি স্যার যেভাবেই অনুমতি দিয়েছেন, সেভাবেই সেখানে সব কিছুই চলছে। নগ্ন নৃত্য, জুয়া,মদের অনুমতি রয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই অনুমতিপত্রটা পড়ে দেখেন। ওখানে যা যা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাই হচ্ছে। গত ১৭ তারিখ যাত্রা স্থলে গিয়ে তাহলে বন্ধ করে দিয়েছিলেন কি জন্য ? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গিয়ে ছিলাম সত্যি কিন্তু বন্ধ করে দেয়নি। ওসি ও স্থানীয় চেয়ারম্যান তো বলছে বন্ধ করে দিয়ে ছিলেন, তাহলে কার কথা সত্যি ধরে নেবো ? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আর মন্তব্য করতে চাননি। কিছুক্ষণ চুপ থেকে ——–ওই কর্মকর্তা আবারও বললেন, ডিসি স্যার যেভাবেই পারমিশন দিয়েছেন সেভাবেই হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে বলেন, আমার কাছেও অভিযোগ রয়েছে সেখানে অসামাজিক কর্মকান্ড হচ্ছে। দেবহাটার ইউএনও ছুটিতে রয়েছে। আগামী কাল কর্মস্থলে আসবেন। কাল  (রোববার ) এটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে। যাতার নামে এ ধরনের অসামাজিক কর্মকান্ড কোন ভাবেই হতে দেওয়া হবে না।

সরেজমিনে জানা গেছে, ওই এলাকার প্রভাবশালী বর্তমানে পারুলিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও ভূমিহীন নেতা মোকরেম শেখ সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের নিকট থেকে মেলা করার অনুমতি নিয়ে স্থানীয় কিছু লোকের সহযোগীতায় এই কাজ করে চলেছে। গত ১ সপ্তাহ যাবত স্থানীয় প্রশাসন, গনমাধ্যমকর্মী ও রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করে যুবতীদের দিয়ে প্রতিদিনই নগ্ন নৃত্যের আসর বসছে সেখানে।

নগ্ন নৃত্য দেখতে দেবহাটা এলাকার পাশাপাশি পাশর্^বর্তী কালীগঞ্জ ও আশাশুনি উপজেলা থেকেও দর্শকেরা আসছে। প্রাপ্ত তথ্য মতে, যাত্রা গানের নামে নগ্ন নৃত্যের পাশাপাশি যাত্রা প্যান্ডেলের পাশে রামী, তিন গুটি ফ্লাশ, তিন তাস ফড়সহ নানাধরনের জুয়া খেলা চলছে নির্বিঘেœ। যাত্রা গানের তালে তালে চলছে প্রকাশ্যে মদ্য পান। আর এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে বিক্রি করছে মদ। কিন্তু এ ধরনের কাজগুলো প্রকাশ্যে চললেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রয়েছি নিশ্চুপ।

গত মঙ্গলবার রাতে এধরনের অসামাজিক কাজের খবর পেয়ে পারুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম নিজে যেয়ে যাত্রা বন্ধ করে দেন। কিন্তু তারপরেই আবার সকলকে ম্যানেজ করে যাত্রা শুরু হয়। ঐ দিনই দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ-আল-আসাদ যাত্রা স্থলে যান। কিন্তু নির্বাহী কর্মকর্তার আগমনের খবর আগে থেকে ফাঁস হয়ে চতুর মেলা আয়োজনকারীরা সকল ধরনের অসামাজিক কাজ বন্ধ করে দেয়। কিন্তু নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরে আসার পরপরই আবারো শুরু হয় সকল অসামাজিক কর্মকান্ড। যাত্রার মূল আয়োজনকারী মোকরেম শেখ সকলকে বলেছেন তিনি জেলা প্রশাসন , দেবহাটা উপজেলা প্রশাসনসহ প্রভাবশালী  রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করে এই যাত্রা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই যাত্রা বন্ধ করার কেউ নেই। বিষয়টি সুধীমহল স্থানীয় জেলা প্রশাসনের আশু হন্তক্ষেপ কামনা করেছেন।