তালায় শিক্ষক শেখ শায়েখুজ্জামানের বিরুদ্ধে সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ


488 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালায় শিক্ষক শেখ শায়েখুজ্জামানের বিরুদ্ধে সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ
মে ১৫, ২০১৮ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

বি. এম. জুলফিকার রায়হান ::
ফৌজদারী মামালায় আসামী হয়ে জেলে যাওয়ায় তালা উপজেলার ১৭৭ নং জালালপুর দক্ষিনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক শেখ শায়েখুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার। বরখাস্তের সাথে বিধি অনুযায়ী শিক্ষক শায়েখুজ্জামান এর খোরপোষ ভাতা বাদে অন্য সকল বেতন ও ভাতা বন্ধ করে দেয়া হয়। কিন্তু সুচতুর শিক্ষক শায়েখুজ্জামান বিগত ১ বছর ধরে কৌশলে তার বেতনের সকল টাকা অবৈধভাবে উত্তোলন করে ভোগ করছে। এতেকরে সে রাষ্ট্রের প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মসাৎ করেছে। তাঁর এই অপকর্মে তালা উপজেলা শিক্ষা অফিস সহ উপজেলা হিসাব রক্ষন অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা/কর্মচারী সহ সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রে জানাগেছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে উপজেলার ধুলন্ডা গ্রামের মৃত. শেখ সামছুর রহমান’র ছেলে সাবেক জামায়াত নেতা শেখ শায়েখুজ্জামান’র নেতৃত্বে দূর্বৃত্তরা প্রতিপক্ষ’র উপর হামলা চালায়। হামলাকালে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আলহাজ্ব শেখ জমির উদ্দীন সহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা এবং ভাংচুর সহ লুটপাট করা হয়। দূর্বৃত্তদের হামলায় জমির শেখ’র পুত্র বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আ.ব.ম জাহিদুজ্জামান মারাত্মক হাড়কাটা জখম হয়। এঘটনায় আ.ব.ম জাহিদুজ্জামান বাদী হয়ে তালা থানায় একটি মামলা (নং : ৭, তাং : ১২.১২.১৬ ইং) দায়ের করেন। আর হামলায় নেতৃত্ব দেয়ায় শেখ শায়েখুজ্জামানকে উক্ত মামলায় ১নং আসামী করা হয়। ওই মামলাটি এখন সাতক্ষীরার বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে বিচারাধিন রয়েছে।
মামলার বাদী আ.ব.ম জাহিদুজ্জামান জানান, থানায় মামলা হবার পর একাদিক আসামী গ্রেফতার হয়। আর ১নং আসামী শেখ শায়েখুজ্জামান বিজ্ঞ আদালতে আত্মসর্মপন করলে আদালত তাকে জেল হাযতে প্রেরন করে।
তিনি আরো জানান, আসামী শেখ শায়েখুজ্জামান তালা উপজেলার ১৭৭ নং জালালপুর দক্ষিনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হয়েও ফৌজাদারী অপরাধ সংঘটিত করে। যেকারনে তালা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ০৫/০৪/১৭ ইং তারিখের ৬০৫ নং স্মারকের প্রেক্ষিতে সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল ইসলাম তাঁর দপ্তরের ০৬/০৪/১৭ ইং তারিখের ১১৮০ নং স্মারকে শেখ শায়েখুজ্জামানকে সাময়ীক বহিস্কার করেন। একই সাথে বিধি মোতাবেক শুধুমাত্র খোরপোষ ভাতা মুক্ত রেখে অন্য সকল বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেন। বরখাস্তের এই কপি তালা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সহ সংশ্লিষ্ট সকল অফিসকে সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রেরন করা হয়। এছাড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক শেখ শায়েখুজ্জামান’র হাতে সরাসরি বরখাস্তের চিঠি ধরিয়ে দেয়া হয়।
কিন্তু বরখাস্ত হওয়ায় বেতন-ভাতা বন্ধ করে দিলেও সুচতুর শেখ শায়েখুজ্জামান কৌশলে তালা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও উপজেলা হিসাব রক্ষন অফিস’র সহায়তায় প্রতি মাসে অবৈধভাবে পূর্নাঙ্গ বেতন ও ভাতা সহ সকল বোনাস উত্তোলন করছে। এতেকরে বিগত ১বছরে সে রাষ্ট্রের প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছে।
একজন সরকারি কর্মচারী তথা শিক্ষক হয়েও হত্যার চেষ্টা চালিয়ে ফৌজদারী অপরাধ সংঘটিত করা এবং বরখাস্ত হয়েও কৌশলে সরকারি টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা জানাজানি হবার পর থেকে স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবক মহলে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এসব ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ আ.ব.ম জাহিদুজ্জামান প্রয়োজনীয় তদন্ত পূর্বক সরকারি টাকা আত্মসাৎকারী ও ফৌজদারী মামলার আসামী শেখ শায়েখুজ্জামান’র বিুরদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দূর্নীতি দমন কমিশন, উর্দ্ধতন প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক শেখ শায়েখুজ্জামান বরখাস্ত হবার কথা স্বীকার করে বলেন, তালা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও উপজেলা হিসাব রক্ষন অফিস কখনও আপত্তি না করায় আমি নিয়োমিতভাবে বেতন, ভাতা ও বোনাস উঠাচ্ছি।
এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কুমার ঘোষ-শেখ শায়েখুজ্জামান এর বরখাস্তের কথা জানেননা বলে জানান। তবে, অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষকের সহায়তায় শেখ শায়েখুজ্জামান আসামী হবার পর থেকে বহাল তবিয়তে রয়েছে। এমনকি মামলার আসামী হয়ে আত্মগোপনে থাকাকালে বিদ্যালয়েরা হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়েছে। এমনকি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস বরখাস্তের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে প্রদান করেন।
এব্যপারে তালা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. অহিদুল ইসলাম জানান, বরখাস্তের কোনও চিঠি আমি পায়নি। বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পারি। বর্তমানে বিথি অনুযায়ী তাঁর খোরপোষ ভাতা বাদে অন্যসকল বেতন-ভাতা বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এছাড়া উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জানতে চাইলে সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের প্রধান সহকারী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, জেলা শিক্ষা অফিস থেকে শেখ শায়েখুজ্জামানকে বরখাস্তের পরপরই, বরখাস্তের কপি ডাকে এবং ইমেইলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অনুলিপি প্রাপকদের দেয়া হয়।

##