তালার মহান্দী প্রগতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম’র অভিযোগ


298 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালার মহান্দী প্রগতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম’র অভিযোগ
জুলাই ১১, ২০১৮ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

নিয়োগ পরীক্ষার আগেই নিয়োগ সম্পন্ন !

তালা প্রতিনিধি ::
উপজেলার মহান্দী প্রগতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উক্ত পদে ৮ জন প্রার্থীর আবেদন জমা পড়লেও সাজানো পরীক্ষার কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছেন মাত্র ৩ জন। পূর্ব নির্ধারিত প্রার্থী নিহার রঞ্জনকে উর্ত্তীর্ণ করতে বাকী ২ জন হাজির করা হয় বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানাগেছে। ম্যানিজিং কমিটির কতিপয় ব্যক্তি ও উপজেলা শিক্ষা অফিসের সাথে যোগসাজসে প্রধান শিক্ষক মো. আবুল হোসেন পূর্ব নির্ধারিত প্রার্থী নিহার রঞ্জন’র নিকট থেকে ৮ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়ে তাকে নিয়োগ দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ৮ লক্ষ টাকার মধ্যে ৩ লক্ষ টাকা নগদ ও বাকী ৫ লক্ষ টাকার চেক নেওয়া হয়েছে বলে নির্ভর যোগ্য ঐ সুত্রটি জানিয়েছে।
জানা যায়, তালার মহান্দী প্রগতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান সহকারী শিক্ষক পদটি শুন্য হওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে কর্তৃপক্ষ। উক্ত পদে নিয়োগ পাবার জন্য কপিলমুনি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিহার রঞ্জন, তালা মহান্দী প্রগতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক দিদারুল ইসলাম, রবিন্দ্র নাথ ঘোষ, অসিত কুমার সিংহ, এজেএইচ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ফজলুর রহমান, জেএনএ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্বপন কুমার দেবনাথ, তালা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আ. হান্নান এবং কপোতাক্ষ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তাপস কুমার আবেদন করেন। কিন্তু স্কুলের প্রদান শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতারা মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে নিয়োগ পরীক্ষার আগেই মেধাহীন এক প্রার্থীকে নিয়োগ দেবার জন্য নির্বাচিত করেন।
সূত্রে জানাগেছে গত ৬ জুলাই নিয়োগ পরীক্ষার দিন নির্ধারন করা হলেও সব প্রার্থীকে সময়মত জানানো হয়নি। ৫ জনকে ইচ্ছে করেই পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে দেয়া হয়নি। নিজের বিদ্যালয়ের ১ শিক্ষককে ভয় দেখিয়ে পরীক্ষায় খারাপ করতে বলা হয় বলেও অভিযোগ আছে। এছাড়া আরেক প্রার্থী পরীক্ষা দিলেও সে পূর্ব নির্ধারিত নিহার রঞ্জনকে উত্তীর্ণ করতে সহযোগীতা করে। যে কারণে মাত্র ৩ জন প্রার্থীকে নিয়ে সাজানো পরীক্ষার আয়োজন করা হয়।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেন টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, বিদ্যালয়ের দোতলার ছাদ করার সমুদয় টাকা নিয়োগকৃত শিক্ষক বহন করবে বলে শর্ত দেওয়া হয়েছে। আর যা কিছু করা হচ্ছে বা হয়েছে তা ম্যানিজিং কমিটির সিদ্ধান্তেই হয়েছে।
তালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিয়ার রহমান বলেন, টাকা লেন-দেনের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে যে ৩ জন পরীক্ষা দিয়েছে সঠিকভাবে তাদের পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে কেউ কিছু জানায়নি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে পূর্ব নির্ধারিত প্রার্থীকে নিয়োগ দেবার জন্য উক্ত সাজানো নিয়োগ পরীক্ষাকে বাতিল করে পুরনায় সুষ্ঠভাবে নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেছে এলাকার সচেতন শিক্ষানুরাগী বক্তিরা সহ নিয়োগ প্রার্থীরা।

##