রায় শুনেছেন খালেদা জিয়া, ধৈর্য ধরার আহ্বান


52 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
রায় শুনেছেন খালেদা জিয়া, ধৈর্য ধরার আহ্বান
অক্টোবর ১১, ২০১৮ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় শুনেছেন কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বহুল আলোচিত এ হামলা মামলার রায় শোনেন তিনি।

খালেদা জিয়া বড় ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের খবর পেয়ে কিছুক্ষণ নিশ্চুপ ছিলেন। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় দলের নেতাকর্মীদের ধৈর্য সহকারে পরিস্থিতি মোকাবেলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বিএনপি ও হাসপাতাল সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তার মামলার রায়ের মতোই ছেলে তারেক রহমান ও দলীয় নেতাদের মামলার রায়ের ঘটনায় দলকে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সেই অনুসারে বড় কোনো কর্মসূচি দেয়নি দলটি। রায় শোনার পরও ‘বিশেষ বার্তা’ বাহক দ্বারা দলীয় নেতাকর্মীদের হতাশ না হয়ে ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

বিএসএমএমইউ সূত্রে জানা গেছে, কারাবন্দি খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য ভিআইপি ৬১২ নম্বরের যে কেবিনে ভর্তি আছেন, টেলিভিশন নেই সেখানে। তাই রায় জানার সুযোগ নেই। তিনি চাইলে জেল কোড অনুযায়ী টেলিভিশন পাবেন। তবে সেখানে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ছাড়া অন্য কোনো চ্যানেল দেখতে পারবেন না।

বিএসএমএমইউ পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, জেল কোড অনুযায়ী তিনি (খালেদা জিয়া) যেসব সুবিধা পাবেন, তার সবক’টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি চাইলে টেলিভিশন দেওয়া হবে। না চাওয়ায় এখন পর্যন্ত টেলিভিশন দেওয়া হয়নি।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা বুধবার বিকেলে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। এর আগে চিকিৎসকরা পৃথকভাবে দেখা করলেও পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল বোর্ড তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে পারেননি। তার আগের পরীক্ষার রিপোর্টগুলো পর্যালোচনা করেছেন তারা।

পরে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়ার ফিজিওথেরাপি গত মঙ্গলবার শুরু হয়েছে। মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা আজ বৃহস্পতিবার তার রক্ত পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। খালেদা জিয়াও এ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন। রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানা যাবে। ধাপে ধাপে তার আরও বেশকিছু শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ও বিএসএমএমইউ’র ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. এম এ জলিল চৌধুরী বলেন, মেডিকেল বোর্ডের সব সদস্য তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। রক্ত পরীক্ষা করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানালে তিনি তাতে সম্মতি দেন। বৃহস্পতিবার তার রক্ত পরীক্ষা করা হবে। ওই পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর তার চিকিৎসার পরবর্তী ধাপ শুরু হবে।

এর আগে গত সোমবার মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা বলেছিলেন, খালেদা জিয়া গেঁটে বাতজনিত সমস্যায় ভুগছেন। তার ডায়াবেটিসসহ বেশকিছু রোগ অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় আছে। এসব রোগ নিয়ন্ত্রণে আনার পর মূল চিকিৎসা শুরু হবে। এ অবস্থায় বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে কতদিন তার চিকিৎসা চলবে, তা নির্দিষ্ট করে এখনই বলতে পারছে না মেডিকেল বোর্ড।

গত ৬ অক্টোবর থেকে খালেদা জিয়া বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন আছেন। ইউনাইটেড বা বিশেষায়িত কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর রিট করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ বিষয়ে শুনানির পর গত ৪ অক্টোবর তাকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার এবং এ জন্য পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড পুনর্গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।