ক্লাস ফাঁকি দিয়ে অবৈধ সম্পর্কে জড়াচ্ছে ছাত্রছাত্রীরা !


1988 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ক্লাস ফাঁকি দিয়ে অবৈধ সম্পর্কে জড়াচ্ছে ছাত্রছাত্রীরা !
নভেম্বর ২০, ২০১৭ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

॥ মেহেদী হাসান ॥

——————
বর্তমান সমাজের আবেগ মিশ্রিত অশ্লীল ভালোবাসা শুধু জীবন কেড়ে নেয় না বরং একটা পরিবারকে সমাজ অপমানিত, লাঞ্ছিত করে। সমাজে পরিবারের সম্মান ধূলিসাৎ করে দেয়। সুন্দরভাবে সমাজে জীবন যাপনে বাধা সৃষ্টি করে কিন্তু, তবুও আমরা আবেগের বশীভূত হয়ে ছুটে চলি ভালোবাসা নামক মরীচিকা, অস্তিত্বহীনের পিছু।

পৃথীবির সৃষ্টিলগ্ন থেকেই চলে এসেছে প্রেম-ভালোবাসা।এটি একটি পবিত্র বন্ধন। সেই প্রেম-ভালোবাসার নামে সমাজে প্রতিনিয়ত চলছে অশ্লীলতা ও ধোঁকাবাজি। ভালোবাসার নামে ছেলে-মেয়েরা নষ্ট করছে নিজেদের জীবন। সরে যাচ্ছে পরিবার থেকে।

স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে অনৈতিকতায় শত শত শিক্ষার্থীরা। ক্লাস করার নাম করে বেরিয়ে এসে অবাধ প্রেমের অভিসারে মেতেছে টিনএজার ছেলে-মেয়েরা। অভিভাবক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসন ঘুর্নারে ও জানেন না তাদের অজান্তেই অধঃপতনে যাচ্ছে তাদেরই আ‌দুরে ছেলে বা মেয়েটি।

সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা যখন পড়ালেখায় ব্যস্ত ক্লাসে, ঠিক তখনই বিপদগামী এক শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতিষ্ঠানের ক্লাস চলাকালিন সময়ে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে পার্ক,রেস্টুরেন্ট,আবাসিক হোটেল,সি এন জি গাড়ীতে দেখা করছে তাদের পছন্দের নাগরের সাথে।

বিশ্বস্থসুত্রে জানা গেছে, নতুন করে এখন আবার অনেক অসাধু ব্যাবসায়ীগণ খুলে বসেছে “কপি শপ”নামে ছোট ছোট টোং ঘর আর যে খানে খুব সহজেই অনৈতিক কাজে লিপ্ত হতে পারছে এই সব অল্প বয়সী তরুণ-তরুণীরা।

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ডিজিটাল সংস্কৃতির গড্ডালিকা প্রবাহে বিদেশী অপসংস্কৃতির আগ্রাসনের পাশাপাশি ব্যপকহারে মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ, স্যাটেলাইট চ্যানেল গুলোতে নগ্নতা, পর্ণোগ্রাফির সহজ লভ্যতার কারণে প্রচলিত প্রেমের নামে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অনৈতিক শারিরীক সম্পর্কে জড়াচ্ছে এই সব বখে যাওয়া কিশোর-কিশোরীরা। এই সব শিক্ষার্থীর বয়স ১৫ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। ৯ম/ ১০ম শ্রেনীর পড়ুয়া বখে যাওয়া কিছু ছাত্র-ছাত্রীর পাশাপাশি ইন্টারমিড়িয়েট পর্যায়ের ব্যপক সংখ্যক শিক্ষার্থী এইভাবেই বিপদগামী হচ্ছে।
জানাগেছে, ছাত্রীরা বাসা/বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজের ড্রেস পরে বের হলেও পরে সাদা এপ্রোন, বোরকা, স্কুল ড্রেস খুলে ভ্যানিটি ব্যাগে ভরে ফেলে, ফলে এদেরকে সহজে স্কুল,মাদ্রাসা,কলেজ পড়ুয়া ছাত্রী বলে সনাক্ত করা যায় না। মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় বেপরোয়া উদ্ধ্যত আচরণ এবং পারিবারিক অনুশাসন ভেঙ্গে পড়ায় ত্রে বিশেষ অভিবাবকদের অচেতনতার কারণে এই সব কিশোর-কিশোরীরা অধঃ পতনে যাচ্ছে বলে সচেতন সুশিল সমাজ মনে করছেন।

এদিকে বিশ্ব’ সুত্রে জানা যায় আবেগের বশবর্তি হয়ে অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে মেয়েরা শারিরীক সম্পর্কে জড়াচ্ছে। এতে অনেক তরুণী অজান্তেই অন্তঃস্বত্তা হয়ে পড়েছে। পৌর এলাকার বেসরকারী ক্লিনিক, নার্স চেম্বার সহ প্রায় প্রতি দিনই কথিত প্রেমের শিকার এই সব অপ্রত্যাশিত গর্ভধারণ কারী কিশোরী তরুণীদের গর্ভপাত করানো হচ্ছে। গর্ভপাত করাতে গিয়ে অনেকের মারাত্বক সামস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে ও দাবী করছেন অনেকে। অনেকে আবেগের বশবর্তি হয়ে আত্নহনণের পথ ও বেছে নিচ্ছেন । ব্যর্থ প্রেমিক প্রেমিকা অবুঝ মনের হওয়ায় ব্যর্থতার গ্লানি মিটাতে ঘুমের বড়ি সেবন,মাদক সেবন, উদাসিনতা অনিয়ম সর্ব পরি একজন ছাত্র-ছাত্রীর যে পরিবেশে থাাকার কথা তা বদলিয়ে যায়। ফলে লেখা পড়ায় অমনুযোগিতার কারণে সাধিত হচ্ছে এবং ঘটছে ফলাফল বিপর্যয়।
এছাড়া অভিভাবক প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন কারো নজরদারী নেই ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি। ছেলেমেয়েদের নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার দায়িত্ব পিতা মাতার। অন্যদিকে ছাত্র-ছাত্রীরা কাসে অনুপস্থিত কিনা দেখার দায়িত্ব স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের। কিন্তু মাসের পর মাস ক্লাসে অনুপস্থিত থাকলেও শিক্ষার্থীদের বিরোদ্ধে শাস্তিমূলক কোন ব্যবস্থা নেয় না শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন। এর ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্লাস ফাঁকি দেওয়ার প্রবনতা চরমে পৌচেছে।
অভিজ্ঞ মহল, সুশিল সমাজ, শিক্ষানুরাগীরা মনে করেন ক্লাস ফাঁকি দেওয়ার এ সংস্কৃতি বন্ধের প্রত্যেক অভিভাবককে আরো সচেতন, দায়িত্ববান, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির নজরদারি বৃদ্ধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনকে দায়িত্বশীল, দেখভাল আবশ্যিক হয়ে পড়েছে।