রাখাইনে কোনো হত্যা-ধর্ষণ হয়নি: মিয়ানমার সেনাবাহিনী


46 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
রাখাইনে কোনো হত্যা-ধর্ষণ হয়নি: মিয়ানমার সেনাবাহিনী
নভেম্বর ১৪, ২০১৭ প্রবাস ভাবনা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও গণধর্ষণ চালানো এবং তাদের দেশত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে দেশটির সেনাবাহিনী নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছে। এতে রোহিঙ্গাদের হত্যা, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া, নারীদের ধর্ষণ বা লুটপাটের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করা হয়েছে।

 

মিয়ানমার সেনাবাহিনী ফেসবুকে এক বিবৃতিতে জানায়, তারা হাজারখানেক গ্রামবাসীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে যারা অত্যাচার-নির্যাতনের সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। ওই পোস্টে আরও জানানো হয়, গ্রামবাসী স্বীকার করেছে যে নিরাপত্তা বাহিনী-

# কোনো ‘নিরীহ গ্রামবাসীর ওপর গুলি চালায়নি’।

# নারীদের ওপর ‘যৌন অত্যাচার বা তাদের ধর্ষণ করেনি’।

# গ্রামের সাধারণ ‘বাসিন্দাদের গ্রেপ্তার, মারধর বা হত্যা করেনি’।

# সাধারণ মানুষের বাড়ি থেকে স্বর্ণ বা রূপাসহ কোনো মূল্যবান সামগ্রী বা গবাদিপশু লুটপাট করেনি।

# মসজিদে আগুন দেয়নি।

# সাধারণ মানুষের বাড়ি পোড়ায়নি।

ওই বিবৃতিতে সেনাবাহিনী আরও বলেছে, ‘বাঙ্গালি সন্ত্রাসীরা’ এসব ধ্বংসযজ্ঞের জন্য দায়ী। এসব সন্ত্রাসীদের ভয়ে লাখো মানুষ রাখাইন ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে।

সেনাবাহিনীর এ প্রতিবেদনের বিষয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন, প্রতিবেদনটির মাধ্যমে এটা পরিষ্কার যে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করার কোনো ইচ্ছা নেই।

জাতিসংঘ ইতোমধ্যে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাকে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞের অন্যতম উদাহরণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। বিবিসির সংবাদদাতাও ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেছেন সেখানে কিভাবে জ্বালাও-পোড়াও চলেছে। তবে এগুলোর সঙ্গে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রতিবেদনের কোনো মিল নেই।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে মিয়ানমার সেনাবাহিনী নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ দূর করার চেষ্টা করছে। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনী সহিংস অভিযানের পর থেকে জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনকে মিয়ানমারে প্রবেশ করে সঠিক তথ্য যাচাইয়ের দাবি জানিয়ে আসছিল বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। কিন্তু রাখাইন রাজ্যে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কড়াকড়ি রয়েছে।

কিছুদিন আগে সরকার তাদের নিয়ন্ত্রণে সাংবাদিকদের একটি দলকে রাখাইন সফরে নিয়েছিল। ওই সফরে গিয়ে বিবিসির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের প্রতিনিধি জোনাথন হেড দেখেছেন, রোহিঙ্গাদের কয়েকটি গ্রাম আগুনে পুড়ছে। গ্রামগুলোতে পুলিশের সঙ্গে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পুরুষদেরও এসব সহিংসতায় জড়াতে দেখেছেন তিনি।

গত আগস্টে রাখাইনের কয়েকটি পুলিশ পোস্টে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলার পর রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে সহিংস অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। গত ২৫ অগাস্ট থেকে শুরু হওয়া এ সহিংস পরিস্থিতির কারণে প্রাণ বাঁচাতে এরই মধ্যে ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।
সূত্র: বিবিসি।