পাইকগাছায় তরমুজের বাম্পার ফলন !


143 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাইকগাছায় তরমুজের বাম্পার ফলন !
মে ৬, ২০১৭ কৃষি খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস,এম আলাউদ্দিন সোহাগ ::
খুলনার পাইকগাছায় চলতি মৌসুমে তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। হেক্টর প্রতি উৎপাদন হয়েছে ৩৭ মেট্রিকটন। বাম্পার ফলন ও উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে বেড়েছে তরমুজের আবাদ। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে যা বিগত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। এদিকে অতিতের যে কোন সময়ের চেয়ে চলতি মৌসুমে তরমুজের বাম্পার ফলন হওয়ায় অধিক লাভবান হয়েছেন তরমুজ চাষীরা। আবাদ এলাকা পরিদর্শন করে চলতি মৌসুমের তরমুজের উৎপাদনকে ইতিবাচক ভাবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ। সূত্রমতে, উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় লবণ পানির চিংড়ী চাষ হওয়ায় এলাকার বেশিরভাগ কৃষি জমি রয়েছে লবণাক্ত। ফলে মাত্রারিক্ত লবণাক্ততার কারণে ব্যহত হয় কৃষি ফসল উৎপাদন। এদিকে লবণাক্ত জমিতে তরমুজ চাষ কৃষি ফসল উৎপাদনের জন্য এলাকায় নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২শ হেক্টর জমিতে উন্নত ড্রাগন ও পাকিজা জাতের তরমুজের
আবাদ হয়েছে। যার মধ্যে দেলুটিতে ১৭৫ এবং গড়ইখালীতে ২৫ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। যা বিগত বছরের তুলনায় দ্বিগুন। অত্র এলাকা তরমুুজ চাষের জন্য সমৃদ্ধ হলেও অতিতের যে কোন বছরের চেয়ে চলতি মৌসুমে তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট চাষীরা জানিয়েছেন। এ বছর হেক্টর প্রতি উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৪০ মেট্রিকটন। সৈয়দখালী এলাকার কৃষক শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ৫০ শতক জমিতে তরমুজের আবাদ করেছেন। বাম্পার ফলন হওয়ায় ৫০ শতক জমিতে উৎপাদিত তরমুজ বিক্রি করে তিনি প্রায় দেড় লক্ষ টাকা বিক্রি করেছেন বলে জানিয়েছেন। দেলুটি ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল জানান, কৃষি বিভাগের সার্বিক তদারকিতে ইউনিয়নের ২২নং পোল্ডারে এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদিত তরমুজ বিক্রি করে কৃষকরা বিঘা প্রতি আয় করছেন প্রায় ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এ বছর ভাল ফলন হওয়ায় লবণাক্ত এলাকায় তরমুজ চাষ নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। চলতি মৌসুমে ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হবে বলে স্থানীয় এ জনপ্রতিনিধি মনে করছেন। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, তরমুজ একটি লাভজনক ফসল, বীজ রোপন থেকে ৬০ দিনের মধ্যে বাজারজাত করা যায়। এ জন্য অন্যান্য ফসলের তুললনায় তরমুজের উৎপাদন খরচ অনেক কম। এছাড়া লবণ, সহিষ্ণ ও সেচ খরচ কম হওয়ায় তরমুজ চাষে কৃষকরা অধিক লাভবান হন। কৃষি বিভাগের এ কর্মকর্তা জানান, বিগত বছরের তুলনায় দ্বিগুন জমিতে চলতি মৌসুমে তরমুজের আবাদ হয়েছে। গত বছর ১০৫ হেক্টর এবং তার আগের বছর মাত্র ৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়। উৎপাদন খরচ কম এবং লাভজনক হওয়ায় চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২শ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সার্বিক তদারকি ও সহযোগিতা করায় এ বছর প্রায় ৪০ মেট্রিকটন তরমুজের গড় উৎপাদন হয়েছে। উৎপাদন ভাল হওয়ায় একদিকে তরমুজ চাষীরা যেমন লাভবান হয়েছেন তেমনি অন্যান্য চাষীদের মধ্যে তরমুজ চাষে আগ্রহ বেড়েছে। ফলে আগামী বছর তরমুজের আবাদ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।