কামালকাটি শিশু বান্ধব স্কুল অনন্য উদাহরণ হিসাবে এগিয়ে যাচ্ছে


182 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কামালকাটি শিশু বান্ধব স্কুল অনন্য উদাহরণ হিসাবে এগিয়ে যাচ্ছে
ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৮ আশাশুনি ফটো গ্যালারি শিক্ষা
Print Friendly, PDF & Email

 

এস,কে হাসান,নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ

আশাশুনি উপজেলায় শিশু শিক্ষার মান উন্নয়নে ব্যাপক প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক-অভিভাবক, এসএমসি ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথম স্থান নয় বরং সার্বিক মান উন্নয়নে ব্যাপক প্রতিযোগিতা ও চিন্তাভাবনা কাজে লাগানো হচ্ছে। উপজেলা শিক্ষা দপ্তর সরকারি কারিকুলামের পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক চিন্তা-চেতনাকে সামনে রেখে সফলতার পানে এগি যেতে ক্লাষ্টার ওয়ারি সর্বাত্মক কার্যক্রম পরিচালনা করে চলেছে। কিন্তু এখনো অনেক কিছুর অভাবে তাদের চলার পথে নানা প্রতিবন্ধকতা লেগে আছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ছেলেমেয়েদের আগমনে আগ্রহ সৃষ্টির পাশাপাশি স্কুলে ধরে রাখার পরিবেশ সৃষ্টির মানসিকতা নিয়ে পাঠ্যক্রম তৈরি করা হয়ে থাকে। এসব লক্ষ্যকে সামনে রেখে উপজেলার অন্য ভালো প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতিযোগিতা করে শোভনালী ইউনিয়নের কামালকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাজ করে আসছে। বিদ্যালয়টি প্রথমে ততটা অগ্রগিতর ছোয়া না লাগলেও ২০১১ সাল থেকে পরিবর্তনের ছোয়া লাগতে শুরু করে। ঐ সময় প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্বে আসেন সাকিলা খানম। যোগাদানের পর থেকে শিক্ষক, এসএমসিসহ সকল কমিটি ও অভিভাবকদের নিয়ে উন্নয়নের জন্য মতবিনিময় শুরু করেন। এরপর একেরপর এক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম শুরু করেন। লেখাপড়ার উন্নয়নের পাশাপাশি বিভিন্ন আর্থিক সংস্থান সহযোগিতা আদায় করে নিয়ে আংশিক প্রাচীর নির্মানম মিনিপার্ক, বালক-বালিকাদের জন্যৗ পৃথক শৌচাগার, সুপেয় পানির জন্য গভীর নলকূক স্থাপন, পুস্পিত-সুগন্ধিময় সৃদশ্য পরিবেশের জন্য ফুলবাগান তৈরি, শিক্ষক মিলনায়তনে চেয়ার-টেবিল, লাইব্রেরীর বইসহ আসবাবপত্র তৈরি, শিশু বান্ধব স্কুলের আওতায় স্কুলকে সুযোগ করিয়ে নিয়ে শিক্ষা উপযোগি উপকরণ সামগ্রী শ্রেণি কক্ষে সুসজ্জিত করার গৌরান্বিত কাজ করান হয়।
এমনি অসংখ্য শিক্ষা উপযোগি পরিবেশ সৃষ্টির কাজের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের যোগ্যতা সম্পন্ন কার্যক্রম পরিচালনার ফসল হিসাবে স্কুলে শিক্ষার্থী সংগ্রহের যুগান্তকরী প্রচেষ্টা ছিল চোখে পড়ার মত। তিনি যখন স্কুলে যোগদান করেন তখন স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল ১৪০ জন। বর্তমানে প্রায় ২৫০ জন। তার যোগদানের পর থেকে সকল পরীক্ষার ফলাফলেও উন্নতী সাধিত হয়েছে। সমাপনী পরীক্ষায়ও ১০০% পাস, এ+ ও বৃত্তি প্রাপ্ত সম্ভব হচ্ছে। তার কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি উপজেলা পর্যায়ে ২০১৪ সালের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। লেখাপড়ার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করে গড়ে তুলতে তিনি ও এসএমসি সভাপতি স্বর্ণ ও রৌপ্য পদক পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। ২০১৫ সালে এই পদক বিতরণ করা হয়। যে সকল ছাত্রছাত্রী ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি প্রাপ্ত এবং এ+ প্রাপ্ত হবে তাদেরকে আত্তাপ উদ্দীন স্বর্ণপদক ও আত্তাপউদ্দিন রৌপ্য পদক দেওয়া হবে। ২০১৭ সাল থেকে যে সকল ছাত্রছাত্রী বৃত্তি প্রাপ্ত হবে তাদেরকে সাকিলা খানম (যতদিন এখানে প্রধান শিক্ষক থাকবেন) ক্রেস্ট প্রদানের ঘোষণাও তিনি দিয়েছেন। এছাড়া বিদ্যালয়টি ২০১২ সাল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ১০০% কৃতকার্য, গোল্ডেন এ+ ও বৃত্তি অর্জনে সক্ষম হয়েছে। স্কুলে সকল জাতীয় অনুষ্ঠান, সঙ্গীতানুষ্ঠান ও সঙ্গীত অনুশীলন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে উপকরণ মেলায় অংশ গ্রহণ করেছেন। তিনি শোভনালী ইউনিয়নের সরকারি বিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসাবে প্রশংসনীয় দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এভাবে বিদ্যালয়টিকে এগিয়ে নিতে পারলে উপজেলার মধ্যে একটি মডেল বিদ্যালয় হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে বলে প্রধান শিক্ষক সাকিলা খানম ও এসএমসি সদস্যবৃন্দ অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
অভিভাবক, বিদ্যানুরাগী ব্যক্তিবর্গ, কমিটির সদস্য ও শিক্ষকরা জানান, বিদ্যালয়ের চারিপাশে ্রপাচীর নির্মান করা, স্কুল গেট র্নিান, ২৮ বছরের পুরনো টিনসেড ঘর ভেঙ্গে নতুন বিল্ডিং নির্মান, শহীদ মিনার নির্মান, পার্কের পাশে মাটি ভরাটসহ অনেক খুবই জরুরী চাহিদা রয়েছে স্কুলটিতে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন এ দাবী সকলের।