স্ত্রী ও ছেলের হাতে প্রাণ গেল তার


169 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
স্ত্রী ও ছেলের হাতে প্রাণ গেল তার
জুলাই ২১, ২০১৮ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::
স্ত্রী ও পুত্রবধূর সঙ্গে বৃদ্ধা মায়ের ঝগড়া থামাতে যান ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার কাকনহাটি গ্রামের বিল্লাল হোসেন (৫০)। এ সময় স্ত্রী ও ছেলের মারধরে মৃত্যু হয় তার। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের ছোট তারাকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত বিল্লাল কাকনহাটি গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, বিল্লায়ের দুই বিয়ে। তার প্রথম পক্ষের স্ত্রী ফিরোজা বেগমের সংসারে ৫ মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। তাদের নিয়ে প্রথম পক্ষের স্ত্রী থাকেন পৌর এলাকার কাকনহাটি গ্রামের বাড়িতে। আর দ্বিতীয় স্ত্রী রহিমা খাতুন থাকেন সোহাগী ইউনিয়নের ছোট তারাকান্দি গ্রামের বাড়িতে। ওই সংসারে আলাল মিয়া নামের এক ছেলে রয়েছে তার। তারাকান্দি গ্রামের বাড়িতে দ্বিতীয় স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে বিল্লালের মা বৃদ্ধা রেখা বেগমও থাকেন। কিছু দিন আগে নিজ ভাইয়ের মেয়ে লিপা আক্তারের সঙ্গে ছেলের বিয়ে দেন বিল্লাল। গত শুক্রবার সকালে রিপার সঙ্গে ঝগড়া হয় বিল্লালের মা রেখা বেগমের। এ ঘটনায় বিল্লালকে খবর পাঠিয়ে আসতে বলেন রেখা। এরপর শুক্রবার সন্ধ্যায় কাকনহাটির বাড়ি থেকে ছোট তারাকান্দি গ্রামের বাড়িতে যান বিল্লাল। সেখানে দ্বিতীয় পক্ষের ছেলে আলাল মিয়াকে বকাঝকা করার এক পর্যায়ে দ্বিতীয় স্ত্রী রহিমা খাতুনের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। এর এক পর্যায়ে স্ত্রী ও ছেলে তাকে মারধর করে। এ সময় বৃদ্ধা রেখার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে বিল্লালকে উদ্ধার করে। পরে স্ত্রী রহিমা ও ছেলে আলাল তাকে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক বিল্লালকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর রহিমা ও আলাল হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে প্রথম পক্ষের স্ত্রী-সন্তান ও স্বজনরা ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ছুটে যায়।

এদিকে নিহত বিল্লালের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় স্বজনদের আহাজারি। স্ত্রী ও মেয়েরা মাটি চাপড়ে কান্নাকাটি করছেন। বাবাকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মেয়ে জামেনা ও তাসলিমা। এ সময় নিহত বিল্লাল হোসেনের মা রেখা বেগম বলেন, নিজের চোখের সামনেই আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে তার বউ ও ছেলে।

এ নিহতের প্রথম পক্ষের মেয়ে আমেনা খাতুন বাদী হয়ে শনিবার দুপুরে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এতে দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী রহিমা খাতুন, ছেলে আলাল মিয়া ও তার স্ত্রী লিপা আক্তারকে আসামি করা হয়েছে।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার এসআই সজীব ঘোষ বলেন, নিহত ব্যক্তির কপালে ও বাম চোখের কোনে আঘাতের চি‎হ্ন রয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।