সাতক্ষীরায় আগাম জাতের ওলকপি চাষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষকেরা


254 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় আগাম জাতের ওলকপি চাষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষকেরা
নভেম্বর ২৫, ২০১৭ কৃষি ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

 

॥ গোলাম সরোয়ার ॥
————————
চলতি শীত মৌসুমে সাতক্ষীরায় আগামজাতের ওলকপি চাষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষক। অধিক লাভের আশায় জাপানি কুইকস্টার নামে ওলকপি‘র বীজ বপন করে দিশেহারা সবজি চাষি। সর্বনাশা ফল পচন রোগ প্রতিকার করতে পারছেন কৃষকরা।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার তালবাড়িয়া গ্রামের সবজি মো. মফিজুল ইসলাম জানান, বারো মাসই তিনি সবধরনের সবজি চাষ করেন। চলতি শীত মৌসুমেও বছর ৫ বিঘা পরিমান জমিতে বিভিন্ন প্রকার শীতকালিন শাক সবজি চাষ করেছেন। এসব সবজির মধ্যে রয়েছে ওলকপি, ফুলকপি, বেগুন ও বাধাকপি। তবে আগামজাতের ওলকপি চাষ করে বিপাকে পড়েছেন কুষক মফিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ৫ বিঘা সবজি আবাদের মধ্যে ২ বিঘা পরিমান জমিতে কুইকস্টার নামক ওলকপি চাষ করেছেন। গাছে ফলনও হয়েছে খুবই ভালো। কিন্ত পচন রোগে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ করে দিয়েছে তার ক্ষেতের অধিকাংশ ওলকপি। তিনি বলেন, গাছে একেকটি ওলকপি যখন ৫০ গ্রামের মত ওজন হচ্ছে তখনই পচন দেখা দিচ্ছে। এর কোনো প্রতিকারও পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
একই ধরনের সমস্যার কথা বললেন এ গ্রামের আরেক সবজি চাষী আব্দুল আলীম। তিনি বলেন, অধিক লাভের আশায় আগামজাতের ওলকপি চাষ করেছিলেন ৩ বিঘা পরিমান জমিতে। তিনি বলেন, জাপানি কুইকস্টার নামে আগামজাতের ওলকপি বীজ বপন করেন। যা প্রতি কেজি বীজের মুল্য ১৫ হাজার টাকা। কৃষক আব্দুল আলীম বলেন, জমি চাষ, বীজ বপন, সেচ ও অন্যান্য সার-কিটণাষক প্রয়োগ করে প্রতি বিঘা ওলকপি চাষে খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। সে হিসাবে ৩ বিঘা জমির ওলকপি চাষে প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে তার। কিন্ত সর্বনাশা ফলপচন রোগে ক্ষেতের অধিকাংশ ওলকপিরনষ্ট করে ফেলেছে। এতে করে উৎপাদন খরচত উঠবে না বরং ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা লোকসানের আশংকা দেখছেন এই কৃষক।
এদিকে সাতক্ষীরা জেলা খামার বাড়ি সূত্রে জানা গেছে, চলতি শীত মৌসুমে সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলাতে গতকাল পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকার শীতকালিন সবজির আবাদ লক্ষ নির্ধারন করা হয়েছে ৯ হাজার ২২৫ হেক্টর। এরমধ্যে সাতক্ষীরা সদরে ২ হাজার ৭৫০ হেক্টর, কলারোয়ায় ১ হাজার ৯০০ হেক্টর, তালায় ১ হাজার ৩২০ হেক্টর, দেবহাটায় ৭৫০ হেক্টর, কালিগঞ্জে ১ হাজার ১৫০ হেক্টর, আশাশুনিতে ৬০৫ হেক্টর ও শ্যামনগরে ৭৫০ হেক্টর। এসব সবজির মধ্যে রয়েছে ফুলকপি, ওলকপি, বাধাকপি, পালন শাক, সিম, বরবটি ও টমেটো। সূত্রটি আরো জানায়, গত শীত মৌসুমে সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলাতে ৯ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছিলো। সে হিসাবে অনুযায়ী চলতি মৌসুমে ২০০ বিঘা পরিমান আবাদ বেশি হচ্ছে।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ কাজী আবদুল মান্নান জানান, সাতক্ষীরার সকল উপজেলাতেই বারো মাসই সবজি চাষ হয়ে থাকে। কিন্ত চলতি মৌসুমে ওলকপিতে এধরনের রোগ দেখা দিচ্ছে তা আমি এখনো জানতে পারেনি। তবে ইউনিয়ন পর্যায়ে যে সব উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রয়েছে তাদের দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঠিক পরামর্শ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হবে বলে জানান তিনি। #