নলতায় এক শিক্ষকের আচারণে ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা


587 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
নলতায় এক শিক্ষকের আচারণে ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা
নভেম্বর ১৯, ২০১৭ কালিগঞ্জ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

সোহরাব হোসেন সবুজ, নলতা ::

কালিগঞ্জের নলতায় প্রথমদিনের মত প্রাথমিক সমাপনি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নলতা কেন্দ্রে প্রাইমারি ও কেজি স্কুল মিলে ১৮টি প্রতিষ্ঠানের ৬৩২জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছে। যার মধ্যে ৭জন অনুপস্থিত বলে জানা যায়। এবং ৮টি মাদ্রাসা থেকে ১০৮জন এফতেদায়ী পরীক্ষার্থীর থেকে ১০২জন পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করেছে বলে তেতুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরীক্ষা কেন্দ্রের হল সুপার আবুজার গীফারী জানান। এসময় হল সুপারের সাথে সার্বিক সহযোগিতা করেন সহ-হলসুপার মোস্তাফিজুর রহমান।
এদিকে নলতা কেন্দ্রের ৮ নং হলরুমের পরীক্ষার্থীদের মাঝে দায়িত্ব পালনকারী এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে সীমাহীন অভিযোগ উঠেছে। তার উগ্র আচারন ও কার্যকলাপে কয়েকজন পরীক্ষার্থী শিশু হলরুমে ভয়ে কেঁদে ফেলছে। ঐ শিক্ষক নারায়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আহছানউজ্জামান। সে পরীক্ষার্থী শিশুদের টুকিটাকি ভুলক্রটিতেও খাতা কেড়ে নিয়েছে। শারমিন, সাদিয়া, রিয়া ও কেয়াসহ কয়েকজন পরীক্ষার্থীর নিকট থেকে খাতা নিয়ে ২০-৩০ মিনিট খাতা আটকে রাখলে শিশুরা হলরুমে কেঁদে ফেলে। ফলে পরে আবার খাতা দিয়ে দেয় ঐ শিক্ষক। যার মধ্যে দুই শিক্ষার্থীর অপরাধ ছিল প্রশ্নে দাগ দেওয়া, অপর দুজনের অন্যের দিকে মাথা ঘুরানো। এমনকি এসব পরীক্ষার্থীদেরকে সে ইচ্ছাকৃত ভুল লেখার পরামর্শ দিয়েছে ও জবরদস্থি করেছে বলেও অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থী শিশুরা। এ নিয়ে হলরুমে শিশুদের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। ঐ রুমে ৩টি স্কুলের পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছে যার মধ্যে ঐ শিক্ষক দুইটি স্কুলের পরীক্ষার্থীদের সাথে এমন আচারণ দেখালেও এক স্কুলের শিক্ষার্থীদেরকে সে প্রশ্নের উত্তর বলেও দিয়েছে। অভিযোগ সূত্রে আরো জানা যায়, আহছানউজ্জামান নামের ঐ শিক্ষকের এসব আচারণের পিছনে এক প্রভাবশালী শিক্ষকের ইঙ্গিত রেয়েছে। যার নিজের ছেলেও ঐ রুমে পরীক্ষা দিচ্ছে। পরীক্ষার সময় রুমে যেয়ে ডিউটিরত আহছানউজ্জামানকে সেই শিক্ষক এমন আচারনের ইঙ্গিত করেছে বলেও জানা গেছে।

বিষটি নিয়ে হল সুপারকে জানালে তিনি বলেন, কোন শিশু পরীক্ষার্থীর প্রতি এমন আচারণ তো নিষিদ্ধ। তাদের প্রতি ক্ষিপ্ত আচারন না করা এবং এভাবে খাতা জব্দ না করার জন্য আমাদের নির্দেশ দেওয়া আছে। বরং শিশুদেরকে আমাদের সহযোগিতা করতে হবে। তবে, সাথে সাথে আমরা জানতে পারলে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু বিষয়টি যেহেতু পরীক্ষার শেষে জানলাম, পরের পরীক্ষার দিন ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। এ বিষয় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রকাশ চন্দ্র মন্ডল এবং সহকারি শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান দোলনের নিকট জানালে তারাও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এদিকে এ ঘটনায় শিশু পরীক্ষার্থীদের এবং অভিভাবকদের মধ্যে ভীতি ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।