আশাশুনি থেকে ফিরে গেল ২ কোটি ১০ লক্ষ ২৮ হাজার টাকার সোলার সিস্টেম


505 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনি থেকে ফিরে গেল ২ কোটি ১০ লক্ষ ২৮ হাজার টাকার সোলার সিস্টেম
অক্টোবর ৯, ২০১৮ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস,কে হাসান ::

ব্যবস্থাপনার চরম অনিয়ম ও ঠিক সময়ে পিও নির্ধারণ না হওয়ায় আশাশুনি থেকে ২ কোটি ১০ লক্ষ ২৮ হাজার টাকার সোলার সিস্টেম ফেরৎ গেছে। ফলে আশাশুনির মত অনুন্নত উপজেলার মানুষকে সোলার সিস্টেম বিদ্যুৎ এর উপকার বঞ্চিত হতে হয়েছে।

সরকার প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যুৎ পৌছানোর আগে বিদ্যুতের উপকার পাইয়ে দেওয়া এবং অসহায় মানুষকে বিনামূল্যে সোলার সিস্টেমের মাধ্যমে আলো-বাতাসের ব্যবস্থা করার লক্ষ্যে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বিনামূল্যে সোলার সিস্টেম সরবরাহ করে আসছে। আশাশুনির মত অত্যাধিক প্রত্যান্ত ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকার মানুষের মাঝে বিদ্যুতের অভাব দূর করতে গত (২০১৭-১৮) অর্থ বছরে সোলার সিস্টেম স্থাপনের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেয়। জুন’২০১৮ সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার কথা। কিন্তু নির্দিষ্ট ও যথা সময়ে “ইডকল” কাজের জন্য পিও নির্ধারণ না করায় কাজ করা নিয়ে সংশয়ের সৃষ্টি দেখা দেয়। তখন বাধ্য হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশাশুনি ১৬/০৪/১৮ তাং পিও নির্ধারণের জন্য তাগিদ পত্র প্রেরণ করেন। স্মারক নং ৬৭। কিন্তু না তার পরও পিও নির্ধারণে বিলম্ব করা হয়। কাজ শেষ করার মাত্র ১৬ দিন বাকী থাকতে অর্থাৎ ১৪/৬/১৮ তাং আরডিএস নামে একটি এনজিওকে পিও নির্ধারণ করে পত্র আশাশুনিতে পৌছান হয়। যেদিন থেকে ঈদের ছুটি শুরু হয়। পিও হিসাবে মনোনীত আরডিএস আশাশুনিতে অপরিচিত ও ছোট্ট প্রতিষ্ঠান, জনবল মাত্র ৩/৪ জন বলে জানাগেছে। কাগজপত্র ও সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পর তাদেরকে কার্যাদেশ দেওয়া হয় এবং কাজ করার জন্য প্রাথমিক ভাবে ১৮ লক্ষ ২৫ হাজার ১৫৭ টাকার চেক প্রদান করা হয় ২৫/৬/১৮ তাং। তখন কাজ শেষ করার সময় হাতে মাত্র ৫/৬ দিন। এসময়ের মধ্যে তারা কোন রকমে ঐ টাকার কাজ টুকু করতে সক্ষম হন। তখন ৫৮টি প্রকল্পের ৪৭১ টি সোলারের মধ্যে সোলার হোম সিস্টেম ৪৪০টি ও স্টিক লাইট ৩১টির কাজ বাকী ছিল। মন্ত্রণালয়ের তাগাদা এবং কাজের জন্য সময় না থাকায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাধ্য হয়ে ২ কোটি ১০ লক্ষ ২৮ হাজার টাকার অব্যয়িত বা কাজ না হওয়া অর্থের হিসাব প্রদান করেন। ফলে বঞ্চিত হলো আশাশুনি উপজেলার মানুষ। চলতি অর্থ বছরের ৪ মাস শেষ হতে যাচ্ছে। এখনো সোলার সিস্টেমের কোন কাজের পিও নির্ধারণ বা তথ্য আসেনি। এবছরও কি সময় শেষ হওয়ার মুখোমুখি কাজ শুরুর ব্যবস্থা হবে? এমন প্রশ্ন এলাকার মানুষের।

এব্যাপারে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাফ্ফারা তাসনীন ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, নির্ধারিত সময়ে পিও নিয়োগ না হওয়ায়, মন্ত্রণালয়ের তাগাদা এবং কাজের জন্য সময় না থাকায় বাধ্য হয়ে সেটি ফেরৎ পাঠিয়েছি । তিনি আরো বলেন নতুন অর্থ বছরের তিনমাস অতিবাহিত হলেও এখনো আশাশুনিতে কোন পিও নিয়োগ হয়নি ।

এলাকাবাসীর দাবী যথা সময়ে কাজের উদ্যোগ নেওয়া হোক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি বা অব্যবস্থাপনার জন্য গত অর্থ বছরে আশাশুনির মানুষ বঞ্চিত হয়েছে। উক্ত ফেরৎ যাওয়া টাকা পুনরায় এবং সময়মত আশাশুনির জন্য বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হোক। সাথে সাথে কাদের অব্যবস্থাপনায় এবং কি কারণে সরকারের একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের টাকা এভাবে ফিরে গেল তা তদন্ত পূর্বক কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এলাকাবাসী জোর দাবি জানিয়েছে।
##