‘আসল’ খেলায় জ্বলে উঠুক টাইগাররা


206 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘আসল’ খেলায় জ্বলে উঠুক টাইগাররা
সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৮ খেলা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::
আকাশছোঁয়া অট্টালিকার সারি, ঝকঝকে শপিংমল, এমিরেটসের বৈভব ভরা বিমান মহল- ঐশ্বর্য আর শান-শওকতে বেশ আছে দুবাই। রুক্ষ প্রকৃতিকে প্রতিমুহূর্ত যেন বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলেছে সে, বলে চলেছে, দেখো, মানুষ কী করতে পারে! কিন্তু এতসবের মাঝেও কান পাতলে শোনা যায় চাপা কান্না, অনুভব করা যায় অবজ্ঞা আর বিদ্রূপের ভয়ঙ্কর যন্ত্রণা- এসবেই প্রবাসী

বাংলাদেশিদের একেকটি গল্পে মিশে আছে। আমিরশাহির ৯৫ লাখ ভারতীয়র সঙ্গে পাঁচ লাখ বাংলাদেশির প্রতিদিনের নীরব একটা লড়াই চলে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলে শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার নিয়ে। ‘ভাই পরে কথা বলি, বস যদি শুনতে পায় বাংলায় কথা বলছি, তাহলে নিশ্চিত বকা দেবে!’ দুবাইয়ের স্টেডিয়ামে কাজ করতে থাকা আবদুস সাত্তার নামের এক প্রবাসীর কাছে আতঙ্কের নাম তার ভারতীয় বস। আজ ভীষণভাবে তিনি চাচ্ছেন, ভারতকে যেন হারিয়ে দিতে পারে তার প্রিয় মাতৃভূমির ছেলেরা। টাইগারদের হুঙ্কারে যেন কেঁপে ওঠে মরুর বুক।

প্রবাসীদের এই ভেতরের শূন্যতার কথা জানা আছে মাশরাফিরও। এখানে আসার পর আজকের এই ম্যাচের জন্য মাশরাফিরও কিছু প্রার্থনা আছে। ‘বারো ঘণ্টারও কম সময়ে দুটো ম্যাচ। ভারতের সঙ্গে আমাদের সবার শরীরে যেন পুরো শক্তি থাকে। ফিট থাকতে পারি আমরা।’

ফিটনেস নিয়ে এই শঙ্কার কারণেই কালকের ম্যাচে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে মুশফিকুর রহিম আর মুস্তাফিজকে। অধিনায়কের এই দুই সেনানীকে আজকের ম্যাচে পুরো তাজা রাখা হচ্ছে রোহিতদের মোকাবেলা করার জন্য। মাশরাফি নিজেও গতকাল শর্ট রানআপে বোলিং করেছেন এনার্জি সেভিংয়ের জন্য। টিম হোটেলের টেবিল ওয়ার্কে ঠিক করা হয়েছে কীভাবে আজ ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের দুর্বল জায়গায় আঘাত হানা যায়।

কীভাবে ভুবনেশ্বরের সুইং আর কুলদ্বীপ যাদব ও চাহালের টার্ন মোকাবেলা করা যায়। এমনিতেই গায়ে গায়ে এ ম্যাচটি নিয়ে টাইগারদের মধ্যে একটা ক্ষোভ রয়েছে। মাশরাফি চাইছেন, ওই ক্ষোভকেই দেয়াশলাইয়ের প্যাড বানিয়ে আগুন ধরাতে এবং তার এই মিশনে গ্যালারি আজ পূর্ণ সমর্থন জানাবে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। যদিও ভারতীয়দের আধিপত্য এই শহরে বেশি; কিন্তু বাংলাদেশিদের মধ্যে যে ভালোবাসা আর আবেগ টাইগারদের নিয়ে, তার আবেদন সত্যিই অন্যরকম।

সেদিন এ ম্যাচটি নিয়ে দিল্লি থেকে আসা এক সাংবাদিক মাশরাফিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন- ‘বিরাট কোহলি না থাকায় বাংলাদেশের জন্য সুবিধা হলো কি?’ ওখানেই বাউন্সার মেরে দিয়েছিলেন মাশরাফি। ‘ভারতেরও নিশ্চয়ই সুবিধা হবে আমাদের তামিম না থাকায়…।’

ভারতীয় দলের কিছু ক্রিকেটারকে নিয়ে অবশ্য টিম ম্যানেজমেন্টের আলদা কিছু ভাবনা আছে। রোহিত শর্মা, মহেন্দ্র সিং ধোনি আর অতি অবশ্যই দিনেশ কার্তিক। নিদহাস ট্রফিতে কার্তিকের ইনিংসটির কথা এখনও ভুলে যাননি রুবেল হোসেন। তা ছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে রোহিত শর্মার রেকর্ডও কেন যেন ঈর্ষণীয়, ১০ ম্যাচে রান ৪২৫, আছে দুটো সেঞ্চুরি।

ইদানীং রোহিতের দুর্বলতা ধরা পড়েছে কেবল লেগ স্পিনারের গুগলিতে। যদিও মাশরাফির হাতে এ মুহূর্তে কোনো লেগ স্পিনার নেই। তবে তাকে নিয়ে একটা ছক কষা হয়েছে। যদিও শেষ মুহূর্তে হার্দিক পান্ডিয়ার ছিটকে যাওয়া নিয়ে শাস্ত্রীর চিন্তা বেড়েছে। ভারতীয় সাংবাদিকদের দেওয়া তথ্য মতে, ইদানীং নাকি পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশকেই বেশি ভয় পান রবি শাস্ত্রী।

ভারতীয় কোচ নিশ্চয়ই ভুলে যাননি, ২০১২ এশিয়া কাপে শচীন টেন্ডুলকারের শততম সেঞ্চুরি মাটি করে দিয়েছিল টাইগাররা। গেল কয়েক দেখায় বারবার শেষে এসে পার পেয়ে যাচ্ছেন রোহিতরা, আজ দুবাইয়ের প্রবাসীদের ভালোবাসা অন্তত তা হতে দিতে চাইবে না।