দেবহাটায় মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর গনস্বাক্ষরে থানায় অভিযোগ


235 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
দেবহাটায় মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর গনস্বাক্ষরে থানায় অভিযোগ
নভেম্বর ১৬, ২০১৭ দেবহাটা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

আর.কে.বাপ্পা, দেবহাটা ::
দেবহাটার ৪নং নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গনস্বাক্ষরের ভিত্তিতে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে ৮নং ওয়ার্ডের ২ শতাধিক নারী পুরুষ দেবহাটা থানার সামনে উপস্থিত হয়ে গনস্বাক্ষর করে দেবহাটা থানার ওসি বরাবর এ অভিযোগ দায়ের করেন। লিখিত অভিযোগে তারা জানায়, নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের নাংলা গ্রামের আবদার গাজীর পুত্র সিদ্দিক গাজী এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও একাধিক মাদক মামলার আসামি। সে গ্রামে একের পর এক অপকর্ম ও মাদক ব্যবসা করে গ্রামের যুবকদের ধ্বংস করে দিচ্ছে। তার হাত থেকে জনপ্রতিনিধি, সংখ্যালঘু পরিবার কেউ রেহায় পাচ্ছে না। বিভিন্ন সময় নিজে ডিবি পুলিশ সেজে টাকা আদায় এবং প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে রমরমা মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ৮নং ওয়াডের্র দক্ষিণ নাংলা ছুটিপুর গ্রামে সিদ্দিক ও তার দলের সদস্যরা সংখ্যালঘু পরিবার হরিপদ ফকির দাশের বাড়িতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ২০০০ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনতাই করে নিয়ে আসে। তার কিছুদিন পরে সে নাংলা বাজারে ভাজা ব্যবসায়ী আলাউদ্দীনের বাড়িতে বেড়াতে আসা আতœীয় পুলিশের সদস্যকে দোকানের ভিতর ছুরি দিয়ে মারাক্তক রক্তাক্ত জখম করে। ২ বছর আগে সে (সিদ্দিক) আশাশুনি উপজেলার তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলামের মৎস্য ঘেরে ডাকাতি কালে স্থানীয় জনতা একটি পাইপগানসহ সিদ্দিককে হাতে নাতে ধরে ফেলে। পরে গনপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয় তাকে। এছাড়া নিজ শরীরে ১৬ বোতল ফেনসিডিল পাচার কালে খুলনার গল্লামারী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তাকে আটক করে। পরে জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে ফিরে আসে। গত ৬ মাস আগে ডিবি পুলিশের সোর্স সেলিমের কাছ থেকে ফেনসিডিল বিক্রয় করার জন্য ২০ হাজার টাকা অগ্রিম নেয়। পরে ডিবি পুলিশের সদস্যরা তাকে আটক করে। পরবর্তীতে জামিনে বাড়িতে এসে পুনরায় জমজমাট মাদক ব্যবসা চালিয়ে যেতে থাকে। এমনকি সে এবং মাদক সেবীরা মাদক সেবনের পর গ্রামের রাস্তায় চলাচলকারী নারীদের উত্যক্ত করতে থাকে। বিষয়টি শুনে স্থানীয় ইউপি সদস্য মুজিবর রহমান তাকে নিষেধ করলে এতে সে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়দের গালিগালাজ করে। তার কয়েকদিন পর মাদক বিক্রয় করার স্থানে থানার এসআই মাজরিহা ও কনস্টেবল জিয়া হাতেনাতে তাকে ধরে ফেললে সিদ্দিক ও তার বাড়ির সদস্যরা তাদের উপর হামলা চালায়। এমন পরিস্থিতিতে থানার অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে সিদ্দিককে ধরে থানায় নিয়ে আসে। এঘটনায় তার বিরুদ্ধে থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়। তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে তাদেরকে জীবননাশের হুমকি প্রদান করে। বিষয়টি থেকে মুক্তি পেতে এবং এলাকায় মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে এলাকাবাসী প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।