পাইকগাছায় ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে অসংখ্য ক্লিনিক ও প্যাথলোজি


108 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পাইকগাছায় ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে অসংখ্য ক্লিনিক ও প্যাথলোজি
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৮ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

*সরকারি নীতিমালা ছাড়াই গড়ে উঠেছে এসব ক্লিনিক ও প্যাথলোজি

এস,এম, আলাউদ্দিন সোহাগ ::
খুলনার পাইকগাছায় সরকারি নীতিমালা ছাড়াই ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে অসংখ্য ক্লিনিক ও প্যাথলোজি। যেখানে নেই নিয়মিত ডাক্তার, দক্ষ নার্স ও উপযুক্ত পরিবেশ। কর্তৃপক্ষের নির্দেশ উপেক্ষা করে বন্ধ ক্লিনিক চালু রাখায় আশালতা ক্লিনিকের মালিক দেবাশীষকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করে ভ্রাম্যামান আদালত।

উপজেলার সদর, কপিলমুনি, বাঁকা সহ কয়েকটি ইউনিয়নে এ সব বেসরকারি ক্লিনিক ও প্যাথলোজি দেখা যায়। প্রতি বছর কোন না কোন ক্লিনিকে ২/১টি রোগী মারা যায়। যা নিয়ে সে সময় সংবাদপত্রে লেখালেখি হলে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে নড়েচড়ে বসলেও ২/১দিন যেতে না যেতেই আবারো পূর্বের অবস্থানে ফিরে যায়। চলতে থাকে ক্লিনিকের কার্যক্রম। প্যাথলোজিগুলোতে ডাক্তার, নার্স ও এক শ্রেণীর দালালরা রোগী আসলেই পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য পাঠিয়ে তাকে এবং সন্ধ্যায় স্ব-স্ব প্যাথলোজি থেকে তারা তাদের প্রাপ্য কমিশন আদায় করে থাকে বলে জানা গেছে। পাইকগাছা উপজেলার ক্লিনিক, প্যাথলোজি ও ডেন্টাল ক্লিনিক সব মিলিয়ে এ ধরণের কার্যক্রম চলছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- আল-আমিন ক্লিনিক, সৈকত ডায়াগনস্টিক সেন্টার, পাইকগাছা ডায়াবেটিক সেন্টার, নিউ মডার্ণ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, কপোতাক্ষ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, নিউ পাইকগাছা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বাঁকা সার্জিক্যাল ক্লিনিক, এম. মনোয়ারা ক্লিনিক, স্বপ্ননীল ক্লিনিক, কপিলমুনি সার্জিক্যাল ক্লিনিক, কপিলমুনি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডিজিটাল ডেন্টাল কেয়ার, জনতা ডেন্টাল ক্লিনিক, কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, নিরালা স্টোল, ডেন্টাল কেয়ার, সাতক্ষীরা নিশান, ডেন্টাল, আশালতা ক্লিনিক, শুভ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, অপন্সরা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মুন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ফারিন হসপিটাল, পলক ক্লিনিক। ক্লিনিকগুলোতে সার্বক্ষণিক কোন ডাক্তার নেই, নেই নার্স। যেকোন ধরণের রোগী আসলেই ভর্তি করাতে এতটুকু কার্পন্ন তাদের মধ্যে। তবে ক্লিনিকগুলোর সামনে অধিকাংশ দেয়ালজুড়ে অসংখ্য ডাক্তারের নাম, ঠিকানার কম নেই। বলতে গেলে, সে সকল ডাক্তারের অবস্থান নেই পাইকগাছাতে। এক প্রকার প্রতারণার মাধ্যমে হাতুড়ি বা কোয়াক ডাক্তাররা বিভিন্ন অপারেশনের ঝুকি নিয়ে থাকে। যার ফলে অনেক রোগীদের মৃত্যু ঘটেছে। এদিকে, আশালতা ক্লিনিক লাইসেন্সবিহিন ও কর্তৃপক্ষের নির্দেশ উপেক্ষা করে কার্যক্রম পরিচালনা করায় উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ আব্দুল আউয়াল বুধবার মালিককে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে। বিভিন্ন ক্লিনিকগুলোতে প্রায় একই অবস্থা বিরাজ করলেও সেদিকে কর্তৃপক্ষের এতটুকু নজর নেই বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দ্রুত এ সকল প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে সাধারণ জনগণ ভোগান্তি থেকে রক্ষা পাবে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা মুকুল কুমার মজুমদার জানান, আমার যোগদানের পর একটি ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। অন্যান্য ক্লিনিক বা প্যাথলোজিগুলোতে অভিযান চালিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
##