কলারোয়ায় সরকারি জায়গায় শ্রমিক লীগের অফিস ঘর নির্মানের অভিযোগ


394 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কলারোয়ায় সরকারি জায়গায় শ্রমিক লীগের অফিস ঘর নির্মানের অভিযোগ
ডিসেম্বর ১৭, ২০১৭ কলারোয়া ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কে এম আনিছুর রহমান,কলারোয়া ::
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় উপজেলা চত্ত্বরে সরকারি জায়গা জবর দখল করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের অফিস ঘর নির্মান করা হয়েছে। এ ঘটনায় কলারোয়ার সচেতন মহল মৌখিকভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট অভিযোগ করলেও কোন পদক্ষেপ নেননি বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, সম্প্রতি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের একটি কমিটি ঘোষনা করা হয়। ওই কমিটির সভাপতি আমজাদ হোসেন শাহিন ও সাধারণ সম্পাদক জোনাকী সিনেমা হল মালিকের ছেলে বাবলুর নেতৃত্বে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ওই স্থানে সরকারী কয়েকটি মুল্যবান গাছ কেটে জবর দখল করে গত ২০ নভেম্বর গভীর রাতে ঘর নির্মান করে। ওই সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করা হলেও তিনি কোন ব্যবস্থা নেননি। কিন্তু ২৫ নভেম্বর তারিখ আ’লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে কে বা কারা ওই নির্মিত ঘর ভেঙ্গে দেয়।এরপর রোববার ভোর রাতে ওই সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দলীয় প্রভাব খাটিয়ে আবারও ওই স্থানে ঘর নির্মান করা শুরু করে। বাজারের সচেতন মহল সকালে জানতে পেরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করলে তিনি তাৎক্ষনিকভাবে পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় কাজটি বন্ধ করে দেন। সচেতন মহল শংকিত আবারও যেকোন সময় তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজটি সম্পন্ন করতে পারে।
অভিযোগে বলা হয়, তৎকালীন জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে ১৯৮০ সালে কলারোয়ার ঐতিহ্যবাহি পেশাজিবি সংগঠন কলারোয়া প্রেসক্লাব ওই স্থানে স্থাপিত হয়। কিন্তু ১/১১ এর সময় ওই প্রেসক্লাবটি ভেঙ্গে দেওয়া হয়। এরপর থেকে উপজেলা প্রশাসন চত্ত্বরের চারিপাশে কাটাতারের বেড়া দিয়ে সরকারী গাছ লাগিয়ে দেয়। আর সেই গাছ কেটে সারিবদ্ধভাবে অবৈধভাবে তাদের মত জবর দখল করে অনেকগুলো দোকান ঘর নির্মান করা হয়েছে। অথচ সেই প্রেসক্লাবটি একটি ভাড়া ঘর নিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। যা অত্যন্ত নিন্দনীয়,অমার্জনীয় ও দুঃখজনক। তাই সচেতন মহলের দাবি তারা যেন ওই জায়গায় পুনরায় ঘর নির্মান করতে না পারে সে লক্ষ্যে জেলা প্রশাসক, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানা প্রশাসনসহ পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তার সু-দৃষ্টি কামনা করেন।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আমজাদ হোসেন শাহিন জানান, উপজেলা চত্ত্বরে সরকারী জমিতে অনেকেই এভাবে দখল করে দোকান নির্মান করেছেন। তাই তারাও তাদের সংগঠনের অফিসের জন্য একটি ঘর নির্মান করছিলেন। তবে কোন সরকারি গাছ কাটা হয়নি। ইউএনও সাহেবের নির্দেশে তারা আপাততঃ কাজ বন্ধ রেখেছেন।
এ ব্যাপারে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীনের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেখানে অফিস ঘর নির্মান করেনি। তবে শুরু করেছিল। তিনি জানতে পেরে কাজটি পুলিশের সহায়তায় বন্ধ করে দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকায় আছেন। ঢাকা থেকে ফিরে উপজেলা চত্ত্বরে ওই ঘরসহ যেসব ঘর আছে, তা সবই উচ্ছেদ করা হবে।