আশাশুনিতে প্রতিবন্ধীর দোকান বাড়ি ভাংচুর !


214 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনিতে প্রতিবন্ধীর দোকান বাড়ি ভাংচুর !
ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

॥ বিশেষ প্রতিনিধি ॥
——————————–
আশাশুনিতে জন্মগত প্রতিবন্ধী মোসেলউদ্দিনের দোকানটি কেড়ে নিয়েছে তার সহোদররা। তারা মোসেলউদ্দিন ও তার ভাই আজিজের দোকান ও বাড়িঘর ভেঙ্গেচুরে পুড়িয়ে দিয়েছে। এখানেই শেষ নয় নির্যাতিত প্রতিবন্ধীর আত্মীয়স্বজনকে নাশকতার মামলায় জেলে ঢুকিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন।
মোসেলউদ্দিন বলেন আমি বিষয়টি নিয়ে মামলা করতে আশাশুনি থানায় গিয়েছিলাম। কিন্তু উপপরিদর্শক ফারুক আমার অভিযোগ কেড়ে নিয়ে বলেছেন পরে দেখবো। এর পর আর পুলিশ আসেনি । প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় থানায় মামলাও হয়নি। আমি শেষ পর্যন্ত সাতক্ষীরা আদালতে মামলা করেছি।
আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা গ্রামের মোসেলউদ্দিন জানান তারা ছয় ভাই চার বোন। বুধহাটা বাজারে তাদের একটি মুদি দোকান ছিল। চার ভাইয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী দোকানটি ভেঙ্গে একটি পথ বের করা হয়। এ সময় মোসেলউদ্দিন ও ভাই আজিজের নামে দুটি পৃথক দোকান করে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শুরুতেই তিন ভাই সালাম , লিয়াকত ও আবুল কাসেম মোসেলউদ্দিনকে কোনো ঘর দেননি। আবদুল আজিজকে একটি ঘর দিলেও মোসেলউদ্দিন পাশেই নিজের মতো করে একটি দোকান ঘর তোলেন।
অভিযোগ করে তিনি বলেন গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে তাদের তিন সহোদর মোসেলউদ্দিনের দোকান বাড়ি ও আজিজের দোকান ও বাড়িতে আগুন দেয় । তারা ভেঙ্গেচুরে ফেলে বাড়িঘর। বাধা দেওয়ায় তারা মারপিট করে আহত করে বাড়ির সব পুরুষ সদস্য ছাড়াও নারী সদস্য আনোয়ারা খাতুন, মমতাজ বেগম, জোহরা খাতুন, হাজেরা খাতুন ও শিরিনা খাতুনকে। তিনি বলেন এতেই ক্ষান্ত হয়নি তারা। প্রতিপক্ষ পুলিশের ওপর প্রভাব সৃষ্টি করে মোসেলউদ্দিনের নিকটাত্মীয় মোস্তাক, আবদুল ওয়াদুদ, ভাই আবদুল আজিজ, ইলিয়াস ও জহুরুল ইসলামকে নাশকতার মামলায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মোসেলউদ্দিন তার স্বজনদের মুক্তি চান। একই সাথে তার জমি ও বাড়ির দখলদার ও যারা পুড়িয়ে দিয়েছিল তাদের বিচার চান। তিনি জানান তার পরিবারের আরও অনেককে আসামি করেছে প্রতিপক্ষ। ফলে পুলিশের তোপের মুখ তারা নারী পুরুষ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। মঙ্গলবার তারা সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এসে এসব অভিযোগ করেন সাংবাদিকদের কাছে।
এ বিষয়ে জানতে ফোন করা হলে আশাশুনি থানার উপ পরিদর্শক মো. ফারুক হোসেন বলেন ‘ আমার কাছে কেউ কোনো অভিযোগ নিয়ে আসেনি। নাশকতার মামলার সাথে এ ঘটনার কোনো সম্পর্কও নেই’।
অপরদিকে মোসেলউদ্দিনের প্রতিপক্ষ সহোদর আবুল কাসেম বলেন,তাদের বাড়ি ঘরে আমরা কোনো হামলা করিনি। তাছাড়া দোকান থেকে তুলে দেওয়ার অভিযোগও সত্য নয়।
##