ভারি বর্ষণে নলতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মৎস্য ঘেরসহ পানিবন্দি কয়েকটি গ্রাম


162 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ভারি বর্ষণে নলতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মৎস্য ঘেরসহ পানিবন্দি কয়েকটি গ্রাম
জুলাই ২৫, ২০১৭ কালিগঞ্জ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

সোহরাব হোসেন সবুজ, নলতা ::
প্রায় ৫দিনের টানা ভারী বর্ষণে পানি বন্দি হয়ে পড়েছে কালিগঞ্জের নলতাসহ আশেপাশের বেশ কিছু গ্রাম। ডুবে গেছে এলাকার মৎস্য ঘের। বিশেষ করে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী স্থান নলতা রওজা শরীফের চারপাশের রাস্তাসহ দরবারের প্রাঙ্গনগুলোতে পানি উঠেছে। আর পানিতে টলমল করছে স্কুল কলেজ গুলোর আঙিনা। এমনকি ক্লাসরুমও। বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র।

নলতা ইউনিয়ন পরিষদের পিছনে কে.বি মোবারক আলী স্কুলটির সামনে ডোবায় জমে থাকা ময়লা ও নোংরা পানিতে বন্দি হয়েছে। নলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কে.বি আহছানউল্লা জুনিয়র হাইস্কুল, মানিক তলার দরবেশ আলী ক্যাডেট স্কুল, নলতা আহছানিয়া মিশন কলেজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আঙিনাগুলো পানিতে তলিয়ে আছে।

আর এজন্য ব্যহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। সুষ্ঠুভাবে ক্লাসে শিক্ষার্থীদের পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। কেউ বা আবার বাড়ী থেকেই বের হতে পারছে না বৈরী আবহাওয়ায়। বিশেষ করে শিশু শিক্ষার্থীরা।

এদিকে অত্র অঞ্চলের মানুষের প্রধান কর্ম মৎস্য চাষ ও মাছ ব্যবসা। ভারি বর্ষণের ফলে চিংড়ী চাষের ঘের গুলো পানিতে একাকার। শতশত হেক্টর জমির ঘের মালিকরা এভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন।  চাষ করা মাছগুলো খাল-বিল, নদী-নালায় উঠে গেছে বলেও জানান মৎস্য চাষীরা।

এতে করে অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখিন হতে পারে চিংড়ী চাষী অর্থাৎ ঘের মালিকরা। শুধু তাই নয়। মানুষের বসতবাড়ীও হয়ে পড়েছে পানি বন্দি। ভেঙে পড়েছে অনেক কাঁচা ও আধা কাঁচা ঘর বাড়ী। এ অবস্থায় ছড়াতে শুরু করেছে বিভিন্ন পানি বাহিত রোগ।

পানি বন্দির কারন হিসাবে ক্ষতিগ্রস্থ অনেকেই জানান, দ্রুত মৎস্য ঘের গুলো বাঁচাতে হলে নদী ও খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে হবে। নদী ও খালে নেট-পাটা দিয়ে পানির গতি বন্ধ হয়ে আছে, সেগুলো প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অপসারন করতে হবে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপে এলাকার বিভিন্ন ড্রেন, কালভার্টগুলো পরিষ্কার করে দ্রুত পানি নিষ্কাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে স্থায়ী জলাবদ্ধতায় ক্ষয়-ক্ষতি ও রোগ-শোকের উপক্রম দেখা দিতে পারে।
##