ভাবনায় পাঁচ ফরমেশন


138 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ভাবনায় পাঁচ ফরমেশন
জুন ২৫, ২০১৮ খেলা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

আর্জেন্টিনা নাইজেরিয়া ম্যাচ
অনলাইন ডেস্ক ::
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মনে হয় শান্তিতে ঘুমাতে পারছেন না হোর্হে সাম্পাওলি। আজ দিয়েগো ম্যারাডোনা, কাল ওমুক কোচ, পরের দিন তমুক খেলোয়াড়। এভাবে সাম্পাওলিকে নিয়ে চলে আলোচনা। আসলে যখন একটা দল খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যায়, তখন ওই দলের কোচকে নানাজনের নানা মত শুনতেই হয়। সাম্পাওলিও তার ব্যতিক্রম কেউ নন। ২০১৪ বিশ্বকাপে শিরোপার অনেক কাছে গিয়েও ছোঁয়া হয়নি স্বপ্নের মুকুট। এরপর এক এক করে দু’জন কোচ নিয়োগ দিয়েও ছাঁটাই। শেষমেশ রাশিয়া বিশ্বকাপের জন্য সাম্পাওলির ওপরই ভরসা রাখে আর্জেন্টাইন ফেডারেশন। তবুও যে খুব একটা ঘোরেনি জয়ের চাকা। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব পার করে তারা। তাও লিওনেল মেসি ফর্মে ছিল বলে। না হলে হয়তো আর্জেন্টিনাকে ছাড়াই দেখতে হতো একুশতম বিশ্বকাপ। যাক সেই কথা; মূল লড়াইয়ের টিকিট কাটার পর আর্জেন্টাইন সমর্থকরা আশায় বুক বেঁধেছিলেন। ভেবেছিলেন আগেরবার হয়নি এবার হবে! কিন্তু যাত্রাতেই হতাশ। আইসল্যান্ডের সঙ্গে ড্র করার পর ক্রোয়েশিয়ার কাছে গো-হারা। তাতে ফের শুরু সমালোচনা। বিশেষ করে সাম্পাওলির ছক নিয়ে চলে তুমুল বিতর্ক। ক্রোয়েটদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে কত-কত ফরমেশন নিয়ে আলোচনা করে বিশ্বের নামি-দামি সংবাদমাধ্যম। কিন্তু কারও ধারেকাছেও যাননি আর্জেন্টাইন কোচ। নিজের মনগড়া একটা প্ল্যান (৩-৪-২-১) দাঁড় করিয়ে দেন। ফলাফল জিরো। একটা না দুইটা না, তিনটা গোল খেয়ে বসল তার দল। তার ওপর ওই দিন ম্যাচের শেষদিকে এসে পুরো তালগোলই পাকিয়ে ফেলেন সাম্পাওলি। হুটহাট প্লেয়ার বদল করেন। কিন্তু সময়ের কাজ অসময়ে করলে যা হয় আর কী! দিন শেষে হারের জ্বালা নিয়ে মাঠ ছাড়েন মেসিরা। মঙ্গলবার ডু অর ডাই ম্যাচ। প্রতিপক্ষ নাইজেরিয়া, নিজেদের প্রথম ম্যাচে হারলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ঠিকই জয়ে ফিরেছে আফ্রিকার দেশটি। অবশ্য নাইজেরিয়া জেতায় ভালোই হয়েছে আর্জেন্টিনার। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটা জিততে পারলে আর ক্রোয়েশিয়ার কাছে আইসল্যান্ড হারলে দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা চলে যাবে নক আউট পর্বে। বলাটা সহজ হলেও কাজটা মোটেও সহজ হবে না আর্জেন্টিনার জন্য। বদলাতে হবে ফরমেশন। এরই মধ্যে হয়তো সেই চিন্তায় আছেন সাম্পাওলি। যতদূর শোনা যাচ্ছে, সুপার ঈগলদের ধরিয়ে দিতে ২০১৪ বিশ্বকাপে চিলির বহুল প্রচলিত ফরমেশনই বাছবেন তিনি। সে ক্ষেত্রে হতে পারে সেটা ৩-৪-১-২। ব্রাজিল বিশ্বকাপে মূলত এই ফরমেশন দিয়েই সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন সাম্পাওলি। গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়ার পর শক্তিশালী স্পেনকেও হারিয়ে দেয় চিলি। এরপর অবশ্য নক আউট পর্বেও আলো ছড়ান সানচেজরা। স্বাগতিক ব্রাজিলের সঙ্গে ড্র করে। কিন্তু পেনাল্টি শুটে হেরে টুর্নামেন্ট ছাড়তে হয় চিলিকে। তবে নাইজেরিয়াকে হারাতে কি এই ছকটাই ফলো করবেন সাম্পাওলি? যদি সত্যি হয় তাহলে অন্তত আগের ম্যাচের থেকে ইতিবাচক কিছু হবে বলে মানছেন ফুটবলের রথী-মহারথীরাও। ক্রেয়েশিয়ার বিপক্ষে সাম্পাওলি দু’জন ফুলব্যাক (নিকোলাস টাগলিয়াফিকো ও গ্যাব্রিয়েল মারকাদো) খেলান। কিন্তু এর চেয়ে ভালো অপশন হতে পারে যদি এই দু’জনকে উইং ব্যাকে রাখা হয়। তাহলে আসল ডিফেন্ডাররা ভালোভাবে কাজ করতে পারে। এই ফরমেটে নামলে সেন্টার ব্যাকে ফাজিও, মার্কাস রোহো আর নিকোলাস ওটামেন্ডিকে রাখতে পারেন সাম্পাওলি। যেখানে ম্যানচেস্টার সিটির এই ডিফেন্ডারের জায়গা হতে পারে সেন্ট্রাল পয়েন্টে। রোহো আর ওটামেন্ডি দু’জনই ভালোভাবে পাস দিতে পারেন। যেখানে ফাজিও পিছিয়ে থাকবেন না। ইতালিয়ান লীগে গেল মৌসুমে দারুণ পারফর্ম করা ফাজিও নাইজেরিয়ান আক্রমণ রুখতে হতে পারেন সাম্পাওলির তুরুপের তাস। অন্যদিকে মারকাদো ও টাগলিয়াফিকো উইং ব্যাক হিসেবে দায়িত্ব পেলে আহমেদ মুসা ও ভিক্টোর মোসেসদের সামনে একটা প্রতিরোধ গড়তে পারবেন। মিডফিল্ডে যদি হাভিয়ের মাশ্চেরানোর সঙ্গে এভার বানেগার জুটি নামান সাম্পাওলি। তবে ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে মাঝমাঠের যে দুর্বলতা দেখা গেছে, সেটা কেটেও যেতে পারে। বানেগা দারুণ একজন খেলোয়াড়, যিনি বেশ ভালোভাবেই পাস দিতে পারেন। সঙ্গে ডিফেন্স আর ফরোয়ার্ডের মধ্যে একটা সুন্দর যোগসূত্রও স্থাপন করার সামর্থ্য রয়েছে তার। তার ওপর বানেগার পাশে থাকছেন মাশ্চেরানো। এই ফরম্যাটে মেসির জায়গা হওয়ার সম্ভাবনা ফাইনাল থার্ডে। অর্থাৎ দু’জন সেন্ট্রাল স্ট্রাইকার (গঞ্জালো হিগুয়েইন ও সার্জিও আগুয়েরো) একটু পেছনে থাকবেন মেসি। আরেকটা অপশনও বাছতে পারেন সাম্পাওলি। সেটা হলো ৪-২-৩-১। ২০১৪ বিশ্বকাপে প্রায় ম্যাচেই আর্জেন্টিনা এই ফরমেশন বেয়ে চলে যায় ফাইনালে। যেখানে সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ডে আগুয়েরোকে রেখে তার ঠিক পেছনে মেসিকে দাঁড় করাতে পারেন সাম্পাওলি। রাইট উইংয়ে পাওলো দিবালা আর লেফট উইংয়ে রাখা হতে পারে ডি মারিয়াকে। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে মাশ্চেরানোর সঙ্গে খেলতে পারেন লুকাস বিগলিয়া। যেটা নাইজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার আক্রমণকে আরও শানিত করবে বলে মনে হয়। মূল ডিফেন্সে চারজন- বাঁ থেকে টাগলিয়াফিকো, ওটামেন্ডি. ফাজিও ও মারকাদো। হয়তো এই ফরমেশনও পছন্দ হবে না সাম্পাওলির। সে ক্ষেত্রে তিনি চোখ দিতে পারেন সাবেক বার্সা কোচ পেপ গার্দিওলার জনপ্রিয় ছক ৪-৩-৩। যেখানে বরাবরের মতো চারজন মূল ডিফেন্স রেখে তিনজন হতে পারে- এনজো পেরেজ, বানেগা, মাশ্চেরানোকে দিয়ে মাঝমাঠ ঘিরে রাখার কাজ। দুই উইংয়ের ডানে মেসি, বাঁয়ে রাখতে পারেন ডি মারিয়াকে। সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ডে দেখা মিলতে পারে আগুয়েরোর। তবে আগুয়েরোর জায়গায় হিগুয়েইনকে দেখলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এই তিন অপশন বাদেও আরও দুটি ফরমেশনও রয়েছে সাম্পাওলির হাতে। যেটা মেসির জন্য হতে পারে সাফল্যদায়ক। এক. ৪-৪-২। ভালভার্দের অধীনে প্রায়শই এই ফর্মুলায় মাঠে নামেন কিং লিও। মেসিকে ফর্মে ফেরানোর লক্ষ্যে সাম্পাওলি না জানি এই ফরমেশনই বাছেন। না হয় হতে পারে টু ফলস নাইন ফরমেট (৪-২-৪)। অবশ্য খুব একটা সম্ভাবনা নেই। তবে সফলতার খোঁজে এই ফরমেশনটিও হয়ে উঠতে পারে সাম্পাওলির শেষ অস্ত্র। এমনটা হলে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে অনেকের প্রত্যাশিত সেই দিবালা-মেসি জুটিরও দেখা মিলবে। সব কথার শেষ কথা ফরমেশন যা-ই হোক মোটেও থাকার সম্ভাবনা নেই কাবায়েরোর। তার বদলে আর্জেন্টিনার গোলপোস্টের নিচে দেখা যেতে পারে ফ্রাঙ্কো আরমানিকে।