আজ ৬ ডিসেম্বর কলারোয়া মুক্ত দিবস


77 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আজ ৬ ডিসেম্বর কলারোয়া মুক্ত দিবস
ডিসেম্বর ৬, ২০১৭ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কে এম আনিছুর রহমান,কলারোয়া ::
আজ ৬ ডিসেম্বর কলারোয়ায় মুক্ত দিবস। সাতক্ষীরার কলারোয়ায় একাত্তরের আগুনঝরা এইদিনে পাক হানাদার বাহিনী মুক্ত হয়। স্বাধীন দেশের পতাকা উড়ে কলারোয়ার আকাশে। পাক বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞে ক্ষত-বিক্ষত কলারোয়া মুক্তিকামী মানুষের উল্লাসে মুখরিত হয় ।বিভিন্ন কর্মসুচির মধ্যে দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় ঐতিহাসিক দিনটি এবারও পালিত হচ্ছে।
কলারোয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা জানান, কলারোয়া উপজেলার ৩৪৩ জন বাঙ্গালী বীরসন্তান একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে ২৭ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে এ অঞ্চলে প্রবাসী সংগ্রাম পরিষদের সদস্য প্রয়াত এম সি এ মমতাজ আহম্মেদ, প্রয়াত শেখ আমানুল্লাহ, বিএম নজরুল ইসলাম, মোসলেম উদ্দীন ও শ্যামাপদ শেঠ গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করেন।


মুক্তিযুদ্ধের ৮ নং সেক্টরের অধীনে ছিল কলারোয়া অঞ্চল। পাক বাহিনীর আক্রমনে সর্ব প্রথমে শহীদ হন উপজেলার মাহমুদ গ্রামের আফছার সরদার। এরপর পাকবাহিনী এপ্রিল মাসে কলারোয়া পৌর সদরের বেত্রবতী নদীর ব্রীজের ওপার মুরারিকাটি পালপাড়ায় হামলা চালিয়ে নির্মমভাবে ৯ জনকে গুলি করে হত্যা করে। কলারোয়ায় পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম যুদ্ধ পরিচালনা করেন দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা মোসলেম উদ্দীন ও আব্দুল গফ্ফার।
কলারোয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের সংগে পাকসেনাদের কয়েকটি বড় ধরনের মুখোমুখি যুদ্ধ হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ১৮ সেপ্টেম্বর সীমান্তবর্তী বালিয়াডাঙ্গা যুদ্ধ। এই যুদ্ধে ২৯ জন পাকসেনা নিহত হয় আর ১৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন । এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর কাকডাঙ্গার যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচন্ড আক্রমনের মুখে পাকসেনারা কাকডাঙ্গা ঘাঁটি ছাড়তে বাধ্য হয় । এর আগে ২৭ আগষ্ট সমগ্র চন্দনপুর এলাকা পাকবাহিনী মুক্ত হয়।
অক্টোবরের শেষের দিকে মুক্তিযোদ্ধারা শার্শা উপজেলার বাগআচঁড়ায় দুঃসাহসিক হামলা চালিয়ে ৭ জন পাক রেঞ্জারকে হত্যা করে। এভাবে একের পর এক সফল অপারেশনের মধ্যে দিয়ে অকুতোভয় বীর মুক্তিযুদ্ধোরা পাকবাহিনীর কবল থেকে কলারোয়ার মা মাটি ও মানুষকে মুক্ত করেছিল আজকের এই দিনে।