ধানের বাম্পার ফলনেও হাসি নেই সাতক্ষীরার কৃষকের মুখে


233 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ধানের বাম্পার ফলনেও হাসি নেই সাতক্ষীরার কৃষকের মুখে
মে ৮, ২০১৮ কৃষি ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোটার ::
সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া,পাটকেলঘাটা সহ তালা উপজেলা জুড়ে ধুম পড়ছে বোরো ধান কাটা, মাড়াই আর বিক্রিয়ের মহোৎসব। কৃষাণ কৃষাণীদের মুখে হাসির বদলে দেখা দিয়েছে হতাশার ছাপ। জমিতে পোকামাকড় আক্রমণ,আশানুরূপ ফলন,বৈরী আবহাওয়া, আর দাম না পাওয়ায় কৃষকরা হতাশায় পড়েছেন।
এখন বাজারে একমণ ধান বিক্রি করে এক কেজি ইলিশ মাছও কেনা যায় না। তাই উপায় না পেয়ে হতাশা নিয়ে ধান কম দামে বিক্রি করছেন কৃষকরা। ধান বিক্রি করতে গেলেও মহাজনের ওজনের কারচুপি সইতে হয় প্রতিনিয়তই কৃষকদের। এক সময়ে কৃষকের গোলা ভরা ধান, পুকুর ভরা মাছ আর গোয়াল ভরা গরু আজ হারাতে বসেছেন কৃষকরা। একমণ ধান বিক্রি করে এখন এক কেজি ইলিশ মাছও জোটে না। ইলিশ মাছ খাওয়া কৃষকের স্বপ্ন, স্বপ্নই থেকে যায়। কলারোয়ার বাটরা গ্রামের আব্দুস সামাদ জানান ধানের ফলন ভাল হলেও শ্রমিক সংকটে তারা দারুন ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাটকেলঘাটার কাশিপুর গ্রামের আলমগীর হোসেন বলেন, এবার প্রতিবিঘা জমিতে ধান চাষ করতে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রতি বিঘায় ধান পেয়েছি মাত্র ১২ থেকে ১৪ মণ। বর্তমান বাজারে একমণ ধান বিক্রয় হচ্ছে মাত্র ৮ শত চল্লিশ টাকায়। আক্ষেপ করে বলেন, একমণ ধান বিক্রি করে এখন আর এক কেজি ইলিশ মাছও জোটে না। কত দিন যে ইলিশ খাইনি! কৃষক শফিকুল ইসলাম জানায়, এ বছর আমন ক্ষেতে নিয়ম অনুযায়ী সার বীজ প্রয়োগ করেও প্রচুর কারেন্ট পোকার আক্রমণ ও ব্লাস্ট রোগ ছিল তাই ভালো ফসল পাইনি। তিনি আরও বলেন, ধান গাছ ভালো হলেও ধানে পাতানের সংখ্যা ছিল বেশি। কৃষক সিরাজুল ইসলাম জানান, ক্ষেতে বিভিন্ন রকমের পোকামাকড় আক্রমণ করায় যথেষ্ট পরিশ্রম করেও ভালো ফলন পাওয়া যায়নি। কারেন্ট পোকার আক্রমণ ছিল সবচেয়ে বেশি। ফলে ফলন ভালো হয়নি। সরকার যদি সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনতো তাহলে কৃষক ন্যায্য মূল্য পেতেন। এদিকে সরকার ধানের মূল্য প্রতি কেজি ২৬ টাকাদর নির্ধারণ করলেও কাগজপত্র অফিসে না আসায় সরকারিভাবে ধান এখনো ক্রয় করা হচ্ছে না। এই সুযোগে ধান ব্যবসায়ীরা কৃষকের কাছ থেকে স্বল্প মুল্যে ধান ক্রয় করছে। পাটকেলঘাটার বিশিষ্ট ধান ব্যবসায়ী রনজিৎ কুমার বলেন,কৃষকেরা মাহাজনের দেনা পরিশোধ করার জন্য ধান বিক্রি করছে বেশী আমরা বাজার দর হিসাবে ৮০০-৮৫০ টাকা মণে ক্রয় করছি। মাছ ব্যবসায়ী রফিকুল জানালেন,এক কেজি ইলিশ মাছের দাম হাকা হয়েছে ৮০০ টাকা। আমরা যে হারে কিনবো সেই হারে তো মাছ বেচবো। তিনি আরও বলেন এখন ইলিশ মাছের আমদানি কম থাকায় মাছের দাম একটু বেশি।
##