সাতক্ষীরায় চেয়ারম্যানের নির্দেশে পিতাকে বেঁধে পেটালো পুত্র


47 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় চেয়ারম্যানের নির্দেশে পিতাকে বেঁধে পেটালো পুত্র
অক্টোবর ২১, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি::
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করার জের ধরে ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে পিতাকে গাছের সাথে বেধে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে করেন দেবহাটার শিমুলিয়া গ্রামের মৃত. কাদের গাজীর পুত্র ইসমাঈল গাজী (৭৫)।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর‘১৭ তারিখে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে ইউপি চেয়ারম্যানের নামে বিভিন্ন অভিযোগ এসে সংবাদ সম্মেলন করি। পরদিন চেয়ারম্যান মুজিবর রহমান আমার পুত্র মনিরুল ও তার বউকে দিয়ে একটি মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন করে নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে। একই সাথে মুজিবর চেয়ারম্যান আরও একটি সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে। এঘটনারপর মুজবরের পুত্র মিজান ও মমিনুর গাজিরহাট বাজারে দফায় দফায় জুতাপেটা করে শারিরিক জখম করে আমাকে। এরপর গত ১৩/১০/১৭ শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে চেয়ারম্যান মুজিবরের নির্দেশে ইসমাইলকে নারিকেল গাছের সাথে বেঁধে মারপিট করে তার পুত্র মনিরুল।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা পূর্বকাল থেকে আমার পুরো পরিবার আওয়ামী লীগ সমর্থক। গত ২০১৩ সালে জামায়াতের সহিংসতার সময় আমার পুত্র মনিরুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে আলমগীর হত্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করেও পরে তাকে রায়হান হত্যার সাথে জড়িয়ে দেয় পুলিশ। তাকে ছাড়াতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবর রহমানের কাছে গেলে তিনি আশ্বাস দিয়েও তা রক্ষা করেননি। পরে এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মুজিবর রহমান জেলে আটক থাকা পুত্র মনিরুলের স্ত্রী রাবেয়া খাতুনের সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় অনেক হইচই হলেও তিনি অনৈতিক কাজ থেকে ফেরেননি। বরং তিনি নিজের অপকর্মের সুবিধার্থে ইসমাইলের সম্পত্তি ভাগ করে পুত্র মনিরুলের জন্য বসত ভিটার সামনে ঘর তৈরি শুরু করতে সাহায্য করেন। এতে বাধা দিলে আমার ১০৮ বছর বয়সী মা কাঙ্গালি বিবিকে চেয়ারম্যান মুজিবরের উসকানিতে ছেলে মনিরুল ও তার স্ত্রী রাবেয়া মারধর করে। এ ব্যাপারে মীমাংসার জন্য ফের চেয়ারম্যানের কাছে গেলে তিনি মীমাংসার আশ্বাস দিয়েও পুত্র মনিরুলকে ঘর তৈরির জন্য টিন দেন। এতে বাধা দিতে গেলে আবারও মারপিটের শিকার হতে হয়।
ইসমাইল আরো জানান, এ ঘটনায় আহত হয়ে তিনি সখিপুর হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি বলেন এ ব্যাপারে দেবহাটা থানা কোনো মামলা নিতে চায়নি। পরে মামলাটি আদালতে করা হয়। এদিকে এই মামলা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন চেয়ারম্যান ও তার পুত্র মোমিন। চেয়ারম্যানের পুত্র মোমিন তাকে গাজিরহাট বাজারে মারপিট করে। শুধু তাই নয় তার পুত্র মনিরুলের স্ত্রী রাবেয়াকে দিয়ে শ্বশুর ইসমাইলের বিরুদ্ধে একটি কল্পিত ধর্ষন মামলা করান চেয়ারম্যান মুজিবর রহমান। এ মামলায় ইসমাইলকে কয়েকদিন ধরে জেল খাটতে হয়। পরে তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন। তার নিজ জমিতে গায়ের জোরে তার পুত্রের জন্য ঘর তৈরি করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি তার পূত্র, পুত্রবধূ ও কন্যা তাকে বেঁধে মারপিট করে জখম দরে।
এব্যাপারে চেয়ারম্যান মুজিবর রহমানের ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা পেতে ও নিজ পুত্র-পুত্রবধুদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।