আশাশুনিতে ইউএনও’র আদেশ অমান্য করে বেতনা নদী থেকে বালু তুলছে ওরা—-


180 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনিতে ইউএনও’র আদেশ অমান্য করে বেতনা নদী থেকে বালু তুলছে ওরা—-
নভেম্বর ১৮, ২০১৭ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

 

বিশেষ প্রতিনিধি ::
—————————————–
আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা এলাকায় বেতনা নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তলন অব্যাহত রয়েছে। এখনও বহালতবিয়তে বালু উত্তলনকারীরা নদী থেকে বালু তুলছে। কারো কথা মানছে না তারা।

গত বৃহস্পতিবার “ভয়েস অব সাতক্ষীরায়” বেতনা নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তলন নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর আশাশুনি প্রশাসনের টনক নড়ে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুষমা সুলতানা অবৈধ ভাবে বালু উত্তলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিলেও তা রিতিমত উপেক্ষিত হয়েছে। বালু উত­নকারীরা তার সেই নির্দেশ মানেনি।

শুক্রবার সরেজমিন গিয়ে দেখাগেছে তারা প্রতিদিনের ন্যায় বেতনা নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তলন অব্যাহত রেখেছে এবং সেই বালু পরিবহনযোগে অন্যত্রে নিয়ে যাচ্ছে। এলাকাবাসীর জিজ্ঞাসা, তাহলে বালু উত্তলনকারীদের খুঁটির জোর কোথায় ?

এ ব্যাপারে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুষমা সুলতানা ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে শুক্রবার সন্ধ্যায় জানান, ২ দিন আগে পত্রিকায় এ ব্যাপারে সংবাদ প্রকাশের পর বালু উত্তলন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন আর বালু তুলছে না তারা। এর পরেও যদি কেউ বালু উত্তলন করে তার বিরুদ্ধে কঠে^ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কিন্তু আপনার নির্দেশের পরও কেনো শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বালু উত্তলন এবং বালু পরিবহন চলেছে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুষমা সুলতানা একটু থমকে গিয়ে বলেন, দেখছি। আমার আদেশ যারা অমান্য করে বালু উত্তলন করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত , আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা বেতনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত তিন বছরের বেশি সময় সেখানে বালু উত্তোলন করলেও ওই সব ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা বাজার থেকে কুল্যা ব্রীজ পর্যন্ত প্রায় ৮-১০ স্থানে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আর সেই বালু ট্রাক ও ট্রলিতে করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়ার কারনে রাস্তাগুলা চলাচলের অনউপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় আছাদুজ্জামান জানান, প্রতিদিন এ রাস্তা দিয়ে কয়েকটি স্কুলের ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যাতায়াত করে, রাস্তায় বালু রাখার ফলে ছেলে মেয়েরা চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে । প্রতিদিন এ অঞ্চল (বেতনা নদী বুধহাটা) থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে ৮০-১০০ ট্রলি বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আবার কেউ কেউ পাইপ লাইনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বাসা-বাড়ীর, পুকুর, নিচু জায়গা, ভরাট করছে।
গুণাকরকাটি গ্রামের রনি জানান,বালু উত্তোলনের জন্য কুল্যা ব্রীজের নিচে খনন করে কয়েকজন বালু ব্যবসায়ী। ব্রীজটি হুমকির মুখে পড়েছে। এ খবর পেয়ে স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল বারী সেখানে যেয়ে ব্রীজের নিচে খনন স্থান ভরাটের ব্যবস্থা করেন। কিছুদিন পরে তারা আবারও সেখানে (ব্রীজের নিচে) বালু উত্তোলনের জন্য খনন করেন।
২০১০ সালের বালুমহাল আইনে বলা আছে, বিপণনের উদ্দেশ্যে কোনো উন্মুক্ত স্থান, চা-বাগানের ছড়া বা নদীর তলদেশ থেকে বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। এ ছাডা সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারাজ, বাঁধ, সডক, মহাসডক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা থেকে বালু ও মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ। সেখানে কয়েকজন অসাধু ব্যাবসায়ী কিভাবে নদী থেকে এমন ভাবে বালু উত্তোলন করছে এমন প্রশ্ন অনেকেরী।
বিষয়টি নিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী কয়েকজনের সাথে কথা বললে তারা জানান, পলি পড়তে পড়তে নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে, তাই সেখান থেকে বালু তুলে তিনি ব্যবসা করি।
বুধহাটা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল বারী বলেন, বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার তাদের সাথে কথা বলেছি। কিন্তু তারা শুনছে না। তাদেও বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।