যেখানে যেমন যান চলে, ক্লান্তি নয় হাঁটাতেও


398 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
যেখানে যেমন যান চলে, ক্লান্তি নয় হাঁটাতেও
মে ১৪, ২০১৮ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

বিজয় মন্ডল ::

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দার। জনগণের প্রতিনিধি তিনি। জনগণকে নিয়েই কাজ। জাতির পিতার আদর্শকে বুকে ধারন করে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সোনার বাংলা গড়তে নিজেকে কখনও শাষক ভাবেননি তিনি। সেবক ভেবেছেন সবসময়। দিন রাত এক করে জনসেবা করে চলেছেন তিনি।

এক রিপোর্ট বলছে বর্তমান বাংলাদেশে শতকরা প্রায় ২৫ ভাগ মানুষ শহরে বসবাস করে। বাকি প্রায় ৭৫ ভাগ মানুষ গ্রামে বসবাস করে।
বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের বঙ্গপোসাগর এবং ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা শ্যামনগর এবং কালিগঞ্জ উপজেলার আংশিক নিয়ে সাতক্ষীরা-৪ সংসদীয় আসনটির অবস্থান।

বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে অবস্থান, আবহাওয়া, জলবায়ু, এবং দারিদ্রতার কারনে গ্রামীণ ও শহুরে জনবসতির হিসাবটা দেশের গড় হিসেবের চেয়ে এখানে একটু অন্যরকম। বলা যেতে পারে এখানে শতকরা ১০ ভাগেরও কম মানুষ শহরে বাস করে। বাকি ৯০ ভাগের বেশি মানুষ গ্রামে বসবাস করে। এখানে রয়েছে অনেক প্রত্যান্ত গ্রাম। নদী ভাঙ্গন, বন্যা, বা আবহাওয়াগত কারনে এই এলাকায় রাস্তাঘাট বা অবকাঠামো গত উন্নয়ন করা হলেও তা টেকশই হয়না।

তাই স্বাভাবিক ভাবেই অনেক প্রত্যান্ত এলাকায় দামি চার চাকার গাড়ি, এমনকি দু চাকার যানও নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। তাই বলে কি একজন কর্মঠ, মানবতাপ্রেমী, উন্নয়ন চিন্তার সাংসদের কাছে তা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

হয়তো না! আর তো তা প্রমাণ করেছেন সাংসদ জগলুল হায়দার। যেখানে যেমন যান চলে, এমনকি হাঁটাতেও স্বাচ্ছন্দ্য তার। যেখানে সরকার প্রদত্ত চার চাকার যানে যাওয়া সম্ভব হয়না, তিনি সেখানে ছুটে চলেন দু চাকার মটর যানে, কখনও কখনও আবার পরিবেশ সচেতনতার জন্য বাইসাইকেলে। তাও যদি সম্ভব না হয় তাহলে তো দুটো পা’ই যথেষ্ট। জনগণের কাছে তো যেতে হবে। জনগণকে নিয়েই যে জনপ্রতিনিধিত্ব।

ক্লান্তি নয় তার হাঁটাতেও, যেভাবে হোক জনগণের সমস্যাগুলো দেখতে হবে। চার চাকা, দু চাকা কিংবা পায়ে হাঁটা। উদ্দেশ্যে তার একটাই জনগণের কাছে গিয়ে তাদের সাথে মিশে যাওয়া। সমস্যা চিহ্নিত করা। উন্নয়ন করা। তাইতো ক্লান্তিহীন ছুটে চলা।

এতবড় এলাকা আর এতোগুলো মানুষের দায়িত্ব নিয়ে কি বসে থাকা যায়?
১৪ই মে সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রখর রোদ উপেক্ষা করে কখনও পায়ে হেঁটে অাবার কখনও মোটরসাইকেলে চড়ে সুন্দরবনের কোল ঘেষে অবস্থিত নিজ নির্বাচনী এলাকার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগরের প্রত্যন্ত টেংরাখালি গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিক, প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন সাংসদ জগলুল হায়দার। এসময় তার সাথে ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি জি এম আকবর কবির সহ গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ।

কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে অাসা রোগীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন, স্বাস্থ্য সহকারীর কাছে চিকিৎসা সেবা প্রদান সম্পর্কে খোঁজ খবর নেন এবং পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন জগলুল হায়দার এমপি। এরপর টেংরাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন তিনি।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস এবং বঙ্গবন্ধুর জীবনী তুলে ধরে বক্তব্য দেন এসময় বিদ্যালয়ের ভবনটির ভগ্ন দশা দেখে নতুন ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তারপর টেংরাখালীর উপকূলবর্তী বেঁড়ি বাধে যে সকল স্থানে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে সে সকল স্থান পরিদর্শন করেন এমপি জগলুল।

সেখানে দাঁড়িয়েই বাঁধ মেরামতের জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ে মোবাইলে কথা বলেন এমপি। সকল স্থানে উপস্থিত এলাকাবাসীর কাছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া চান এমপি জগলুল।