কপোতাক্ষ বেড়ি বাঁধের মাটি কেটে নিচ্ছে ইটভাটা মালিকরা : দেখার কেও নেই !


116 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কপোতাক্ষ বেড়ি বাঁধের মাটি কেটে নিচ্ছে ইটভাটা মালিকরা : দেখার কেও নেই !
জানুয়ারি ১১, ২০১৮ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কামরুজ্জামান মোড়ল,পাটকেলঘাটা ::
প্রকাশ্যে চলছে অবৈধ কাজ, কোন কিছু লুকানো নয়। সবই খোলা মেলা ভাবে চলে কিভাবে ? দেখলে মনে হয় এখানে অবৈধ কাজের যেন প্রতিযোগিতায় নেমেছে ইটভাটা মালিকরা। এমন সব মন্তব্য ভুক্তভোগী মহলের। দীর্ঘ বছর ধরে পাটকেলঘাটা টু-দলুয়া গ্রামীন সড়কের পাশেই আচিমতলা গ্রামে জনবসতি কৃষিজমি ও সবুজ বেষ্ঠনীর মধ্যে যুগীপুকিরিয়া গ্রামের মৃত খোকা মোড়লের পুত্র রেজাউল ইসলাম বাবু মেসার্স ফারাহ ব্রিকস নামে ইটভাটা নির্মান পূর্বক অবৈধ ভাবে কর্মকান্ড চালিয়ে আসছেন। উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নন বোর্ড একাধিক বার কপোতাক্ষ পাড়ের জলাবদ্ধ রক্ষা বাধের মাটি কর্ত্তন না করার জন্য নোটিশ এবং গনবিজ্ঞপ্তি জারি করেও কোন ভাবে রোধ করা যায়নি। গতকাল সকাল ১০টার দিকে কপোতাক্ষ পাড়ের কাটাখালি নদীর ভেড়িবাধের মাটি ১০টি ট্রলীতে করে ৫০-৬০ জন শ্রমিক নিয়ে হাজার হাজার ঘণ ফুট মাটি কেটে ইটভাটায় নিয়ে আসছে। এসময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় সাংবাদিকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা পুলিশকে জানালে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ঐভাটা মালিক আচিমতলা গ্রামের কিয়ামুদ্দিন মোড়লের ছেলে আন্তবিভাগীয় মটর সাইকেল চোরাই চক্রের হোতা শহিদুল মোড়ল (৪৫) কে নিয়োগ দিয়ে রেখেছে। এর আগেও বহুবার কপোতাক্ষ বেড়ি বাধের লক্ষ লক্ষ ঘনফুট মাটি কেটে বানিজ্যিক ভাবে ইট প্রস্তুত করে আসছে দেদারচ্ছে । এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকার শতাধিক ব্যক্তি আপত্তি জানিয়ে লিখিত ভাবে গনদরখাস্ত দেয়াতে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এসব অবৈধ কর্মকান্ডের ব্যাপারে জেলা প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদপ্তর সবই জানে, কিন্তু অঞ্জাত কারনে বিদ্যমান আ্্ইনের প্রয়োগ হচ্ছে না। এসব বিষয়ে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে অসংখ্য বার সচিত্র প্রতিবেদন ছাপা হলেও কতৃপক্ষের যেন ঘুম ভাংছে না। বরং এ ইটভাটা মালিক অবৈধ কর্মকান্ড আরো দ্রুত গতিতে চালিয়ে যাচ্ছেন। ইটভাটা মালিকের সঙ্গে কথা হলে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানালেন প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই কর্মকান্ড চালানো হচ্ছে। অনুসন্ধ্যান করে জানা গেছে ইটভাটাটির বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই। নেই জেলা প্রশাসনের অনুমোদন। জেলা প্রশাসনের জুডিসিয়াল মুন্সিখানার প্রধান সহকারী মোশারফ হোসেন জানান, মেসার্স ফারাহ ব্রিকস মালিক বিগত ২০১৪ইং সালে এক বার অনুমোদন নিয়েছিল । পরবর্তীতে আর আবেদনও করেনি ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রন) আইন ২০১৩ অনুযায়ী জনবসতি ,গ্রামীন সড়ক ও কৃষি জমির মধ্যে কোন ভাবেই ইটভাটা গড়ে তোলা যাবে না। তাছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তর এর ছাড়পত্র এবং জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া অবৈধ ভাবে কার্জক্রম পরিচালনা কারিদের জেল-জরিমানার পাশাপাশি সকল মালামাল জব্দ পূর্বক বাজেয়াপ্ত করার বিধান থাকলেও কোনটিরই প্রয়োগ নেই।স্থানীয় বাসিন্দা মাটির কাটার প্রত্যক্ষদর্শী কাটাখালী গ্রামের আজিজুর রহমান ও সাজ্জাত শেখ, আচিমতলা গ্রামের ইদ্রিস আলী,মনিরুল ইসলাম,মনজুর হোসেন,মোস্তাফিজুর মোড়ল ও আবুল কাশেমসহ অর্ধশতার্ধিক ব্যাক্তির অভিযোগ সারা বছর ধরে এভাবে বেড়িবাধের মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে । বছরের পর বছর মেসার্স ফারাহ ব্রিকস মালিকের এসব অবৈধ কর্মকান্ডে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। ইটভাটার চিমনি থেকে নির্গত বিষাক্ত কালো ধোয়া ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। ফলমুলের গাছপালা ক্রমান্বয়ে ন্যাড়া হয়ে মরে যাচ্ছে। এছাড়া ইটভাটার মাটি বহন কারি লরী বা মাটি ভর্ত্তি ট্রাকের অবিরাম চলাচলে সড়কের পিচ উঠে বড় বড় গর্তে পরিনিত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব গর্তে পানি জমে জনসাধারণের চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এসব মাটি ভর্তি ট্রাকের উপর থেকে মাটি পড়ে রাস্তা ধুলায় চলাচলরত মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ধুলা বালিতে গাছ গাছালি সহ রাস্তার পাশের ঘরবাড়ি, কাপড় চোপড় বিবর্ন হয়ে মানুষের বসবাসে নাভিশ্বাস উঠে গেছে। আর এসব ট্রাকের মাটি রাস্তায় পড়লে তার পর যদি বৃষ্টি হয় তাহলে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে চলাচলে অহরহ দূর্ঘটনায় পড়তে হয়। বহুবার প্রতিকারের জন্য কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোন প্রতিকার না পেয়ে হতাশাগ্রস্ত এলাকার মানুষের মন্তব্য এভাবে আর কত দিন চলবে অবৈধ কর্ম কান্ড, আদৌ কি বন্দ হবে না ?