কালিগঞ্জে ইউপি সদস্যকে বাদ দিয়ে ভিজিএফ’র গম বিতরন করলেন চেয়ারম্যান


193 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly
কালিগঞ্জে ইউপি সদস্যকে বাদ দিয়ে ভিজিএফ’র গম বিতরন করলেন চেয়ারম্যান
জুলাই ১৫, ২০১৭ কালিগঞ্জ ফটো গ্যালারি
Print Friendly

ইব্রাহিম খলিল ::
বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিপক্ষের হয়ে কাজ করা ও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুদকে ১০ টাকা দরের সরকারি চাল বিতরনে দূর্ণীতির অভিযোগ করায় এক ইউপি সদস্যকে বাদ দিয়েই তার ওয়ার্ডে ভিজিএফ এর গম বিতরন করা হয়েছে। শনিবার সকাল ১০ টা থেকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার চম্পাফুল ইউনিয়নে এ চাল বিতরন করা হয়।
চম্পাফুল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড সদস্য আবুল কালাম আজাদ জানান, গত বছরের ২২ মার্চ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল লতিফের পক্ষে কাজ করেন তিনি। ইউপি সদস্য পদে তিনি জয় লাভ করলেও চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আব্দুল লতিফ পরাজিত হন। সেখানে জয়লাভ করেন মোজাম্মেল হক গাইন। শপথ নেওয়ার পর থেকে চেয়ারম্যান তাকে ভাল চোখে দেখতেন না। এমনকি গত বছরের ঈদ উল ফিতরের জন্য তার ওয়ার্ডে সরকারি বরাদ্দকৃত চাল তার মাধ্যমে বিতরন না করে সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য শ্যামলী সরকারের মাধ্যমে বিতরন করেন ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক গাইন। বিগত নির্বাচনে জয়লাভ করলেও পরিষদের কোন সভায় তাকে ডাকা হয় না।
তিনি আরো জানান, গত বছরে ১০ টাকা কেজি দরে সরকারি চাল বিতরনে ব্যাপক অনিয়ম হওয়ায় তিনি দূর্ণীতি দমন কমিশনে অভিযোগ করলে তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় গত ১৪ জুন দুদকের খুলনা শাখার সহকারি পরিচালক রাজ কুমার সাহা বাদি হয়ে চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক ও নয়জন ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে কালিগঞ্জ থানায় মামলা করেন। গত সোমবার তারা মহামান্য হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের জন্য অন্তবর্তীকালিন জামিন লাভ করেছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে বরাদ্দকৃত ভিজিএফ কার্ডের গম এলাকাবাসীর মধ্যে বিতরন করে তা কালোবাজারে বিক্রির জন্য মজুত রাখার অভিযোগ পেয়ে ত্রান ও পূর্ণবাসন বিভাগের সাতক্ষীরা শাখার সহকারি কমিশনার সাফিয়ার আফরিন কালিগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জু গত রোববার সরেজমিনে ঘটনার সত্যতা পেয়ে পরিষদের গুদাম ঘরে সিলগালা করে দেন। ওইগম গত বুধবার, বৃহষ্পতিবার ও শনিবার বিতরন করেন ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১১জন ইউপি সদস্য। তবে ট্যাগ অফিসার কালিগঞ্জ উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সোহরাব হোসেনকে বলেও কোন লাভ হয়নি। এ ছাড়া সাত নং ওয়ার্ডের সদস্য ঠাকুরপদ সরকার তার জন্য বরাদ্দকৃত ২৪০টি কার্ডের মাল না নিয়ে ১৫৮ টি কার্ডের গম বিতরন করায় তার ওয়ার্ডের ৮২ জন গম পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ট্যাগ অফিসার সোহরাব হোসেন জানান, আট নং ইউপি সদস্য আবুল কালামের অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মল হক গাইন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শে আবুল কালাম আজাদের পরিবর্তে মহিলা ইউপি সদস্য শ্যামলী সরকারকে দিয়ে প্রকৃত গরীবদের গম বিতরন করেছেন চেয়ারম্যান।
চম্পাফুল ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক গাইন গম আত্মসাতের উদ্দেশ্যে পরিষদে মজুদ রাখা ও পরে কর্তৃপক্ষের সিলগালা করার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, সদস্য আবুল কালাম আজাদ তার ইচ্ছামত কাজ করে থাকেন। ডাকলে পরিষদে আসেন না। তাই প্রকৃত গরীবদের তালিকা তৈরি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ট্যাগ অফিসারের পরামর্শ মত ৮ নং ওয়ার্ডে গম বিতরন করা হয়েছে। ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যের বিতরনকৃত কার্ডের বাইরের ৮২ টি কার্ডের গম সকল ওয়ার্ডের দুস্ত্দের মাঝে বিতরন করে দেওয়া হয়েছে।