আশাশুনির কাদাকাটি থেকে আড়াই লক্ষ টাকা নিয়ে চম্পট !


214 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনির কাদাকাটি থেকে আড়াই লক্ষ টাকা নিয়ে চম্পট !
মে ৭, ২০১৮ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস,কে হাসান ::
সরকারি নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে আশাশুনিতে বেসরকারি সংস্থা ইউনিয়ন পরিষদের কাজ বাস্তবায়নের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে গেলেও দেখার কেউ নেই। ফলে সরকারি নির্দেশনা অমান্যের দৌরাত্মে সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ার পাশাপাশি বারবার অতিরিক্ত অর্থ খুইয়ে প্রতারিত হচ্ছে।
উপজেলার সকল ইউনিয়নে অনুমান ৫/৬ বছর পূর্বে প্রতিটি বাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্স এসেসমেন্ট ও হোল্ডিং নাম্বার প্লেট প্রদানের কাজ করা হয়েছিল। তখন একটি এনজিওর মাধ্যমে এই কাজ করা হয়েছিল। হোল্ডিং নাম্বার সম্বলিত একটি করে টিনের প্লেট প্রত্যেক বাড়িতে দেওয়া হয়েছিল। তখন প্লেট সরবরাহ বাবদ ৫০ টাকা করে আদায় করা হয়েছিল। কিন্তু না সেই প্লেট কোন কাজে আসেনি। কোন বাড়িতে হোর্ল্ডিং প্লেট স্থাপনের নজির পাওয়া যাবেনা। কোন বাড়ির মালিক তাদের বাড়ির হোল্ডিং নম্বর বলতে পারবেন বলে মনে হয়না। তবে ২০১৬ সালে পুনরায় উপজেলার প্রত্যেক ইউনিয়নে প্রতিটি বাড়ির আর্থ-সামাজিক অবস্থান জরিপ, নিজস্ব ওয়েব সাইটে অন্তুর্ভূক্ত, হোল্ডিং ট্যাক্স এসেসমেন্ট ও ডিজিটাল হোল্ডিং নাম্বার প্লেট স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করা হয়। এবারও কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয় এনজিও বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উপর। মজার বিষয় হলো স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ, ইপ-শাখা-১ এর স্মারক নং ৪৭৫ তাং ২৮/৪/২০১৬ এ সিনিয়র সহকারী সচিব শরীফ আহমেদ স্বাক্ষরিত পত্রে “স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এ কোন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে হোল্ডিং এসেসমেন্ট ও নাম্বার প্লেট প্রদানের কোন সুযোগ নেই।” মর্মে পত্র প্রেরণ করা হয়। এছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগ, ইউপি-২ অধিশাখা ১৬/১০/১৬ তাং ৮৮৩ নং স্মারকে উপ-সচিব মোঃ মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত ডিজিটাল হোল্ডিং নাম্বার প্লেট স্থাপন প্রসঙ্গে এক পত্রে “স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এ কোন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে হোল্ডিং এসেসম্যান্ট ও নাম্বার প্লেট প্রদানের কোন সুযোগ নেই।” উল্লেখ করে পত্র প্রেরণ করেন। কিন্তু উক্ত নির্দেশনা অমান্য করে আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে উক্ত কাজ করান শুরু করা হয়। এ কাজে হোল্ডিং নাম্বার প্লেটের মূল্য বাবদ প্রত্যেক হোল্ডিং মালিকের নিকট থেকে ১১০ টাকা থেকে দেড়শত টাকা করে আদায় করা হয়। আশ্চার্য্যরে বিষয় হলো, তাদের কাজের বৈধতা বা স্বীকৃতির জন্য ২০১৬ সালের পত্রকে গোপনে রেখে এক শ্রেণির অসাধু সরকারি কর্মচারীদের যোগসাজসে উপজেলা নির্বাহী অফিসার থেকে অনুমতি পত্র গ্রহণ করা হয়। সেই পত্রে “স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এর স্মারক নং স্থাসবি/ইপ/বিবিধ-১/২০১০/৩৮ তাং- ২৬-০১-২০১২ খ্রিঃ সূত্রের আলোকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশাশুনি, সাতক্ষীরা ০১/০৬/২০১৭ তাং ৭১২ নং স্মারকে গ্রীনগোল্ড বাংলাদেশকে এসেসমেন্ট ও ডিজিটাল হোর্ল্ডিং নাম্বার প্লেট স্থাপনের অনুমতি প্রদান করে পত্র প্রেরণ করা হয়। আর এই পত্রটি নিতে উক্ত গ্রীনগোল্ড বাংলাদেশের চতুর কর্তৃপক্ষ নানান প্রতারনামুলক কাগজপত্র দেখিয়ে উক্ত অসাধু কর্মচারীদের মোটা অংকের বিনিময়ে কাজে লাগিয়ে ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। ফলে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ইউনিয়নে কাজ শুরু করে। এনিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ২০১৭ সালের পত্রানুযায়ী কার্যক্রম করতে পারবে না এই নির্দেশনা অমান্য করে এবং ঐ পত্রকে গোপনে রেখে ২০১২ সালের পত্রানুযায়ী (যদিও সে পত্রের পুরোপুরি অনুস্মরণ করা হয়নি) কার্যক্রম চালান কি সঠিক আছে? এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হলেও বহাল তবিয়তে কাজ চালাতে থাকে এনজিও টি। এনিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশিত হলে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুষমা সুলতানা ১৮/০৯/১৭ তারিখে একপত্রে “ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি বাড়ির আর্থ-সামাজিক অবস্থান জরিপ, নিজস্ব ওয়েব সাইটে অন্তর্ভূক্ত, হোল্ডিং ট্যাক্স এ্যাসেসমেন্ট ও ডিজিটাল হোল্ডিং নাম্বার প্লেট স্থাপনের কাজ বন্দের আদেশ প্রদান করেন। কিন্তু উক্ত পত্রকে তুয়াক্কা না করে এনজিওটি তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখে।
কাদাকাটি ইউনিয়নে মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন শৈলখালী গ্রামের খগেন্দ্র নাথ হাওলিয়ার পুত্র হরষিদ, দঃ আটুলিয়া গ্রামের রাধাকান্ত বৈদ্যর পুত্র দিপু এবং সন্যাসী ও দিলিপ নামে ৪ ব্যক্তি। হরষিদ ও দিপু জানায়, তারা কাজে নিয়োগ পেতে কর্তৃপক্ষকে ৩০ হাজার টাকা করে জামানাতের টাকা অগ্রিম প্রদান করেন। (সেপ্টেম্বরে কাজ না করার চিঠি করা হলেও) গত অক্টোবর মাসেও তারা কাজ করেন এবং দুর্গাপুজার ছুটির পর আবারও কাজে আসেন। ৯০/৯৫% কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু মালিকপক্ষ তাদের জামানতের টাকা ফেরৎ দেয়নি এবং চুক্তি মোতাবেক আদায়কৃত টাকার ১০% টাকাও তাদের দেয়নি। কাদাকাটি ইউপি সচিব জানান, প্লেট প্রতি ১০০ টাকা করে আদায় করেছে, এর থেকে ইউনিয়ন পরিষদকে ২০% টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্প পরিচালক মাহিদুল ইসলাম তাদের সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ, হিসাব নিকাশ না করে অনুমান আড়াই লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে কেটে পড়েছেন। ইউপি চেয়ারম্যান দিপংকর কুমার সরকার জানান, চুক্তি ইউপি সচিবের সাথে হয়েছিল, কিন্তু গ্রীনগোল্ড বাংলাদেশ আমাদের সাথে কোন কিছু না বুঝিয়ে দিয়ে কেটে পড়েছেন। এব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক মাহিদুল ইসলামের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদকে কোন টাকা দেওয়ার কথা ছিলনা। কর্মীদের টাকা দেব কি দেবনা সেটি আমাদের বিষয়। প্রয়োজনে তারা মামলা করতে পারে।
আরও মজার কথা হলো, বুধহাটা ইউনিয়নে বাড়ির মালিকদের থেকে গত আগষ্ট মাসে নাম্বার প্লেট দেওয়ার কথা বলে রশিদের মাধ্যমে টাকা আদায় করা হয়। রশিদে ২৩/৯/১৭ তারিখে প্লেট প্রদান করা হবে বলে উল্লেখ আছে। কিন্তু এখনো প্লেট সরবরাহ করা হয়নি। দরগাহপুর ইউনিয়নের বাড়ির মালিকদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর প্রতিকার চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। তার পরও কাজ চালিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের মত গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ (ইউনিয়ন পরিষদ) এর কার্যক্রম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অমান্য করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে এলাকাবাসী উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাফফারা তাসনীন ট্রেনিং এ বাইরে থাকায় তার কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এলাকাবাসীর দাবী, সরকারি নির্দেশকে ফাঁকি দিয়ে একটি সংস্থা লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে গেল, কোথাও কোথাও প্লেট দেওয়া হলেও অধিকাংশ স্থানে প্লেট না দেওয়া, সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করা, ইউনিয়ন পরিষদকেও তার পাওনা ও কাজের হিসাব নিকাশ না দিয়ে কেটে পড়া, সর্ব শেষ ১৮/০৯/১৭ তারিখে ইউএনও অফিস কর্তৃক কাজ বন্দের পত্র প্রেরণের পরও কাজ করার মত অনৈতিকতা ও অবমাননাকর কার্যক্রম এবং আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করা হোক।