আশাশুনি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ : বহিষ্কারের দাবী


1083 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ : বহিষ্কারের দাবী
জুলাই ২১, ২০১৮ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

 

স্টাফ রিপোর্টার :
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের অসামাজিক কর্মকান্ড, অত্যাচার, নির্যাতন ও চাঁদাবাজিতে উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলামের পরিবারসহ অন্যান্য আ’লীগ নেতাকর্মীরা অতিষ্ট হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ। শনিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন আশাশুনির মানিকখালী এলাকার আ’লীগ নেতা রফিকুল ইসলামের স্ত্রী মিসেস শাহিনা আক্তার।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ একটি আদর্শ ও ভিত্তিক এবং সুশৃঙ্খল ছাত্র সংগঠন। বর্তমানে সন্ত্রাস ও জঙ্গি বিরোধী আন্দোলনে প্রশাসনের পাশাপাশি তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের কোন কর্মী সংগঠন পরিপন্থি কর্মকান্ডে লিপ্ত হলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তার বিরুদ্ধে যথাযথ সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। কিন্তু গত ১০ জুলাই আশাশুনি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অসমাউল হোসেন ও সাধারন সম্পাদক সৌরভ রায়হান সাদ এর নেতত্বে ৫/৬ জন ফেন্সিডিল খাওয়ার জন্য তার ছেলে ছাত্রলীগ কর্মী রাজুর কাছে ১২ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করলে তারা তাকে বেদম মারপিট করে। এছাড়া থানার সামনে আমার স্বামী উপজেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলামকে লাঞ্চিত করে। পরবর্তীতে তারা আমার বাড়িতে এসে ঘরে ঢুকে আসবাবপত্র ভাংচুর করে। বাধা দিতে গেলে আমাকেও লাঞ্চিত করে তারা। এসময় তারা আমারা প্রতিবন্ধি মেয়েকেও লাথি ও চড় থাপ্পড় মেরে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে। তাদের ভয়ে আমি বাড়ি ছেড়ে চলে গেলে তারা আমার ঘর থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে চলে যায়। বেশি বাড়াবাড়ি করলে আমাদেরকে খুন জখম করার পাশাপাশি আমার ছেলে রাজুকে প্রাণে মেরে দিবে বলে হুমকি দিয়ে যায় তারা।

একই দিন তারা আশাশুনি ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি শাহিন ও উপজেলা শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদের সহ-সভাপতি তানজিল হোসেন পলাশকেও মারপিট করে। গুরুতর আহত অবস্থায় পলাশকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়া গত ৩ জুলাই চাঁদাবাজির মতলবে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে আশাশুনি সরকারি কলেজে ব্যাপক ভাংচুর করে। এসময় আসমাউল ও সাদের পালিত জামায়াতি সন্ত্রাসীসহ তারা নিজেরা শিক্ষকদের লাঞ্চিত করে। আসমাউল হোসেন চাঁদাবাজি ও মাদক মামলার এজাহারভূক্ত আসামি। ছাত্রলীগের এই নেতাদের কারনে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি দারুন ভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। যা আগামী নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি আশাশুনি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অসমাউল হোসেন ও সাধারন সম্পাদক সৌরভ রায়হান সাদকে অবিলম্বে বহিষ্কার করে উপজেলা ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগি সংগঠন গুলোকে কলঙ্কমুক্ত করতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের অভিভাবক সাইফুর রহমান সোহাগও এসএম জাকির হোসেনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ ব্যাপারে আশাশুনি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আসমাউল হোসেন ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলামের স্ত্রী শাহিনা আক্তার সংবাদ সম্মেলন করে যে অভিযোগ করেছেন তা সঠিক নয়। প্রকৃত ঘটনা হলো, শাহিনা আক্তারের ছেলে ফয়সাল রেজওয়ান রাজু একজন ছাত্যলীগের কর্মী। সে মাদকাসক্ত। এলাকার প্রবীর, ফয়সাল, চঞ্চলসহ কয়েক জনের কাছ থেকে সে বিভিন্ন সময় মোবাইল বা মটরসাইকেল বিক্রি করার নামে টাকা নিয়েছে। ঘটনার দিন পাওনাদাররা তার বাড়িতে যায় টাকা আদায় করতে। কিন্তু আমি খবর পেয়ে সেখানে যায় এবং পরিস্থিতি শান্ত করি। এক পর্যায় আমি পাওনাদারদের সেখান থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসি।