আশাশুনিতে কালভার্ট নির্মানে অনিয়ম !


52 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনিতে কালভার্ট নির্মানে অনিয়ম !
নভেম্বর ১৯, ২০১৭ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

গোপাল কুমার মন্ডল, আশাশুনি ::
আশাশুনিতে খাসেরাবাদ গ্রামের একটি মিনিকালভার্ট নির্মানের এক বছরের মধ্যে ধ্বসে যেয়ে চরম ঝুঁকিপুর্ন হয়ে পড়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই এর উপর দিয়ে পারাপার হচ্ছে যান-বাহনের যাত্রিরা। সরজমিনে ঘটনাস্থলে যেয়ে দেখা গেছে, হাড়িয়ারখালের পাশে রাস্তার উপরের কালভার্টটির দক্ষিন পাশ ধ্বসে যেয়ে উত্তর পাশের উপরের ছাদ প্রায় খাড়াভাবে উঠে গেছে। এর উপর দিয়ে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল, ইঞ্জিনভ্যান ছাড়াও ইটের ট্রলি মাছের পিকআপ যাতায়াত করছে। খাসেরাবাদ গ্রামের শংকর সরকার ও ধনী সরকার জানান, কালভার্টটি গত এক বছর আগে তৈরী করা হয়েছে। এ কালভার্ট দিয়ে শ্রীউলা ইউনিয়নের উত্তর পুইজালা গ্রামের প্রায় ২ হাজার বিঘা জমির মাছের ঘেরে পানি ওঠা-নামা করে থাকে। অতিগুরুত্বপুর্ন এ কালভার্টটি নির্মানে দেবহাটার জনৈক ঠিকাদারের সীমাহিন দুর্নীতির ফলে নির্মানের এক বছর যেতে না যেতেই এটি মুখ থুবড়ে পড়েছে। এর নিচে কোন ঢালাই না দিয়ে, লোহার রড না দিয়ে জোড়া-তালি দিয়ে দায়সারা গোছের কাজ করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। মোটরসাইকেল চালক সুকান্ত বৈরাগী জানান- আমরা প্রায় ৫০ টি গাড়ী নাটানা মোড় থেকে পুইজালা বাজার সহ দক্ষিনের বিভিন্ন এলাকায় এ রাস্তা ও কালভার্ট পেরিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করে থাকি। কালভার্ট ছাড়াও হাড়িয়াখালের পাশে সন্তোষ মন্ডলের বাড়ি থেকে খাল ঘেঁসে প্রায় ৪০ চেইন রাস্তা পুইজালা হাটখোলা পর্যন্ত গেছে। রাস্তা নির্মানের সময় কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি রাস্তার দু’ধারে মাটি না দিয়ে শুধু ইট বসিয়ে গেছেন। এরফলে বছর ঘুরতে না ঘুরতে রাস্তার ইট খালে ও পাশের মাছের ঘেরে হারিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগকারী গ্রামবাসি এ প্রতিবেদককে আরো জানান, স্থানীয় সাংসদ অধ্যাপক ডাঃ আ.ফ.ম রুহুল হকের উন্নয়ন কর্মকান্ডকে ব্যহত করতে এলাকায় কর্মরত বিভিন্ন ঠিকাদারের লোকজন সরকারি নিয়নমনীতির তোয়াক্কা না করে তাদের ইচ্ছামত কাজ করে চলে যাচ্ছেন। তার আমলেই স্বাধীনতার প্রায় ৪৫ বছর পরে এ অজপাড়া গাঁয়ে রাস্তা সহ পুইজালা বাজার চান্নি ও সাইক্লোন শেল্টার নির্মান হচ্ছে। ঠিকাদারের লোকজন এসব কাজের কোন সিডিউল সাধারন মানুষকে দেখান না। উল্টে ঠিকাদার উমুক মন্ত্রীর আত্মীয়, ভাই এমন নানা অপপ্রচার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করে থাকেন। গ্রামাঞ্চলের মানুষ ভয়ে এসব বিধিবহির্ভুত কাজের প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না। অবিলম্বে উক্ত কালভার্টটি সংস্কার ও রাস্তার দু’ধারে মাটি দিয়ে নিরাপদ টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা সৃষ্টি, সাইক্লোনন শেল্টারটির যথাযথ তদারকি করা সহ উক্ত দুর্নীতিগ্রস্ত ঠিকাদারের কাজ পুনঃতদন্ত করে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নিতে সাংসদ অধ্যাপক ডাঃ আ.ফ.ম রুহুল হক, উপজেলা চেয়ারম্যান, আওয়ামীলীগের সভাপতি এবিএম মোস্তাকিম ও উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগি এলাকাবাসি।#