কালিগঞ্জে উন্নয়নের স্মৃতিচিহ্ন রেখে চলেছেন ওসি জায়াদুল!


2529 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কালিগঞ্জে উন্নয়নের স্মৃতিচিহ্ন রেখে চলেছেন ওসি জায়াদুল!
জুলাই ২, ২০১৭ কালিগঞ্জ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

সোহরাব হোসেন সবুজ, নলতা ::
প্রথমেই হয়ত ভাববেন পুলিশের তেল দেওয়া। কিন্তু না। সত্য আর বাস্তব চিত্র তুলে ধরাই তো সংবাদ কর্মীর কাজ। সেটা হোক খারাপ বা ভাল দিক। হোক কোন শাসনকর্তার চিত্র বা শোষিতের। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পদে বিভিন্ন কর্মকর্তাদের আগমন আর প্রস্থান তো থাকেই। এর মধ্যে সফলতা আর ব্যর্থতার স্মৃতিও থাকে অনেক। কারো আবার শূণ্য।

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ থানায়ও বিধি অনুযায়ী এ পর্যন্ত অনেক পুলিশ পরিদর্শকের (ওসি’র) আগমন ঘটেছে। অনেকে অনেক কিছু নিয়ে বা রেখে গেছেন। হয়ত স্মৃতি। সিক্ততা বা তিক্ততা। এর মধ্যে ২০১৬ সালের ১১ মে আগমন ঘটেছিল বর্তমান ওসি লষ্কর জায়াদুল হকের। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসাবে

কাটিয়েছেন প্রায় ১ বছর ১ মাস। এই বছর খানেকের মধ্যে কালিগঞ্জে উন্নয়নের স্মৃতিচিহ্নের পাতায় তাঁর নামটি স্থান পেয়েছে বলে মনে করেন অনেকেই।

সরেজমিনে জানাযায়, কালিগঞ্জ থানার মধ্যে ছিল কোন রকম একটি পাঞ্জেগানা। তাও আবার জরাজীর্ণ। থানা পুলিশের সদস্য ও থানায় আগমনরত অতিথিদের এবাদতের জন্য প্রথমে তিনি নজর দেন এ পাঞ্জেগানার দিকে। ছোট হলেও তিনি পাঞ্জেগানাটি করেন রুচিসম্মত ও উন্নত।

এজন্য হয়ত নিতে হয়েছে অনেকের সাহায্য। তবুও তিনি কুন্ঠাবোধ করেননি। প্রায় ২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে টাইলস ও এসি লাগিয়ে সেটা মুসল্লিদের জন্য হয়ে উঠেছে শান্তির এবাদতের স্থান। এরপর তিনি নজর দেন কালিগঞ্জ পোষ্ট অফিসের সামনে বড় মসজিদটির দিকে। সেটাও ছিল জরাজীর্ণ।

পথচারী ও স্থানীয় মুসল্লিরা কষ্ট পেত নামাজ আদায় করতে। তিনি নিজের জন্য না। মসজিদটির জন্য হয়ত হাত পেতেছেন অন্যের কাছে। সাহায্যের আহব্বান জানিয়েছেন। অনেকেই করেছেন, অনেকে করেননি। তবুও শত শত মুসল্লির দিকে তাকিয়ে হাত দিয়েছেন মসজিদের উন্নয়নের কাজে।

প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে কাজও শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছে। মসজিদে মুসল্লিদের মধ্যে পড়েছে স্বস্থির নিশ্বাস। মাহফিলসহ বিভিন্ন মঞ্চে তিনি বক্তব্য দিয়েছেন এলাকার মানুষকে সঠিক ও সুন্দর পথে থাকার জন্য। শিশু শিক্ষার প্রসারের জন্য সহযোগিতা করেছেন নলতার আহছানিয়া দরবেশ আলী ক্যাডেট স্কুলে।

থানাকে সুরক্ষা ও সুন্দরভাবে পর্যবেক্ষনের জন্য সমগ্র থানাকে তিনি করেছেন ডিজিটালাইজেশন। প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সার্কিট ক্যামেরা বসিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। সম্ভাবত জেলার মধ্যে প্রথমেই ডিজিটালাইজেশন করা হয়েছে এ থানাকে।

এগুলো না করে শুধু নিজের পকেট ভারীর দিকে খেয়াল থাকতে পারত। কিন্তু না। যতদুর জানা যায়, বাবা হিসাবে তাঁর মেধাবী ছেলে-মেয়ে দুইজনকে মানুষের মত মানুষ করার চেষ্টা করে চলেছেন ।

এভাবে লষ্কর জায়াদুল হক এগিয়েছেন বিভিন্ন কাজে। মানবতার পথে। জনসাধারণও আশা করেন তিনি থাকবেন ন্যায় ও সত্যের পথে। যদিও এ পদে থেকে সবকিছু বজায় রাখা কঠিন।

লষ্কর জায়াদুল হক কালিগঞ্জের স্থানীয় ব্যক্তি নন। কোন রাজনৈতিক ব্যক্তি নন। কোন দিন নির্বাচনও করবেন না এলাকায়। কিছু চোর-ডাকাত, আসামী তাড়িয়ে চলে যাওয়া হয়ত ছিল তার দায়িত্ব। কিন্তু এতসব কাজের দিকে নজর দেওয়ার প্রয়োজনও বা কি? হয়ত হতে পারে এটি তাঁর নেশা।

হয়ত তাঁর ওসি হিসাবে চলে যাওয়ার সময় হয়েছে। তবুও থেমে নেই তাঁর কাজের হাত। তবে, সমাজের যেকোন পেশায় থেকে সমাজের জন্য যে কিছু করা যায় সেটিই প্রতীয়মান। সে হোক সমাজের ছোট বা বড় মাপের কোন ব্যক্তির দ্বারা। ধনী বা গরীব। মূল কথা হচ্ছে কাজের জন্য কাজ করলে সফলতা আসবেই। আর সেই সফলতার তৃপ্তি ভোগ করবে একাল ও সেকালে।

সমাজ বা দেশের জন্য কিছু করতে পারলে কেন মানুষ তাঁর স্মৃতির পাতায় স্মরণ রাখবে না। আসা যাওয়ার মাঝে কিছু রেখে যাওয়াই তো স্মৃতি। তবে হোক সেটা মানুষের কল্যাণের জন্য।

##